ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের এমপির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মোংলায় মানববন্ধন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন শিক্ষা ও কারিগরি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও করিডোর নিয়ে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা মোদির ক্ষমা প্রার্থনা ও অমিত শাহের পদত্যাগসহ ৫ দাবি রাহুল গান্ধীর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়াতে সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় প্রস্তুত, তবে ইরান আন্তরিক নয়: রুবিও জামায়াত এমপির ঘটনার তদন্ত চান তাসনিম জারা

এক প্রজন্মকে ধূমপান থেকে চিরতরে দূরে রাখার নতুন কৌশল

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

ব্রিটেনে নতুন এক তামাক আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে ধূমপানমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে কখনও বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবে না।

সরকার একেবারে একদিনে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না। প্রতি বছর ধূমপানের বৈধ বয়স বাড়িয়ে ধীরে ধীরে সিগারেট বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগসহ ধূমপানজনিত অসুস্থতা কমানো।

বিবিসি জানিয়েছে, টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই অনুমোদন পেয়েছে। এখন রাজকীয় সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্কার হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। এটার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানো এবং এনএইচএসের ওপর চাপ হ্রাস করা।

এই আইনের আওতায় ভেপিং ও নিকোটিন পণ্যের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে এসব পণ্যের স্বাদ, প্যাকেজিং ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

নতুন বিধানে শিশুদের উপস্থিতিতে গাড়িতে, খেলার মাঠে, স্কুলের আশপাশে এবং হাসপাতাল এলাকায় ভেপিং নিষিদ্ধ করা হবে। তবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তার জন্য হাসপাতালের বাইরে ভেপিং অনুমোদিত থাকবে। সব জায়গায় এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। ব্যক্তিগত বাসা, পাবের বাগান, সমুদ্রসৈকতসহ অনেক খোলা জায়গায় ধূমপান বা ভেপিং চালু থাকবে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ভালো— এই সংস্কার মানুষের জীবন বাঁচাবে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যারোনেস মেরনও এটিকে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি সরাসরি জীবন রক্ষা করবে।

তবে এই আইনে তামাক শিল্পের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কনজারভেটিভ দলের সাবেক এমপি লর্ড নাসেবি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, মানুষকে ধূমপান থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। তিনি বলেন, এই বিল তামাক শিল্প ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি বড় অংশকে অসন্তুষ্ট করবে। এ সময় ব্যারোনেস মেরন লর্ড নাসেবির বক্তব্যের জবাবে বলেন, সরকার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে অ্যাজমা অ্যান্ড লাং ইউকের সারাহ স্লিট এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি দেশের জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং তামাক শিল্পকে আরও জবাবদিহির মধ্যে আনবে। তিনি সরকারকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তামূলক সেবার বিস্তৃত ব্যবস্থার আহ্বানও জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এক প্রজন্মকে ধূমপান থেকে চিরতরে দূরে রাখার নতুন কৌশল

আপডেট সময় ১০:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

ব্রিটেনে নতুন এক তামাক আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধীরে ধীরে ধূমপানমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া কেউ জীবনে কখনও বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবে না।

সরকার একেবারে একদিনে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না। প্রতি বছর ধূমপানের বৈধ বয়স বাড়িয়ে ধীরে ধীরে সিগারেট বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে ক্যানসার, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগসহ ধূমপানজনিত অসুস্থতা কমানো।

বিবিসি জানিয়েছে, টোব্যাকো অ্যান্ড ভেপস বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই অনুমোদন পেয়েছে। এখন রাজকীয় সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংস্কার হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। এটার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানো এবং এনএইচএসের ওপর চাপ হ্রাস করা।

এই আইনের আওতায় ভেপিং ও নিকোটিন পণ্যের ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে এসব পণ্যের স্বাদ, প্যাকেজিং ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হচ্ছে।

নতুন বিধানে শিশুদের উপস্থিতিতে গাড়িতে, খেলার মাঠে, স্কুলের আশপাশে এবং হাসপাতাল এলাকায় ভেপিং নিষিদ্ধ করা হবে। তবে ধূমপান ছাড়তে সহায়তার জন্য হাসপাতালের বাইরে ভেপিং অনুমোদিত থাকবে। সব জায়গায় এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। ব্যক্তিগত বাসা, পাবের বাগান, সমুদ্রসৈকতসহ অনেক খোলা জায়গায় ধূমপান বা ভেপিং চালু থাকবে।

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ভালো— এই সংস্কার মানুষের জীবন বাঁচাবে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ কমাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যারোনেস মেরনও এটিকে এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি সরাসরি জীবন রক্ষা করবে।

তবে এই আইনে তামাক শিল্পের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কনজারভেটিভ দলের সাবেক এমপি লর্ড নাসেবি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, মানুষকে ধূমপান থেকে বিরত রাখতে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। তিনি বলেন, এই বিল তামাক শিল্প ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি বড় অংশকে অসন্তুষ্ট করবে। এ সময় ব্যারোনেস মেরন লর্ড নাসেবির বক্তব্যের জবাবে বলেন, সরকার খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে অ্যাজমা অ্যান্ড লাং ইউকের সারাহ স্লিট এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি দেশের জনস্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং তামাক শিল্পকে আরও জবাবদিহির মধ্যে আনবে। তিনি সরকারকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তামূলক সেবার বিস্তৃত ব্যবস্থার আহ্বানও জানান।