ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

অপহরণের নাটক সাজিয়ে ৮ বছর লুকিয়ে ছিলেন আইমুদ্দিন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘অপহরণ’ নাটকের আট বছর পর আইমুদ্দিন (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। পরে সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, রোববার (২৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকা থেকে ঘোড়াঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাখিমুজ্জামান রানা এবং কনস্টেবল শরিফ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

আইমুদ্দিন ঘোড়াঘাট উপজেলার রূপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের মৃত কিসমতুল্লাহর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত করতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান আইমুদ্দিন। এরপর তার ছেলে অপহরণ মামলা দায়ের করেন জমি ক্রেতার নামে। কিন্তু প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষও মামলা করেন তার নামে। এ মামলায় আইমুদ্দিনের দু’বছর কারাদণ্ড হয়। কিন্তু তিনি নিখোঁজ থাকায় কারাবরণ করতে হয়নি তাকে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মৃত তাছের আলী প্রধানের ছেলে মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রয়ের জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার আলী ০৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে মোজাহার আলী দেখতে পান কাগজে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে জমির মালিক আইমুদ্দিন কৌশলে তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে যান। আজিজ মোজাহার আলীকে ফাঁসাতে পরে তার ছেলে আব্দুল আদালতে গিয়ে মোজাহার আলী ও তার দলের লোকজনদের নামে একটি অপহরণ মামলা করেন। এ মামলায় জামিনে এসে মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইমুদ্দিনের নামে একটি মামলা করেন। বিচার চলাকালীন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আসামি আইমুদ্দিনকে দু’বছরের সাজা দেন আদালত। কিন্তু আইমুদ্দিন নিখোঁজ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো যায়নি।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আইমুদ্দিন স্বীকার করেছেন যে— ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের পর ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়া এবং পরে পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থাকাকালীন চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি স্থায়ীভাবে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

অপহরণের নাটক সাজিয়ে ৮ বছর লুকিয়ে ছিলেন আইমুদ্দিন

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘অপহরণ’ নাটকের আট বছর পর আইমুদ্দিন (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। পরে সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, রোববার (২৪ অক্টোবর) দিনগত রাতে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকা থেকে ঘোড়াঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাখিমুজ্জামান রানা এবং কনস্টেবল শরিফ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

আইমুদ্দিন ঘোড়াঘাট উপজেলার রূপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের মৃত কিসমতুল্লাহর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রতারণার মাধ্যমে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত করতে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থেকে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান আইমুদ্দিন। এরপর তার ছেলে অপহরণ মামলা দায়ের করেন জমি ক্রেতার নামে। কিন্তু প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষও মামলা করেন তার নামে। এ মামলায় আইমুদ্দিনের দু’বছর কারাদণ্ড হয়। কিন্তু তিনি নিখোঁজ থাকায় কারাবরণ করতে হয়নি তাকে।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মৃত তাছের আলী প্রধানের ছেলে মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রয়ের জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার আলী ০৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। কিন্তু জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে মোজাহার আলী দেখতে পান কাগজে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে জমির মালিক আইমুদ্দিন কৌশলে তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে যান। আজিজ মোজাহার আলীকে ফাঁসাতে পরে তার ছেলে আব্দুল আদালতে গিয়ে মোজাহার আলী ও তার দলের লোকজনদের নামে একটি অপহরণ মামলা করেন। এ মামলায় জামিনে এসে মোজাহার আলী জমি ক্রয়ে জালিয়াতির অভিযোগ এনে আইমুদ্দিনের নামে একটি মামলা করেন। বিচার চলাকালীন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আসামি আইমুদ্দিনকে দু’বছরের সাজা দেন আদালত। কিন্তু আইমুদ্দিন নিখোঁজ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো যায়নি।

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আইমুদ্দিন স্বীকার করেছেন যে— ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের পর ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়া এবং পরে পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন থাকাকালীন চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি স্থায়ীভাবে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করে তিনি বসবাস করে আসছিলেন।