ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বেহেশতকে নিজের দুনিয়া বানাও

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

পবিত্র কুরআনে সূরা আল কিয়ামায় বলা হয়েছে- ‘আপনি দ্রুত যা লাভ হয় তা পছন্দ করেন এবং পরকালকে উপেক্ষা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে যেটা অর্জন করা যায় তার প্রতি আপনি আগ্রহ বোধ করেন আর পরকালে যা পাবেন তার কথা ভুলে গেছেন।’ (আয়াত ২০-২১)

আমি যদি এই আয়াতের ব্যাখ্যা করি তাহলে এমন হবে—আপনি এই পৃথিবীতে নিজের জন্য বেহেশত বানাতে চান, যেটা সম্ভব নয়, আর যেখানে বেহেশত আপনি পেতে পারেন সেই পরকালকে আপনি ভুলে গেছেন। আপনি এই পৃথিবীতে বেহেশত গড়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন যদিও আপনি এখানে বেহেশত পাবেন না। পরকালে আপনার জন্য যে বেহেশত অপেক্ষা করছে তার জন্য আপনি কিছুই করছেন না।

দুনিয়ার সব মানুষের এই একই কিসসা। তো, এই কথাকে উপলব্ধি করা জরুরি যে আমি জন্মগতভাবে একজন বেহেশতের সন্ধানী, একজন আদর্শবাদী এবং একজন পারফেকশনিস্ট। কিন্তু এই পৃথিবীতে আমি বেহেশত পাব না, তা পরলোকে পাওয়া যাবে।

সমগ্র মানব ইতিহাসে আমরা এই একই দৃশ্য দেখতে পাই। ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কারক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাবিদদের লক্ষ্য কী ছিল? তারা চেয়েছিল আদর্শ সরকার, আদর্শ সমাজ ও আদর্শ ব্যবস্থা।

প্লেটো-অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী, ইতিহাস জুড়ে সকল চিন্তাবিদদের এটাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল। তাদের মনের মধ্যে যে বেহেশতের রূপরেখা তা ছিল এমন—দুনিয়ায় একটা সুন্দর আবাসস্থল নির্মাণ করা। আর সংস্কারক ও নেতারা চায় একটি আদর্শ সমাজ। কিন্তু কেউই তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ব্যর্থতা ও হতাশার মধ্যে সবাই মারা গেছেন। কিন্তু কেন?

তার কারণ এই পৃথিবীতে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মানুষ উপলব্ধি করতে পারেনি যে, সে চিন্তাভাবনায় আদর্শবাদী হলেও এই পৃথিবীতে আদর্শ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব নয়। মানুষ এই সত্য বুঝতে পারেনি।

মানুষ প্রকৃত কামিয়াবি সেদিনই অর্জন করতে পারবে, যেদিন বেহেশতকে নিজের দেশ বা নিজের দুনিয়া বানিয়ে নিবে। তখন আপনাআপনিই দুনিয়া তার জন্য সুখময় হয়ে যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বেহেশতকে নিজের দুনিয়া বানাও

আপডেট সময় ১১:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

পবিত্র কুরআনে সূরা আল কিয়ামায় বলা হয়েছে- ‘আপনি দ্রুত যা লাভ হয় তা পছন্দ করেন এবং পরকালকে উপেক্ষা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে যেটা অর্জন করা যায় তার প্রতি আপনি আগ্রহ বোধ করেন আর পরকালে যা পাবেন তার কথা ভুলে গেছেন।’ (আয়াত ২০-২১)

আমি যদি এই আয়াতের ব্যাখ্যা করি তাহলে এমন হবে—আপনি এই পৃথিবীতে নিজের জন্য বেহেশত বানাতে চান, যেটা সম্ভব নয়, আর যেখানে বেহেশত আপনি পেতে পারেন সেই পরকালকে আপনি ভুলে গেছেন। আপনি এই পৃথিবীতে বেহেশত গড়ার জন্য অনেক চেষ্টা করছেন যদিও আপনি এখানে বেহেশত পাবেন না। পরকালে আপনার জন্য যে বেহেশত অপেক্ষা করছে তার জন্য আপনি কিছুই করছেন না।

দুনিয়ার সব মানুষের এই একই কিসসা। তো, এই কথাকে উপলব্ধি করা জরুরি যে আমি জন্মগতভাবে একজন বেহেশতের সন্ধানী, একজন আদর্শবাদী এবং একজন পারফেকশনিস্ট। কিন্তু এই পৃথিবীতে আমি বেহেশত পাব না, তা পরলোকে পাওয়া যাবে।

সমগ্র মানব ইতিহাসে আমরা এই একই দৃশ্য দেখতে পাই। ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কারক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাবিদদের লক্ষ্য কী ছিল? তারা চেয়েছিল আদর্শ সরকার, আদর্শ সমাজ ও আদর্শ ব্যবস্থা।

প্লেটো-অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী, ইতিহাস জুড়ে সকল চিন্তাবিদদের এটাই একমাত্র লক্ষ্য ছিল। তাদের মনের মধ্যে যে বেহেশতের রূপরেখা তা ছিল এমন—দুনিয়ায় একটা সুন্দর আবাসস্থল নির্মাণ করা। আর সংস্কারক ও নেতারা চায় একটি আদর্শ সমাজ। কিন্তু কেউই তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। ব্যর্থতা ও হতাশার মধ্যে সবাই মারা গেছেন। কিন্তু কেন?

তার কারণ এই পৃথিবীতে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। মানুষ উপলব্ধি করতে পারেনি যে, সে চিন্তাভাবনায় আদর্শবাদী হলেও এই পৃথিবীতে আদর্শ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব নয়। মানুষ এই সত্য বুঝতে পারেনি।

মানুষ প্রকৃত কামিয়াবি সেদিনই অর্জন করতে পারবে, যেদিন বেহেশতকে নিজের দেশ বা নিজের দুনিয়া বানিয়ে নিবে। তখন আপনাআপনিই দুনিয়া তার জন্য সুখময় হয়ে যাবে।