ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বাস্তবায়ন নিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং এর লঙ্ঘন মোকাবিলার ক্ষেত্রে সমস্ত দায়-দায়িত্ব লেবানন সরকারের বলে জোর দিয়েছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাসেম।

বুধবার তেহরানে একটি সম্মেলনে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, লেবানন সরকার যেহেতু চুক্তিটি আলোচনার মাধ্যমে করেছে, তাই চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধ করার দায়ভারও তাদের ওপর বর্তায়।

নাইম কাসেম এ সময় ইসরাইলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ের বিবরণ দেন।

প্রথম পর্যায়: অবরুদ্ধ গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেওয়া।

দ্বিতীয় পর্যায়: ইসরাইলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ।

তৃতীয় পর্যায়: ২৭ নভেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়।

তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইলকে তার আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং দখলকৃত লেবাননের অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে। হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লিতানি নদীর দক্ষিণ থেকে তাদের যোদ্ধা এবং অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নাইম কাসেম এ সময় বলেন, ‘লেবানন সরকারই যেহেতু এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাই এটি বাস্তবায়নে সরকারকেই সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে হবে’।

সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং চুক্তি পর্যবেক্ষণ কমিটি রাজনৈতিক উপায়ে এটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

ইসরাইলের চুক্তি লঙ্ঘন:

হিজবুল্লাহ মহাসচিব এ সময় দাবি করে বলেন, ইসরাইল শত শত বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- বিমান ও স্থল হামলা, বাড়িঘর ধ্বংস এবং সীমান্ত অঞ্চলে প্রবেশ।

যদিও হিজবুল্লাহ এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চুপ থেকেছে উল্লেখ করে নাইম কাসেম বলেন, ‘আমরা চুক্তিটির মাধ্যমে ইসরাইলকে একটি সুযোগ দিচ্ছি এবং এর দায়িত্ব লেবানন সরকারের ওপর ন্যস্ত করছি’।

চুক্তির শর্তাবলী:

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দখলদার ইসরাইলি সেনা ব্লু লাইন (একটি ডি-ফ্যাক্টো সীমান্ত)-এর দক্ষিণ থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নিজস্ব সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে লেবানন সরকারের।

মানবিক পরিস্থিতি:

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০৬৩ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে নারী, শিশু এবং স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে।এছাড়া আহতের সংখ্যা ১৬,৬৬৩ জন।

হিজবুল্লাহ প্রধানের হুঁশিয়ারি:

নাইম কাসেম তার বার্তার শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও শক্তিশালী হবে’।

সেই সঙ্গে লেবানন সরকার এই সুযোগ ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বাস্তবায়ন নিয়ে হিজবুল্লাহ প্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০৭:১৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী ২০২৫

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন এবং এর লঙ্ঘন মোকাবিলার ক্ষেত্রে সমস্ত দায়-দায়িত্ব লেবানন সরকারের বলে জোর দিয়েছেন হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাইম কাসেম।

বুধবার তেহরানে একটি সম্মেলনে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, লেবানন সরকার যেহেতু চুক্তিটি আলোচনার মাধ্যমে করেছে, তাই চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধ করার দায়ভারও তাদের ওপর বর্তায়।

নাইম কাসেম এ সময় ইসরাইলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায়ের বিবরণ দেন।

প্রথম পর্যায়: অবরুদ্ধ গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেওয়া।

দ্বিতীয় পর্যায়: ইসরাইলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ।

তৃতীয় পর্যায়: ২৭ নভেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়।

তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইলকে তার আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং দখলকৃত লেবাননের অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে। হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লিতানি নদীর দক্ষিণ থেকে তাদের যোদ্ধা এবং অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নাইম কাসেম এ সময় বলেন, ‘লেবানন সরকারই যেহেতু এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাই এটি বাস্তবায়নে সরকারকেই সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে হবে’।

সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং চুক্তি পর্যবেক্ষণ কমিটি রাজনৈতিক উপায়ে এটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

ইসরাইলের চুক্তি লঙ্ঘন:

হিজবুল্লাহ মহাসচিব এ সময় দাবি করে বলেন, ইসরাইল শত শত বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে- বিমান ও স্থল হামলা, বাড়িঘর ধ্বংস এবং সীমান্ত অঞ্চলে প্রবেশ।

যদিও হিজবুল্লাহ এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চুপ থেকেছে উল্লেখ করে নাইম কাসেম বলেন, ‘আমরা চুক্তিটির মাধ্যমে ইসরাইলকে একটি সুযোগ দিচ্ছি এবং এর দায়িত্ব লেবানন সরকারের ওপর ন্যস্ত করছি’।

চুক্তির শর্তাবলী:

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দখলদার ইসরাইলি সেনা ব্লু লাইন (একটি ডি-ফ্যাক্টো সীমান্ত)-এর দক্ষিণ থেকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে নিজস্ব সেনা মোতায়েনের কথা রয়েছে লেবানন সরকারের।

মানবিক পরিস্থিতি:

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০৬৩ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে নারী, শিশু এবং স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে।এছাড়া আহতের সংখ্যা ১৬,৬৬৩ জন।

হিজবুল্লাহ প্রধানের হুঁশিয়ারি:

নাইম কাসেম তার বার্তার শেষে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও শক্তিশালী হবে’।

সেই সঙ্গে লেবানন সরকার এই সুযোগ ব্যবহার করে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।