ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ দাবানলে ঝুঁকিতে ফ্রান্সের মিসাইল-রকেট মোটর কারখানা, স্পেনও সংকটে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ শুরু আগামী মাসে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়নের গতি বাড়বে: পরিবেশমন্ত্রী শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

স্বর্ণের চেয়েও দামি যে কাঠ

আপডেট সময় ১১:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

পৃথিবীতে অনেক বিরল প্রজাতির গাছপালা পাওয়া যায়। এর মধ্যে কিছু কাঠ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সাধারণত, চন্দন কাঠকে সবচেয়ে দামি কাঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার দাম প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। কিন্তু আপনি জানেন কি এমন একটি কাঠ আছে যা চন্দনের চেয়েও বহুগুণ বেশি দামি? এই কাঠ এতটাই দামি যে ধনী ব্যক্তিরাও এটি কেনার আগে দুবার ভাবেন। এই গাছটির নাম আগরউড।

আগারউড, যা ওউড নামেও পরিচিত, বিশ্বের সবচেয়ে দামি কাঠগুলির মধ্যে একটি। আগরউড হল একটি বিশেষ ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা অ্যাকুইলারিয়া গাছের প্রজাতি থেকে পাওয়া যায়। এটি ঐতিহ্যবাহী ঔষধ, সুগন্ধি দ্রব্য এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই গাছ সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, আরব, জাপান ও ভারতের কিছু জঙ্গলে পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ভারতের আসামে এই গাছ পাওয়া যায়। আসামকে ‘ভারতের আগরউড রাজধানী বলা হয়।

আগরউড সাধারণত তুলনামূলক কম দামেও পাওয়া যায়। তবে তার মধ্যেও বিশেষ কিছু প্রজাতি রয়েছে, যা অত্যন্ত মূল্যবান। এই কাঠের নাম ‘কিনাম’ যা আগরউড গাছের এক বিরল প্রজাতি।

আগরউড থেকে সুগন্ধি তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। প্রথমে অ্যাকুইলারিয়া নামক সবুজ আগরউড গাছের গায়ে গরম ধাতব রড বা ড্রিলের সাহায্যে ছিদ্র করা হয়। এরপর ওই ছিদ্রের মধ্যে বিশেষ ধরনের ফাঙ্গাস (ছত্রাক) প্রবেশ করানো হয়। এই ফাঙ্গাস গাছের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে, আর গাছ সেটিকে বিপদ হিসেবে ধরে নিয়ে গাঢ় কালো রেজিন উৎপন্ন করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই রেজিন গাছের কাঠকে আগরউডে পরিণত করে। এরপর কাঠ সংগ্রহ করে তা থেকে ওউড তেল নিষ্কাশন করা হয়। এই তেলই বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সুগন্ধি তৈরির উপাদান। এই তেল প্রতি কেজি ২৫ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।

আরব দেশগুলিতে আগরউড পোড়ানো হয় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। সুগন্ধি শিল্পে এই কাঠের রজন থেকে উচ্চমানের পারফিউম তৈরি করা হয়। কোরিয়ায় এই কাঠ থেকে ওষধি ওয়াইন তৈরি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে পোশাক ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বে প্রচুর আগরউড পাওয়া গেলেও ‘কিনাম’ সবচেয়ে বিরল। এটি এতটাই দুর্লভ যে, টাইটানিয়াম, ইউরেনিয়াম এবং প্লাটিনামের চেয়েও কম পাওয়া যায়! এটি আগরউড পরিবারের সবচেয়ে উন্নতমানের সুগন্ধি কাঠ হিসেবে পরিচিত। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিনাম কাঠের প্রতি গ্রামের দাম ১০ হাজার ডলার । টাকার হিসেবে ১২ কোটি টাকার উপরে। অন্যদিকে ১ গ্রাম স্বর্ণের দাম ১০থেকে ১৫ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে, চীনের সাংহাইতে ২ কেজি কিনাম কাঠ প্রায় ২১ কোটি টাকাতে বিক্রি হয়। সূত্র : ডিএনএ