ঢাকা ০১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভাঙ্গায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩৫ ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদা দাবি: মূলহোতা মঈনসহ গ্রেফতার ৭ চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিল পরিশোধ না করায় হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না প্রসূতি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় টাকার জন্য হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না রিমা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতি।
উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়।

ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও ক্লিনিকের শয্যা ভাড়া হিসাবে ১৪ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ক্লিনিকে ভর্তির পর ধারদেনা করে ৫ হাজার টাকা জমা দেয় রিমার পরিবার। বকেয়া ৯ হাজার টাকা শোধ করতে না পারায় হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না মা ও নবজাতক।

রিমা আক্তার নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সজীব মিয়ার স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজীব মিয়া ঢাকার একটি জুতার কারাখানায় কাজ করতেন। রিমা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাবার বাড়ি মঠবাড়িয়ায় চলে যান। এক মাস আগে সজীব চাকরি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। গত শনিবার বিকেলে রিমার প্রসাব ব্যথা শুরু হলে মঠবাড়িয়া শহরের ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসক জানান, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে ১৪ হাজার টাকা লাগবে বলে রিমার পরিবারকে জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক। রিমার মা তাসলিমা বেগম পরিচিত এক নারীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে হাসপাতালে জমা দেন। ওই রাতে অস্ত্রোপচারে রিমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। এখন বকেয়া টাকা শোধ করতে না পারায় নবজাতক ও মা হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না।

রিমার মা বলেন, মেয়ের জামাই মোবাইল ফোন বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে এক মাস ধরে চলছে। আমাদের ধারণা ছিল, রিমার স্বাভাবিকভাবে সন্তান হবে। অস্ত্রোপচার করতে হবে এমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না। যখন হাসপাতালে গিয়ে শুনি ১৪ হাজার টাকা লাগবে, তখন এক পরিচিত নারীর কাছে টাকা চাই। তিনি ৫ হাজার টাকা দেন। পরে তিনি আরও কিছু টাকা দিয়ে আমাদের সহায়তা করেন। এরপর ওই নারী জানান, আমার নাতনিকে তাঁর এক আত্মীয় দত্তক নিতে চান। নিরুপায় হয়ে আমরা প্রথমে রাজি হই। পরে আমার মেয়ে রাজি হয়নি। নাতনিকে আর দত্তক হিসেবে দেইনি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আবুল বাশার বলেন, ‘রিমার স্বজনেরা ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন ভর্তির সময়। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় আমরা ৯ হাজার টাকা বকেয়া রেখে অস্ত্রোপচার করি। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তারা টাকা জোগাড় করতে পারেনি। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় আমরা কিছু টাকা কম নেওয়ার চেষ্টা করব। ’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ভাঙ্গায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩৫

বিল পরিশোধ না করায় হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না প্রসূতি

আপডেট সময় ০১:১৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় টাকার জন্য হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না রিমা আক্তার (২০) নামে এক প্রসূতি।
উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই প্রসূতির অস্ত্রোপচার হয়।

ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও ক্লিনিকের শয্যা ভাড়া হিসাবে ১৪ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। ক্লিনিকে ভর্তির পর ধারদেনা করে ৫ হাজার টাকা জমা দেয় রিমার পরিবার। বকেয়া ৯ হাজার টাকা শোধ করতে না পারায় হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না মা ও নবজাতক।

রিমা আক্তার নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার সজীব মিয়ার স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সজীব মিয়া ঢাকার একটি জুতার কারাখানায় কাজ করতেন। রিমা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাবার বাড়ি মঠবাড়িয়ায় চলে যান। এক মাস আগে সজীব চাকরি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। গত শনিবার বিকেলে রিমার প্রসাব ব্যথা শুরু হলে মঠবাড়িয়া শহরের ইসলামিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসক জানান, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে ১৪ হাজার টাকা লাগবে বলে রিমার পরিবারকে জানান হাসপাতালের ব্যবস্থাপক। রিমার মা তাসলিমা বেগম পরিচিত এক নারীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে হাসপাতালে জমা দেন। ওই রাতে অস্ত্রোপচারে রিমার একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। এখন বকেয়া টাকা শোধ করতে না পারায় নবজাতক ও মা হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না।

রিমার মা বলেন, মেয়ের জামাই মোবাইল ফোন বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে এক মাস ধরে চলছে। আমাদের ধারণা ছিল, রিমার স্বাভাবিকভাবে সন্তান হবে। অস্ত্রোপচার করতে হবে এমন কোনো প্রস্তুতি ছিল না। যখন হাসপাতালে গিয়ে শুনি ১৪ হাজার টাকা লাগবে, তখন এক পরিচিত নারীর কাছে টাকা চাই। তিনি ৫ হাজার টাকা দেন। পরে তিনি আরও কিছু টাকা দিয়ে আমাদের সহায়তা করেন। এরপর ওই নারী জানান, আমার নাতনিকে তাঁর এক আত্মীয় দত্তক নিতে চান। নিরুপায় হয়ে আমরা প্রথমে রাজি হই। পরে আমার মেয়ে রাজি হয়নি। নাতনিকে আর দত্তক হিসেবে দেইনি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আবুল বাশার বলেন, ‘রিমার স্বজনেরা ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন ভর্তির সময়। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় আমরা ৯ হাজার টাকা বকেয়া রেখে অস্ত্রোপচার করি। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তারা টাকা জোগাড় করতে পারেনি। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় আমরা কিছু টাকা কম নেওয়ার চেষ্টা করব। ’