ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

পাকিস্তানের সিরিয়ালে রবীন্দ্র সংগীত, নেটমাধ্যমে হইচই

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সীমানা ছাড়ায় রবীন্দ্র সংগীত। এ আর নতুন কথা কি! কবেই তো তা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে গেছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু তাই বলে পাকিস্তানে? যে পাকিস্তান ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রকবিতা ও গান নিষিদ্ধ করেছিল। যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং এখনকার বাংলাদেশ গর্জে উঠেছিল, পরে মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের গান। সময় বদলেছে। সময় বদলের প্রতীক হিসেবে সেই পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার করা হলো রবীন্দ্র সংগীত,‌ ‘আমার পরান যাহা চায়’। আর এই ঘটনার কথা সামনে আসার পরই নেটমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে।

এই গানের ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেছিলেন পাকিস্তানের পরিচালক মেহরিন জব্বার। তিনিই ‌‘দিল কেয়া করে’-র পরিচালক, যেখানে এই রবীন্দ্র সংগীতটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, শর্বরী পান্ডে গানটি গেয়েছেন। আর ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রের নামও দিয়েছেন তিনি। তারা হলেন, ফিরোজ খান, ইয়ামনা জেইদি, মরিয়াম নাফিজ এবং জেইন বেগ। ইনস্টা ও ফেসবুকে তিনি তা শেয়ার করেন।

খুবই উল্লেখযোগ্য হলো, এখানে রবীন্দ্র সংগীতটি বাংলাতেই নেওয়া হয়েছে। এরপর তা টুইটার ফেসবুকে ঘুরতে থাকে। শুরু হয়ে যায় আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারজন সোফায় বসে আছেন। এক নারী গানটি গাইছেন। অন্যরা মুগ্ধ হয়ে শুনছেন।

গায়ক রূপঙ্কর বাগচী মনে করেন, যে পাকিস্তানি পরিচালক রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার করেছেন, তিনি খুব স্বাভাবিক কাজ করেছেন। রূপঙ্কর বলেন, ‘তাকে আলাদা করে বাহবা দিচ্ছি না। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি বা ভারতীয় নন। তিনি গোটা পৃথিবীর। রবীন্দ্রনাথের গান পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্য যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়, কূটনৈতিক, খেলার বা সামরিক, সেগুলোই অস্বাভাবিক।

বাংলাভাষার অধ্যাপক আশিস চক্রবর্তী কিন্তু মনে করেন, এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। বিশেষ করে ইতিহাস মনে রাখলে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান তার ট্যাবু ভেঙে বেরোচ্ছে। ওরা বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করছে, এটা অবাক করার মতো বিষয়। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নও মনে জাগছে। তবে আশিসের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের উদার চিন্তা শিখিয়েছেন। কিন্তু ভারত উদার ধারণাটাকে ভেঙে সংকীর্ণতার দিকে যাচ্ছে। এটাই মনে লাগে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

পাকিস্তানের সিরিয়ালে রবীন্দ্র সংগীত, নেটমাধ্যমে হইচই

আপডেট সময় ০৯:৫১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুন ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

সীমানা ছাড়ায় রবীন্দ্র সংগীত। এ আর নতুন কথা কি! কবেই তো তা ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে ছড়িয়ে গেছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু তাই বলে পাকিস্তানে? যে পাকিস্তান ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রকবিতা ও গান নিষিদ্ধ করেছিল। যে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং এখনকার বাংলাদেশ গর্জে উঠেছিল, পরে মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল রবীন্দ্রনাথের গান। সময় বদলেছে। সময় বদলের প্রতীক হিসেবে সেই পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার করা হলো রবীন্দ্র সংগীত,‌ ‘আমার পরান যাহা চায়’। আর এই ঘটনার কথা সামনে আসার পরই নেটমাধ্যমে হইচই পড়ে গেছে।

এই গানের ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেছিলেন পাকিস্তানের পরিচালক মেহরিন জব্বার। তিনিই ‌‘দিল কেয়া করে’-র পরিচালক, যেখানে এই রবীন্দ্র সংগীতটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, শর্বরী পান্ডে গানটি গেয়েছেন। আর ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রের নামও দিয়েছেন তিনি। তারা হলেন, ফিরোজ খান, ইয়ামনা জেইদি, মরিয়াম নাফিজ এবং জেইন বেগ। ইনস্টা ও ফেসবুকে তিনি তা শেয়ার করেন।

খুবই উল্লেখযোগ্য হলো, এখানে রবীন্দ্র সংগীতটি বাংলাতেই নেওয়া হয়েছে। এরপর তা টুইটার ফেসবুকে ঘুরতে থাকে। শুরু হয়ে যায় আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চারজন সোফায় বসে আছেন। এক নারী গানটি গাইছেন। অন্যরা মুগ্ধ হয়ে শুনছেন।

গায়ক রূপঙ্কর বাগচী মনে করেন, যে পাকিস্তানি পরিচালক রবীন্দ্র সংগীত ব্যবহার করেছেন, তিনি খুব স্বাভাবিক কাজ করেছেন। রূপঙ্কর বলেন, ‘তাকে আলাদা করে বাহবা দিচ্ছি না। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি বা ভারতীয় নন। তিনি গোটা পৃথিবীর। রবীন্দ্রনাথের গান পাকিস্তানের সিরিয়ালে ব্যবহার হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ তার মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্য যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়, কূটনৈতিক, খেলার বা সামরিক, সেগুলোই অস্বাভাবিক।

বাংলাভাষার অধ্যাপক আশিস চক্রবর্তী কিন্তু মনে করেন, এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। বিশেষ করে ইতিহাস মনে রাখলে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান তার ট্যাবু ভেঙে বেরোচ্ছে। ওরা বাংলায় রবীন্দ্রনাথ ব্যবহার করছে, এটা অবাক করার মতো বিষয়। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নও মনে জাগছে। তবে আশিসের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ আমাদের উদার চিন্তা শিখিয়েছেন। কিন্তু ভারত উদার ধারণাটাকে ভেঙে সংকীর্ণতার দিকে যাচ্ছে। এটাই মনে লাগে।’