ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে বল্লেন ডেনিস প্রধানমন্ত্রী

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এবার ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের দিকে। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে বলেছেন।

মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, এমন কথা বলার কোনো অর্থ হয় না।

তিনি বলেন, ড্যানিশ কিংডমের অন্তর্ভুক্ত তিনটি ভূখণ্ডের কোনোটিকেই দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী স্টেফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করার পরই ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ওই মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রং ব্যবহার করা হয় এবং তাতে লেখা ছিল, ‘শিগগিরই’।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও বারবার দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তিনি সেই অবস্থান আরও কঠোরভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

ড্যানিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য। সেই সূত্রে গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় পড়ে।

ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায় উল্লেখ করে মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক সেখানে বিনিয়োগও বাড়িয়েছে। সে কারণেই আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা ঐতিহাসিকভাবে একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র, একটি দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে; তাও আবার এমন দেশ, যার জনগণ খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দরকার এবং ডেনমার্ক এটি আটকাতে পারবে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত কেটি মিলারের সামাজিক মাধ্যমে ওই পোস্টের জবাব দেন। কেটি মিলার একজন ডানপন্থি পডকাস্টার এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সহকারী ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশ মিত্র এবং ডেনমার্ক তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে।

এসব বাকবিতণ্ডার মাঝেই শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে দেশটির জন্য আয় করা শুরু করবে।

আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে কখনোই নাকচ করেননি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা হবে । কারণ দ্বীপটির অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সেখানে রয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ডেনমার্কে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে সেখানে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেখানকার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে।

অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে বল্লেন ডেনিস প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এবার ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের দিকে। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে বলেছেন।

মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, এমন কথা বলার কোনো অর্থ হয় না।

তিনি বলেন, ড্যানিশ কিংডমের অন্তর্ভুক্ত তিনটি ভূখণ্ডের কোনোটিকেই দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী স্টেফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করার পরই ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ওই মানচিত্রটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রং ব্যবহার করা হয় এবং তাতে লেখা ছিল, ‘শিগগিরই’।

গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেও বারবার দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তিনি সেই অবস্থান আরও কঠোরভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।

ড্যানিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য। সেই সূত্রে গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় পড়ে।

ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায় উল্লেখ করে মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক সেখানে বিনিয়োগও বাড়িয়েছে। সে কারণেই আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি যাতে তারা ঐতিহাসিকভাবে একটি ঘনিষ্ঠ মিত্র, একটি দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করে; তাও আবার এমন দেশ, যার জনগণ খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দরকার এবং ডেনমার্ক এটি আটকাতে পারবে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত কেটি মিলারের সামাজিক মাধ্যমে ওই পোস্টের জবাব দেন। কেটি মিলার একজন ডানপন্থি পডকাস্টার এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সহকারী ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশ মিত্র এবং ডেনমার্ক তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে।

এসব বাকবিতণ্ডার মাঝেই শনিবার (৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে দেশটির জন্য আয় করা শুরু করবে।

আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে কখনোই নাকচ করেননি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা হবে । কারণ দ্বীপটির অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সেখানে রয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ডেনমার্কে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ডেনমার্কের অধিভুক্ত গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে সেখানে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেখানকার প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে।

অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।