ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

বিয়ে করেও অস্বীকার ছাত্রদল নেতার, ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নারীকে ধর্ষণ, পরে পরকীয়া করে বিয়ে, সংসার এবং সবই অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার নাম শাহীন সরকার রঞ্জু। তিনি রাজশাহীর তানোর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী নারী রোববার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে শাহীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি তার বিচার দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, স্বামী আর দুই সন্তানের সঙ্গে তিনি তানোর পৌর এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন। শাহীন তাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। তিনি এড়িয়ে যেতেন। বছরখানেক আগে একদিন ফাঁকা বাড়িতে কৌশলে ডেকে তাকে ধর্ষণ করে শাহীন সরকার। লোকলজ্জায় তিনি বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর শাহীন তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে সব সময় যোগাযোগ করতেন। একপর্যায়ে তাদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরই মধ্যে একদিন ওই নারীর স্বামী শাহীন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তাকে মারধর করেন। শাহীন সরকার তখন ওই নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাধ্য করেন স্বামীকে তালাক দিতে। এরপর তিনি ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে রাত কাটাতেন। কিছুদিনের মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন ওই নারী। তারপরও তিনি বিয়ে করছিলেন না। ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিলেন শাহীন।

গত জুনে ওই নারীর জ্বর হয়। তখন জ্বরের চিকিৎসার নামে বাড়িতে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক নিয়ে যান শাহীন। ওই চিকিৎসক তাকে ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ দেন। পরবর্তীতে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। তবে এর আগেই আদালতে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে ওই নারীকে বিয়ে করেন শাহীন সরকার, কিন্তু বিয়ের রেজিস্ট্রি করেননি।

ওই নারী জানান, বিয়ের পর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে তাকে নিয়ে ওঠেন শাহীন সরকার। দুই মাস সংসার করার পর তিনি বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য শাহীনকে চাপ দেন। তখন শাহীন বলেন- এখন লকডাউন চলছে। রেজিস্ট্রি হবে না। লকডাউন শেষে ওই নারী আবার চাপ দিলে বিয়ের কথা অস্বীকার করেন শাহীন। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ওই নারীকে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, শাহীন সরকার আমার সংসার ভেঙেছে। আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমার বাচ্চা নষ্ট করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা শাহীন সরকার রঞ্জু বলেন, সব মিথ্যা। আমি একটা ভালো ছেলে। আমাকে ফাঁসিয়েছে। বিয়ের যে এফিডেভিট দেখাচ্ছে সেটাও ভুয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ে করেও অস্বীকার ছাত্রদল নেতার, ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৫৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নারীকে ধর্ষণ, পরে পরকীয়া করে বিয়ে, সংসার এবং সবই অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী নারী আদালতে মামলা করেছেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।

অভিযুক্ত ওই ছাত্রদল নেতার নাম শাহীন সরকার রঞ্জু। তিনি রাজশাহীর তানোর পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী নারী রোববার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে শাহীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি তার বিচার দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী বলেন, স্বামী আর দুই সন্তানের সঙ্গে তিনি তানোর পৌর এলাকায় শাহীন সরকারের বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতেন। শাহীন তাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। তিনি এড়িয়ে যেতেন। বছরখানেক আগে একদিন ফাঁকা বাড়িতে কৌশলে ডেকে তাকে ধর্ষণ করে শাহীন সরকার। লোকলজ্জায় তিনি বিষয়টি কাউকে বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর শাহীন তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে সব সময় যোগাযোগ করতেন। একপর্যায়ে তাদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরই মধ্যে একদিন ওই নারীর স্বামী শাহীন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তাকে মারধর করেন। শাহীন সরকার তখন ওই নারীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাধ্য করেন স্বামীকে তালাক দিতে। এরপর তিনি ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে রাত কাটাতেন। কিছুদিনের মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন ওই নারী। তারপরও তিনি বিয়ে করছিলেন না। ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছিলেন শাহীন।

গত জুনে ওই নারীর জ্বর হয়। তখন জ্বরের চিকিৎসার নামে বাড়িতে একজন গ্রাম্য চিকিৎসক নিয়ে যান শাহীন। ওই চিকিৎসক তাকে ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ দেন। পরবর্তীতে বাচ্চাটি নষ্ট হয়ে যায়। তবে এর আগেই আদালতে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে ওই নারীকে বিয়ে করেন শাহীন সরকার, কিন্তু বিয়ের রেজিস্ট্রি করেননি।

ওই নারী জানান, বিয়ের পর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে তাকে নিয়ে ওঠেন শাহীন সরকার। দুই মাস সংসার করার পর তিনি বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য শাহীনকে চাপ দেন। তখন শাহীন বলেন- এখন লকডাউন চলছে। রেজিস্ট্রি হবে না। লকডাউন শেষে ওই নারী আবার চাপ দিলে বিয়ের কথা অস্বীকার করেন শাহীন। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ওই নারীকে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, শাহীন সরকার আমার সংসার ভেঙেছে। আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমার বাচ্চা নষ্ট করেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা শাহীন সরকার রঞ্জু বলেন, সব মিথ্যা। আমি একটা ভালো ছেলে। আমাকে ফাঁসিয়েছে। বিয়ের যে এফিডেভিট দেখাচ্ছে সেটাও ভুয়া।