ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আপডেট সময় ১১:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।