ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আপডেট সময় ১১:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ