ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বউ সাজিয়ে তিন বছর ধরে কলেজছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ের আশ্বাসে এক কলেজছাত্রীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এসডিএস মোড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী ওরফে জাকু খানের ছেলে শাহিন খানের সঙ্গে জাকু খানের ছোট ভায়রা খোরশেদ আলমের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

শাহীন খানের পরিবার মেয়েটিকে তাদের ছেলের বউ হিসেবে মেনেও নেয়। ওই সময় মেয়েটির বিয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় তাদের বিয়েটি রেজিস্ট্রি (কাবিন) করা হয়নি বলে জানান তারা। এরপর থেকেই শাহীন খান ও মেয়েটির মধ্যে প্রথমে প্রেম ও পরে স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তারা স্বামী–স্ত্রী হিসেবেই মেলামেশা করেছেন।

স্বামী–স্ত্রী সম্পর্ক নিয়ে শাহীনের অনেক স্বজনের বাড়িতেও গেছেন তারা। শাহীন খানের বাবা লিয়াকত হোসেন খান ওরফে জাকু খান তাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান অভিযোগকারী মেয়েটি।

গত মাসে বিয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় শাহিন ও মেয়েটি বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনাকালে উভয় পরিবারের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে শাহীন ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গ্রাম্য সালিশে তাদের পূর্বের সব সম্পর্কই অস্বীকার করে শাহীনের পরিবার। এ নিয়ে ওই বৈঠকে তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও জানান মেয়েটি। এর ফলে তারা ওই সালিশি বৈঠক ত্যাগ করেন।

অভিমানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবিতে সে তার হবু বর শাহিন খানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। অনশন অবস্থায় বুধবার রাতে তাকে শাহিনের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিতে ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শাহীন খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখীপুর পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) ও উপজেলা কাজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম বাদল সালিশি বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বসা হলেও দুই পক্ষ বিপরীত অবস্থানে থাকায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিনসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন।

শাহীন খানের বাবা লিয়াকত আলী খান ওরফে জাকু খান জানান, আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। ওই মেয়েটি শাহীনের বউ দাবি করে আমার বাড়ি ওঠে বসেছিল। তাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

বউ সাজিয়ে তিন বছর ধরে কলেজছাত্রীকে নিয়মিত ধর্ষণ

আপডেট সময় ০২:০১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ের আশ্বাসে এক কলেজছাত্রীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় ওই কলেজছাত্রী বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এসডিএস মোড় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী ওরফে জাকু খানের ছেলে শাহিন খানের সঙ্গে জাকু খানের ছোট ভায়রা খোরশেদ আলমের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

শাহীন খানের পরিবার মেয়েটিকে তাদের ছেলের বউ হিসেবে মেনেও নেয়। ওই সময় মেয়েটির বিয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় তাদের বিয়েটি রেজিস্ট্রি (কাবিন) করা হয়নি বলে জানান তারা। এরপর থেকেই শাহীন খান ও মেয়েটির মধ্যে প্রথমে প্রেম ও পরে স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তারা স্বামী–স্ত্রী হিসেবেই মেলামেশা করেছেন।

স্বামী–স্ত্রী সম্পর্ক নিয়ে শাহীনের অনেক স্বজনের বাড়িতেও গেছেন তারা। শাহীন খানের বাবা লিয়াকত হোসেন খান ওরফে জাকু খান তাকে তার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান অভিযোগকারী মেয়েটি।

গত মাসে বিয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় শাহিন ও মেয়েটি বিয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনাকালে উভয় পরিবারের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে শাহীন ওই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গ্রাম্য সালিশে তাদের পূর্বের সব সম্পর্কই অস্বীকার করে শাহীনের পরিবার। এ নিয়ে ওই বৈঠকে তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও জানান মেয়েটি। এর ফলে তারা ওই সালিশি বৈঠক ত্যাগ করেন।

অভিমানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিয়ের দাবিতে সে তার হবু বর শাহিন খানের বাড়িতে অনশন শুরু করেন। অনশন অবস্থায় বুধবার রাতে তাকে শাহিনের পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিতে ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শাহীন খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখীপুর পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) ও উপজেলা কাজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম বাদল সালিশি বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বসা হলেও দুই পক্ষ বিপরীত অবস্থানে থাকায় সমাধান করা সম্ভব হয়নি। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুব উদ্দিনসহ স্থানীয় মাতব্বররা উপস্থিত ছিলেন।

শাহীন খানের বাবা লিয়াকত আলী খান ওরফে জাকু খান জানান, আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়। ওই মেয়েটি শাহীনের বউ দাবি করে আমার বাড়ি ওঠে বসেছিল। তাই তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।