ঢাকা ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

কবিরাজকে ১০ টুকরা করে গুম, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা গ্রেফতার

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে কবিরাজ মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজকে (৪০) পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরা করে গুম করার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি মোসা. মাকসুদা আক্তার লাকি ওরফে হাসিনাকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ আট বছর পলাতক থাকার পর শুক্রবার ভোরে সাভারের হেমায়েতপুর বাগবাড়ি এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলীর নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই আশরাফুল ইসলাম, এসআই সাখাওয়াত ইমতিয়াজ ও এসআই মতিউর রহমান ফোর্সসহ অংশ নেন। গ্রেফতারকৃত লাকি সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকার আলী আহমেদের মেয়ে।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ থানাধীন তারানগর ইউনিয়নের বেউতা গণকবরস্থানের পাশের একটি ডোবা থেকে দুই হাত, দুই পা ও মাথাবিহীন একটি মরদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। তৎকালীন এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নেমে পুলিশ মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে জানতে পারে, তিনি সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের কাইসারচর ডুমরাকান্দা এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ কবিরাজ।

এরপর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রবাসী স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকায় সন্তান লাভের আশায় চিকিৎসার জন্য মফিজ কবিরাজের শরণাপন্ন হন হাসিনা। চিকিৎসার সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা প্রেম ও দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়; কিন্তু স্বামী দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলে লাকি সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে মফিজ নানাভাবে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেন এবং কবিরাজি ক্ষমতার কথা বলে স্বামী ও সন্তানের ক্ষতির ভয় দেখান। এতে মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন লাকি। পরে তিনি দেবর সালাউদ্দিন ও সহযোগী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে মফিজকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ‘থার্টি ফার্স্ট’ উদযাপনের কথা বলে মফিজকে বাসায় ডেকে আনা হয়। তাকে চা ও গরুর মাংসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নির্মমভাবে লাশের মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে টুকরা টুকরা করা হয়; মাথা কেরানীগঞ্জের নিমতলী ব্রিজের পাশে এবং দেহের অন্যান্য অংশ বেউতা এলাকার গণকবরস্থানের পাশের ডোবায় ফেলে দেয়, যাতে পরিচয় গোপন থাকে।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাকি, সালাউদ্দিন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আসামিরা। মামলার বিচার শেষে আদালত তিনজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন, সালাউদ্দিন পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান এবং লাকি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘হাসিনা’ পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী হন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে সম্প্রতি দেশে ফিরে পুনরায় বিয়ে করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকা ধরে সাভার মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং পরিকল্পিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ বলছে, পুরোনো ও আলোচিত মামলাগুলোর আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, মফিজুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামি পরিচয় বদলালেও আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কবিরাজকে ১০ টুকরা করে গুম, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা গ্রেফতার

আপডেট সময় ১১:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে কবিরাজ মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজকে (৪০) পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরা করে গুম করার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি মোসা. মাকসুদা আক্তার লাকি ওরফে হাসিনাকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ আট বছর পলাতক থাকার পর শুক্রবার ভোরে সাভারের হেমায়েতপুর বাগবাড়ি এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলীর নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে ওয়ারেন্ট অফিসার এসআই আশরাফুল ইসলাম, এসআই সাখাওয়াত ইমতিয়াজ ও এসআই মতিউর রহমান ফোর্সসহ অংশ নেন। গ্রেফতারকৃত লাকি সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের হেমায়েতপুর যাদুরচর এলাকার আলী আহমেদের মেয়ে।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ থানাধীন তারানগর ইউনিয়নের বেউতা গণকবরস্থানের পাশের একটি ডোবা থেকে দুই হাত, দুই পা ও মাথাবিহীন একটি মরদেহ উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। তৎকালীন এসআই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নেমে পুলিশ মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করে জানতে পারে, তিনি সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের কাইসারচর ডুমরাকান্দা এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ কবিরাজ।

এরপর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রবাসী স্বামী মালয়েশিয়ায় থাকায় সন্তান লাভের আশায় চিকিৎসার জন্য মফিজ কবিরাজের শরণাপন্ন হন হাসিনা। চিকিৎসার সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা প্রেম ও দৈহিক সম্পর্কে রূপ নেয়; কিন্তু স্বামী দেশে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলে লাকি সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইলে মফিজ নানাভাবে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেন এবং কবিরাজি ক্ষমতার কথা বলে স্বামী ও সন্তানের ক্ষতির ভয় দেখান। এতে মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন লাকি। পরে তিনি দেবর সালাউদ্দিন ও সহযোগী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে মফিজকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ‘থার্টি ফার্স্ট’ উদযাপনের কথা বলে মফিজকে বাসায় ডেকে আনা হয়। তাকে চা ও গরুর মাংসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর নির্মমভাবে লাশের মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে টুকরা টুকরা করা হয়; মাথা কেরানীগঞ্জের নিমতলী ব্রিজের পাশে এবং দেহের অন্যান্য অংশ বেউতা এলাকার গণকবরস্থানের পাশের ডোবায় ফেলে দেয়, যাতে পরিচয় গোপন থাকে।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাকি, সালাউদ্দিন ও নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় আসামিরা। মামলার বিচার শেষে আদালত তিনজনকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম মারা গেছেন, সালাউদ্দিন পাসপোর্টে নাম পরিবর্তন করে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান এবং লাকি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘হাসিনা’ পরিচয়ে ইতালি প্রবাসী হন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভেবে সম্প্রতি দেশে ফিরে পুনরায় বিয়ে করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকা ধরে সাভার মডেল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং পরিকল্পিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ বলছে, পুরোনো ও আলোচিত মামলাগুলোর আসামিদেরও আইনের আওতায় আনতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, মফিজুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামি পরিচয় বদলালেও আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই।