ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বউ সাজিয়ে তিন বছর ধরে কলেজছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ের আশ্বাসে এক কলেজছাত্রীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এসডিএস মোড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী ওরফে জাকু খানের ছেলে শাহিন খানের সঙ্গে জাকু খানের ছোট ভায়রা খোরশেদ আলমের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

শাহীন খানের পরিবার মেয়েটিকে তাদের ছেলের বউ হিসেবে মেনেও নেয়। ওই সময় মেয়েটির বিয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় তাদের বিয়েটি রেজিস্ট্রি (কাবিন) করা হয়নি বলে জানান তারা। এরপর থেকেই শাহীন খান ও মেয়েটির মধ্যে প্রথমে প্রেম ও পরে স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তারা স্বামী–স্ত্রী হিসেবেই মেলামেশা করেছেন।

স্বামী–স্ত্রী সম্পর্ক নিয়ে শাহীনের অনেক স্বজনের বাড়িতেও গেছেন তারা। শাহীন খানের বাবা লিয়াকত হোসেন খান ওরফে জাকু খান তাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান অভিযোগকারী মেয়েটি।

গত মাসে বিয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় শাহিন ও মেয়েটি বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনাকালে উভয় পরিবারের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে শাহীন ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গ্রাম্য সালিশে তাদের পূর্বের সব সম্পর্কই অস্বীকার করে শাহীনের পরিবার। এ নিয়ে ওই বৈঠকে তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও জানান মেয়েটি। এর ফলে তারা ওই সালিশি বৈঠক ত্যাগ করেন।

অভিমানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবিতে সে তার হবু বর শাহিন খানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। অনশন অবস্থায় বুধবার রাতে তাকে শাহিনের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিতে ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শাহীন খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখীপুর পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) ও উপজেলা কাজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম বাদল সালিশি বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বসা হলেও দুই পক্ষ বিপরীত অবস্থানে থাকায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিনসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন।

শাহীন খানের বাবা লিয়াকত আলী খান ওরফে জাকু খান জানান, আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। ওই মেয়েটি শাহীনের বউ দাবি করে আমার বাড়ি ওঠে বসেছিল। তাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বউ সাজিয়ে তিন বছর ধরে কলেজছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ

আপডেট সময় ০২:০১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ের আশ্বাসে এক কলেজছাত্রীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এসডিএস মোড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী ওরফে জাকু খানের ছেলে শাহিন খানের সঙ্গে জাকু খানের ছোট ভায়রা খোরশেদ আলমের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

শাহীন খানের পরিবার মেয়েটিকে তাদের ছেলের বউ হিসেবে মেনেও নেয়। ওই সময় মেয়েটির বিয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় তাদের বিয়েটি রেজিস্ট্রি (কাবিন) করা হয়নি বলে জানান তারা। এরপর থেকেই শাহীন খান ও মেয়েটির মধ্যে প্রথমে প্রেম ও পরে স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তারা স্বামী–স্ত্রী হিসেবেই মেলামেশা করেছেন।

স্বামী–স্ত্রী সম্পর্ক নিয়ে শাহীনের অনেক স্বজনের বাড়িতেও গেছেন তারা। শাহীন খানের বাবা লিয়াকত হোসেন খান ওরফে জাকু খান তাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান অভিযোগকারী মেয়েটি।

গত মাসে বিয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় শাহিন ও মেয়েটি বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনাকালে উভয় পরিবারের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে শাহীন ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গ্রাম্য সালিশে তাদের পূর্বের সব সম্পর্কই অস্বীকার করে শাহীনের পরিবার। এ নিয়ে ওই বৈঠকে তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও জানান মেয়েটি। এর ফলে তারা ওই সালিশি বৈঠক ত্যাগ করেন।

অভিমানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবিতে সে তার হবু বর শাহিন খানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। অনশন অবস্থায় বুধবার রাতে তাকে শাহিনের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিতে ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শাহীন খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখীপুর পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) ও উপজেলা কাজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম বাদল সালিশি বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বসা হলেও দুই পক্ষ বিপরীত অবস্থানে থাকায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিনসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন।

শাহীন খানের বাবা লিয়াকত আলী খান ওরফে জাকু খান জানান, আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। ওই মেয়েটি শাহীনের বউ দাবি করে আমার বাড়ি ওঠে বসেছিল। তাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।