ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

বিয়ে থেকে বাঁচতে বনবাস, পাতা খেয়েই খান বানালেন ‌‘সিক্স প্যাক’

আপডেট সময় ১১:২৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে, পরিবারের এই জেদ থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়েছিলেন কর্ণাটকের তরুণ বুদান খান হোসামানি। তবে সেই পালানো যে তাঁকে আধুনিক যুগের টারজান বানিয়ে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। গত ১০ বছর ধরে কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলার হেগগোল্লা পাহাড়ি অঞ্চলে সমাজ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছেন এই ৩৬ বছর বয়সী যুবক। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এক দশকে এক দানা শস্য বা রান্না করা খাবার স্পর্শ করেননি তিনি। বনের বানরদের জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাছের কাঁচা পাতা। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ছয়বার বিভিন্ন ধরনের ভেষজ পাতা খেয়েই তিনি দিব্যি সুস্থ ও সবল রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বুদান এখন ‘মডার্ন ডে টারজান’ নামে পরিচিত। তিনি জানিয়েছেন, বনের বানররা কীভাবে শুধু পাতা খেয়ে সক্রিয় থাকে, তা দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করেই তিনি এই জীবনধারা রপ্ত করেছেন। তার দাবি, পাহাড়ের প্রায় ২০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে কোন পাতাটি সুস্বাদু আর কোনটি পুষ্টিকর, তা এখন তার নখদর্পণে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই দীর্ঘ ১০ বছরে তাকে একবারের জন্যও কোনো অসুখে পড়তে হয়নি বা হাসপাতালের বারান্দা মাড়াতে হয়নি। এমনকি কোনো আধুনিক শরীরচর্চার সরঞ্জাম ছাড়াই শুধুমাত্র প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত যোগব্যায়াম করে তিনি তৈরি করেছেন ঈর্ষণীয় ‘সিক্স প্যাক’ শরীর।

বুদানের পরিবার অবশ্য জানিয়েছে, শুরুতে বিয়ের চাপ থাকলেও এখন তারা ছেলেকে ফিরে পেতে উন্মুখ। কিন্তু বুদান নিজের সিদ্ধান্তে অটল। গ্রাম থেকে তার বাবা-মা এবং দুই ভাই বহুবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তিনি অরণ্যবাস ছাড়তে নারাজ। মাঝেমধ্যে গ্রামে এলে সামান্য চা বা স্যুপ পান করলেও মূল আহার হিসেবে তিনি বনের সবুজ পাতার ওপরেই ভরসা রাখেন। প্রকৃতির কোলেই শান্তি খুঁজে পাওয়া এই তরুণের অস্বাভাবিক অথচ বিস্ময়কর জীবনযাপন এখন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।