ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সন্তান জন্ম দিয়ে করোনায় মারা গেলেন মা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ডেফলউরা গ্রামের গৃহবধূ লিমা আক্তার (২১) ঈদের দিনে জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যা শিশুর। পরিবারে ঈদের আনন্দে যোগ হয় নতুন আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ দিল মরণব্যাধি করোনায়।

সেইসঙ্গে দুর্ভাগ্য নেমে এলো নবজাতক কন্যার জীবনে। জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ পান করার আগেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে করোনা আক্রান্ত (কোভিড-১৯) হয়ে শেষতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নবজাতকের মা লিমা আক্তার। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল পরিবারের আনন্দ। করোনার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত এখন শিশুর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টায় সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় জানাজা শেষে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার মৃতের লাশ দাফন করে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে।

করোনায় মৃত গৃহবধূ লিমা রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী। ৫ বছর বয়সী তার আরেকটি একটি ছেলে রয়েছে।

সরেজমিন মৃত লিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতক শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে ফিডার খাওয়াচ্ছেন তার এক ফুফু। শিশুটির দাদা লকুছ মিয়া ছিলেন পাশে।

তিনি বলেন, সন্তানসম্ভাবা লিমা আক্তারকে ঈদের আগে মৌলভীবাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান। এ সময় তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে গাইনি ডাক্তার করোনা টেস্ট করানোর জন্য বলেন এবং সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। নমুনা দেয়ার তিন দিন পর লিমা আক্তারের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেখানের ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে সিজারে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লিমা আক্তার।

তিনি আরও জানান, সন্তান জন্ম দেয়ার পর তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। সেখান থেকে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে মঙ্গলবার দিনে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শিশুটির দাদা বলেন, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পর আস্তে আস্তে তার অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাতেই লিমা আক্তারের লাশ বাড়িতে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার রাত সাড়ে ৩টার সময় লাশ দাফন করে।

শিশুটির দাদি সালমা বেগম বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। মা ছাড়া সাত দিনের শিশুটিকে কীভাবে লালন পালন করব?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

সন্তান জন্ম দিয়ে করোনায় মারা গেলেন মা

আপডেট সময় ১১:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ডেফলউরা গ্রামের গৃহবধূ লিমা আক্তার (২১) ঈদের দিনে জন্ম দেন এক ফুটফুটে কন্যা শিশুর। পরিবারে ঈদের আনন্দে যোগ হয় নতুন আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ দিল মরণব্যাধি করোনায়।

সেইসঙ্গে দুর্ভাগ্য নেমে এলো নবজাতক কন্যার জীবনে। জন্মের পরপরই মায়ের বুকের দুধ পান করার আগেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতাল ঘুরে করোনা আক্রান্ত (কোভিড-১৯) হয়ে শেষতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন নবজাতকের মা লিমা আক্তার। নিমিষেই শেষ হয়ে গেল পরিবারের আনন্দ। করোনার ভয়াল থাবায় অনিশ্চিত এখন শিশুর ভবিষ্যৎ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯টায় সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি লিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে রাত সাড়ে ৩টায় জানাজা শেষে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার মৃতের লাশ দাফন করে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামে।

করোনায় মৃত গৃহবধূ লিমা রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের ডেফলউড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী। ৫ বছর বয়সী তার আরেকটি একটি ছেলে রয়েছে।

সরেজমিন মৃত লিমা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতক শিশুটিকে বিছানায় শুইয়ে ফিডার খাওয়াচ্ছেন তার এক ফুফু। শিশুটির দাদা লকুছ মিয়া ছিলেন পাশে।

তিনি বলেন, সন্তানসম্ভাবা লিমা আক্তারকে ঈদের আগে মৌলভীবাজারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান। এ সময় তার করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে গাইনি ডাক্তার করোনা টেস্ট করানোর জন্য বলেন এবং সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। নমুনা দেয়ার তিন দিন পর লিমা আক্তারের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। সেখানের ডাক্তাররা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে সিলেট রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে নিয়ে গিয়ে সিজারে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন লিমা আক্তার।

তিনি আরও জানান, সন্তান জন্ম দেয়ার পর তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। প্রয়োজন হয় আইসিইউর। সেখান থেকে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতাল ও পরে মঙ্গলবার দিনে নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

শিশুটির দাদা বলেন, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়ার পর আস্তে আস্তে তার অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রাতেই লিমা আক্তারের লাশ বাড়িতে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে ইকরামুল মুসলিমিন মৌলভীবাজার রাত সাড়ে ৩টার সময় লাশ দাফন করে।

শিশুটির দাদি সালমা বেগম বলেন, আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। মা ছাড়া সাত দিনের শিশুটিকে কীভাবে লালন পালন করব?