ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি বাবাকে অপমানের ক্ষোভে ৫ বছরের শিশুকে হত্যা করেন নিহা ‘রিফাইন্ড’ বা অন্য নামেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি করতে পারবে না : তথ্য উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূতি উপলক্ষে জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল রাজধানীর তিন সরকারি হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, আটক ১৩ পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা প্রত্যাহার করল বিরোধী দল ১১ বছর পর রায়, বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষককে মারলো দপ্তরি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খোলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহে গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছে দপ্তরি। শুধু মারধরেই থেমে যায়নি, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় করেছে গালাগালিও। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই নারী প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম স্কুলে ডাকেন দপ্তরি রাকিবকে। তারপর রাকিব আসলে তিনি বলেন শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে। কারণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কক্ষগুলোতে পড়ে গেছ ধূলোর আস্তরণ।

এসময় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব। এসময় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে শিক্ষক নিলুফাকে।

মারধরের শিকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো সময় তো স্কুল খোলা হতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই। এসময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আসতে বলা হয়। সে আসার পর আমি তাকে বলি, স্কুলের সব শ্রেণিকক্ষ তো অপরিষ্কার। যে কোনো সময় টিইও কিংবা এটিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারেন। এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এগুলো শুনে সে আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগবো? এই লকডাউনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করবো কেন।

নিলুফা খানম আরও বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে সে নেশা করে তারপর ঘুমায়। লোক পাঠিয়ে ঘুম থেকে তুলে আনায় আমার প্রতি সে চড়াও হয়েছে। সে আমার মাথায় ঘুষিসহ মারধর করেছে সবার সামনে। এসময় পাগলা থানার এসআই আব্বাস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এটিইও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এখন তারা যদি থানায় অভিযোগ দেন তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন কি বলা যাবে উনি ঋণখেলাপি ছিলেন, আসলাম চৌধুরী প্রসঙ্গে জামায়াত এমপি

স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষককে মারলো দপ্তরি!

আপডেট সময় ১০:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খোলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহে গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছে দপ্তরি। শুধু মারধরেই থেমে যায়নি, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় করেছে গালাগালিও। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই নারী প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম স্কুলে ডাকেন দপ্তরি রাকিবকে। তারপর রাকিব আসলে তিনি বলেন শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে। কারণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কক্ষগুলোতে পড়ে গেছ ধূলোর আস্তরণ।

এসময় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব। এসময় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে শিক্ষক নিলুফাকে।

মারধরের শিকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো সময় তো স্কুল খোলা হতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই। এসময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আসতে বলা হয়। সে আসার পর আমি তাকে বলি, স্কুলের সব শ্রেণিকক্ষ তো অপরিষ্কার। যে কোনো সময় টিইও কিংবা এটিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারেন। এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এগুলো শুনে সে আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগবো? এই লকডাউনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করবো কেন।

নিলুফা খানম আরও বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে সে নেশা করে তারপর ঘুমায়। লোক পাঠিয়ে ঘুম থেকে তুলে আনায় আমার প্রতি সে চড়াও হয়েছে। সে আমার মাথায় ঘুষিসহ মারধর করেছে সবার সামনে। এসময় পাগলা থানার এসআই আব্বাস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এটিইও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এখন তারা যদি থানায় অভিযোগ দেন তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।