ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে হত্যা করে বাবা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে আলোচিত মাদ্রাসাছাত্র বিপ্লব হোসেন আকন্দ (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। বিপ্লব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে হত্যা করে বাবা।

এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ঘাতক বাবা বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) এবং তার সহযোগী ভাগ্নিজামাই এমদাদুলকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের গাজীপুর উপজেলার পিরুজালী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গত ৮ মার্চ রাত ৮টা ১০ মিনিটে ভিকটিম বিপ্লব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়ার জনৈক সানাউল্লাহ মুন্সির বাঁশঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি থানা পুলিশ ১ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার ওপর অর্পিত হয়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আসামি বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) ১২ বছর আগে তার আপন ছোটভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়াকে বিয়ে করে এবং পৈতৃক ২ কাঠা জমি বিক্রি করে টাঙ্গাইলে তার বাবার বাড়িতে ঘর তৈরি করে দেয়। কিন্তু জুলিয়া সেখানে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করায় বাবুল তাকে নিয়ে পিরুজালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। জুলিয়া প্রায়ই বাবুলের বড় স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করত। ফলে খাদিজার সঙ্গে জুলিয়ার ঝগড়াবিবাদ লেগেই থাকত।

ঘটনার ৩ মাস পূর্বে বাবুলের সঙ্গে জুলিয়া ঝগড়া করে তার ছোটমেয়েকে নিয়ে (বাবার বাড়ি) টাঙ্গাইলে চলে যায়। অপর আসামি এমদাদ সম্পর্কে বাবুলের ভাগ্নিজামাই। এমদাদের সঙ্গে বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী জুলিয়ার গোপন সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সুযোগে জুলিয়া এমদাদকে বিভিন্ন বুদ্ধিপরামর্শ দিত এবং বাবুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘরছাড়া করার চেষ্টা করত।

ঘটনার ১০ দিন পূর্বে জুলিয়া পিরুজালী এসে এমদাদের সঙ্গে দেখা করে ছেলে বিপ্লবকে হত্যা করার জন্য বাবুলকে রাজি করাতে বলে। পরবর্তীতে এমদাদুলের পরামর্শে তার ছোটছেলে ভিকটিম বিপ্লব আকন্দকে খুন করার পরিকল্পনা করে বাবুল।

পরে বিপ্লব নারায়ণগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে বাসায় ছুটিতে আসার পর ঘটনার দিন বাবুল ভিকটিমকে নিয়ে এশার নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় বাবুল তার ছোট স্ত্রীকে তাবিজ করার কথা বলে ভিকটিমকে দিয়ে প্রতিবেশী খালেকের বাসা থেকে একটি কোদাল আনায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এমদাদ বিপ্লবকে সেভেনআপের সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় এবং বাবুল ছেলেকে নিয়ে পিরুজালী বকচরপাড়ার জনৈক সানাউল্লাহ মুন্সির চালাজমির বাঁশঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়।

এরই মধ্যে বিপ্লব ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। ঠিক তখন বাবুল কোদাল দিয়ে বিপ্লবের গলায় কোপ দেয়। এ সময় ভিকটিম লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করলে বাবুল পুনরায় কোদাল দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং কোদালটি পাশের ধানের জমিতে ফেলে বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে এমদাদ বাবুলের কথামতো কোদালটি সেখান থেকে নিয়ে তার বাসায় লুকিয়ে রাখে।

আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানান পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে হত্যা করে বাবা

আপডেট সময় ০৯:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরে আলোচিত মাদ্রাসাছাত্র বিপ্লব হোসেন আকন্দ (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। বিপ্লব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়ার পর কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে হত্যা করে বাবা।

এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ঘাতক বাবা বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) এবং তার সহযোগী ভাগ্নিজামাই এমদাদুলকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাদের গাজীপুর উপজেলার পিরুজালী থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গত ৮ মার্চ রাত ৮টা ১০ মিনিটে ভিকটিম বিপ্লব আকন্দ মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়ার জনৈক সানাউল্লাহ মুন্সির বাঁশঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের মা খাদিজা আক্তার বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি থানা পুলিশ ১ মাস তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তদন্তভার পিবিআই গাজীপুর জেলার ওপর অর্পিত হয়।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, আসামি বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) ১২ বছর আগে তার আপন ছোটভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়াকে বিয়ে করে এবং পৈতৃক ২ কাঠা জমি বিক্রি করে টাঙ্গাইলে তার বাবার বাড়িতে ঘর তৈরি করে দেয়। কিন্তু জুলিয়া সেখানে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করায় বাবুল তাকে নিয়ে পিরুজালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। জুলিয়া প্রায়ই বাবুলের বড় স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করত। ফলে খাদিজার সঙ্গে জুলিয়ার ঝগড়াবিবাদ লেগেই থাকত।

ঘটনার ৩ মাস পূর্বে বাবুলের সঙ্গে জুলিয়া ঝগড়া করে তার ছোটমেয়েকে নিয়ে (বাবার বাড়ি) টাঙ্গাইলে চলে যায়। অপর আসামি এমদাদ সম্পর্কে বাবুলের ভাগ্নিজামাই। এমদাদের সঙ্গে বাবুলের দ্বিতীয় স্ত্রী জুলিয়ার গোপন সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সুযোগে জুলিয়া এমদাদকে বিভিন্ন বুদ্ধিপরামর্শ দিত এবং বাবুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘরছাড়া করার চেষ্টা করত।

ঘটনার ১০ দিন পূর্বে জুলিয়া পিরুজালী এসে এমদাদের সঙ্গে দেখা করে ছেলে বিপ্লবকে হত্যা করার জন্য বাবুলকে রাজি করাতে বলে। পরবর্তীতে এমদাদুলের পরামর্শে তার ছোটছেলে ভিকটিম বিপ্লব আকন্দকে খুন করার পরিকল্পনা করে বাবুল।

পরে বিপ্লব নারায়ণগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে বাসায় ছুটিতে আসার পর ঘটনার দিন বাবুল ভিকটিমকে নিয়ে এশার নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এ সময় বাবুল তার ছোট স্ত্রীকে তাবিজ করার কথা বলে ভিকটিমকে দিয়ে প্রতিবেশী খালেকের বাসা থেকে একটি কোদাল আনায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এমদাদ বিপ্লবকে সেভেনআপের সঙ্গে নেশাজাতীয় ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় এবং বাবুল ছেলেকে নিয়ে পিরুজালী বকচরপাড়ার জনৈক সানাউল্লাহ মুন্সির চালাজমির বাঁশঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়।

এরই মধ্যে বিপ্লব ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। ঠিক তখন বাবুল কোদাল দিয়ে বিপ্লবের গলায় কোপ দেয়। এ সময় ভিকটিম লাফিয়ে উঠার চেষ্টা করলে বাবুল পুনরায় কোদাল দিয়ে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং কোদালটি পাশের ধানের জমিতে ফেলে বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে এমদাদ বাবুলের কথামতো কোদালটি সেখান থেকে নিয়ে তার বাসায় লুকিয়ে রাখে।

আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে জানান পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান।