আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
একদিকে দেশে বাড়ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। এমন অবস্থায় ২০২২ সালের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক জিটুজি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় সৌদি আরব এবং আবুধাবি থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এ প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। ইআরএল ফিড ডিজাইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণের জন্য কাঁচামাল হিসেবে এই দুটি ক্রুড অয়েল অধিক উপযোগী এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানির সুযোগ নেই।
এজন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে পিপিএ ২০০৬ এর ৬৮(১) ধারা এবং পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সৌদি আরব এবং আবুধাবি থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে।
সভায় ২০২২ সালের (জানুয়ারি টু ডিসেম্বর) জন্য পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সাল থেকে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ জি-টু-জি ভিত্তিতে এবং ৫০ শতাংশ উম্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে আমদানি করে আসছে।
বিক্রয় প্রবণতা ও পর্যাপ্ত মজুদ বিবেচনায় ২০২২ সালে বিপিসি’র জ্বালানি তেল মোট আমদানির পরিমাণ গ্যাস অয়েল ৪৪.৬০ লাখ মেট্রিক টন (১০%+), জেট এ-১ ৪.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন (১০%+), মোগ্যাস ৪.২০ লাখ মেট্রিক টন (১০%+), ফার্নেস অয়েল ৩.৪০ লাখ মেট্রিক টন (১০%+) এবং মেরিন ফুয়েল ১.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন (১০%+) সর্বমোট ৫৮.৫০ লাখ মেট্রিক টন।
অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, চাহিদার ৫০ শতাংশ উম্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ জি-টু-জি ভিত্তিতে আটটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























