ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

শরণার্থী নিয়ন্ত্রণে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন চায় জার্মানি

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা সংকটের জের ধরে ইউরোপে ভ্রমণের সুযোগ সঙ্কুচিত হয়েছে। ইউরোপের দোরগোড়ায়ও মানুষের আগমন কমে গেছে। ফলে শরণার্থীদের আগমনও গত বছর থেকে অনেকটা কমে গেছে। এবার করোনা সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় আবার আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নামার আশঙ্কা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সঙ্গে ইইউ’র চুক্তি নবায়নের আহ্বান জানালেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তুরস্কের বর্তমান সরকারের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা সত্ত্বেও মানতে হবে যে সে দেশ ইউরোপের শরণার্থী সংকটের একটা বড় ভার সামলে এসেছে। অবশ্যই অর্থের বিনিময়ে এমন বোঝাপড়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন কাঠামো চালু রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্থিক সহায়তা দেবে বলে মাস আশা প্রকাশ করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে তুরস্কের সরকার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও যেসব শরণার্থী তুরস্কের সীমান্ত পেরিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করছে, তাদেরও ফেরত নিচ্ছে তুরস্ক। ফেরত পাঠানো প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিময়ে ইইউ তুরস্ক থেকে একজন করে সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ করে থাকে। তুরস্কে শরণার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানও দেয় ইইউ। বিষয়টিকে নিয়ে অনেক রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও বোঝাপড়ার কাঠামো মোটামুটি অটুট রয়েছে।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে অবৈধ আশ্রয়ণার্থীদের ঢল নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রিস জোরালো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রাচীরে ঘেরা শিবির তৈরি ও সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে গ্রিক সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গ্রিস।

দেশটির মতে, গ্রিস, ইতালি, স্পেন, মাল্টা ও সাইপ্রাস শরণার্থী সংকট সামলাতে বাধ্য হলেও ইউরোপের বাকি অংশ থেকে যথেষ্ট সংহতি পাচ্ছে না।

দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী নোটিস মিতারাচি বলেন, তার সরকার গ্রিসকে শরণার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় না। কড়া হলেও সেই নীতি যথেষ্ট ন্যায্য বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর লেসবোস দ্বীপে মোরিয়া শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্রিসে শরণার্থীদের করুণ অবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। সে দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী জাতীয় জলসীমা থেকে শরণার্থীদের নৌকা ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলেও গ্রিক সরকার তা অস্বীকার করেছে। শরণার্থী শিবিরগুলোকে প্রায় কারাগারের মতো করে গড়ে তোলার কারণেও গ্রিসের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স সংগঠন তুরস্কের কাছে গ্রিসের পাঁচটি দ্বীপে ‘নীতিগতভাবে’ মানবিক বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। সেই সংগঠন এই দ্বীপগুলোতে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের চিকিৎসা করে ভয়াবহ এক চিত্র তুলে ধরেছে। সংগঠনের গ্রিক বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা প্সারা বলেন, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শুধু শরণার্থীদের দূরে রাখতে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গ্রিসের সরকার শরণার্থীদের সমাজে সম্পৃক্ত করার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে তাদের কষ্ট ও বেদনা বাড়ছেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শরণার্থী নিয়ন্ত্রণে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন চায় জার্মানি

আপডেট সময় ০৫:১০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুন ২০২১

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনা সংকটের জের ধরে ইউরোপে ভ্রমণের সুযোগ সঙ্কুচিত হয়েছে। ইউরোপের দোরগোড়ায়ও মানুষের আগমন কমে গেছে। ফলে শরণার্থীদের আগমনও গত বছর থেকে অনেকটা কমে গেছে। এবার করোনা সংকট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় আবার আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নামার আশঙ্কা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এমন প্রেক্ষাপটে তুরস্কের সঙ্গে ইইউ’র চুক্তি নবায়নের আহ্বান জানালেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, তুরস্কের বর্তমান সরকারের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা সত্ত্বেও মানতে হবে যে সে দেশ ইউরোপের শরণার্থী সংকটের একটা বড় ভার সামলে এসেছে। অবশ্যই অর্থের বিনিময়ে এমন বোঝাপড়া সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন কাঠামো চালু রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর্থিক সহায়তা দেবে বলে মাস আশা প্রকাশ করেন।

চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে তুরস্কের সরকার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও যেসব শরণার্থী তুরস্কের সীমান্ত পেরিয়ে গ্রিসে প্রবেশ করছে, তাদেরও ফেরত নিচ্ছে তুরস্ক। ফেরত পাঠানো প্রত্যেক ব্যক্তির বিনিময়ে ইইউ তুরস্ক থেকে একজন করে সিরীয় শরণার্থী গ্রহণ করে থাকে। তুরস্কে শরণার্থীদের জন্য আর্থিক অনুদানও দেয় ইইউ। বিষয়টিকে নিয়ে অনেক রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও বোঝাপড়ার কাঠামো মোটামুটি অটুট রয়েছে।

চলতি বছরের গ্রীষ্মে অবৈধ আশ্রয়ণার্থীদের ঢল নিয়ন্ত্রণ করতে গ্রিস জোরালো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। প্রাচীরে ঘেরা শিবির তৈরি ও সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে গ্রিক সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গ্রিস।

দেশটির মতে, গ্রিস, ইতালি, স্পেন, মাল্টা ও সাইপ্রাস শরণার্থী সংকট সামলাতে বাধ্য হলেও ইউরোপের বাকি অংশ থেকে যথেষ্ট সংহতি পাচ্ছে না।

দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী নোটিস মিতারাচি বলেন, তার সরকার গ্রিসকে শরণার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায় না। কড়া হলেও সেই নীতি যথেষ্ট ন্যায্য বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর লেসবোস দ্বীপে মোরিয়া শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্রিসে শরণার্থীদের করুণ অবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। সে দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী জাতীয় জলসীমা থেকে শরণার্থীদের নৌকা ফেরত পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলেও গ্রিক সরকার তা অস্বীকার করেছে। শরণার্থী শিবিরগুলোকে প্রায় কারাগারের মতো করে গড়ে তোলার কারণেও গ্রিসের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স সংগঠন তুরস্কের কাছে গ্রিসের পাঁচটি দ্বীপে ‘নীতিগতভাবে’ মানবিক বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে। সেই সংগঠন এই দ্বীপগুলোতে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের চিকিৎসা করে ভয়াবহ এক চিত্র তুলে ধরেছে। সংগঠনের গ্রিক বিভাগের প্রধান ক্রিস্টিনা প্সারা বলেন, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে শুধু শরণার্থীদের দূরে রাখতে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে গ্রিসের সরকার শরণার্থীদের সমাজে সম্পৃক্ত করার কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে তাদের কষ্ট ও বেদনা বাড়ছেই।