ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল দাবি আদায় না হলে সারারাত ইসি অবরুদ্ধ রাখবে ছাত্রদল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ ৩ ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ছাত্রদলের

স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষককে মারলো দপ্তরি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খোলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহে গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছে দপ্তরি। শুধু মারধরেই থেমে যায়নি, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় করেছে গালাগালিও। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই নারী প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম স্কুলে ডাকেন দপ্তরি রাকিবকে। তারপর রাকিব আসলে তিনি বলেন শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে। কারণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কক্ষগুলোতে পড়ে গেছ ধূলোর আস্তরণ।

এসময় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব। এসময় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে শিক্ষক নিলুফাকে।

মারধরের শিকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো সময় তো স্কুল খোলা হতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই। এসময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আসতে বলা হয়। সে আসার পর আমি তাকে বলি, স্কুলের সব শ্রেণিকক্ষ তো অপরিষ্কার। যে কোনো সময় টিইও কিংবা এটিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারেন। এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এগুলো শুনে সে আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগবো? এই লকডাউনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করবো কেন।

নিলুফা খানম আরও বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে সে নেশা করে তারপর ঘুমায়। লোক পাঠিয়ে ঘুম থেকে তুলে আনায় আমার প্রতি সে চড়াও হয়েছে। সে আমার মাথায় ঘুষিসহ মারধর করেছে সবার সামনে। এসময় পাগলা থানার এসআই আব্বাস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এটিইও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এখন তারা যদি থানায় অভিযোগ দেন তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু

স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষককে মারলো দপ্তরি!

আপডেট সময় ১০:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

স্কুলের শ্রেণিকক্ষ খোলে পরিষ্কার করতে বলায় ময়মনসিংহে গফরগাঁওয়ে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেছে দপ্তরি। শুধু মারধরেই থেমে যায়নি, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় করেছে গালাগালিও। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন ওই নারী প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম স্কুলে ডাকেন দপ্তরি রাকিবকে। তারপর রাকিব আসলে তিনি বলেন শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করতে। কারণ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কক্ষগুলোতে পড়ে গেছ ধূলোর আস্তরণ।

এসময় রাকিব ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করেন। বন্ধের সময় কোনো রকম কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সে। এরপর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিলুফার মাথায় ঘুষি মেরে বসে রাকিব। এসময় রাকিবের ভাই এসেও গালাগালি করে শিক্ষক নিলুফাকে।

মারধরের শিকার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলুফা খানম বলেন, যে কোনো সময় তো স্কুল খোলা হতে পারে সেজন্য আমরা স্কুলের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিন শিক্ষক মিলে স্কুলে যাই। এসময় স্কুল অপরিষ্কার দেখে দপ্তরি রাকিবকে ফোন দেই। কিন্তু সে না আসায় লোক পাঠিয়ে তাকে আসতে বলা হয়। সে আসার পর আমি তাকে বলি, স্কুলের সব শ্রেণিকক্ষ তো অপরিষ্কার। যে কোনো সময় টিইও কিংবা এটিইও স্যার স্কুল পরিদর্শনে আসতে পারেন। এসে এই অবস্থা দেখলে তোমারও চাকরি যাবে, আমাকেও শোকজ করবে। এগুলো শুনে সে আমাকে বলে, তর কথাতে কি আমার স্কুল খোলা লাগবো? এই লকডাউনে স্কুল খোলা হয় নাই তাইলে স্কুল পরিষ্কার করবো কেন।

নিলুফা খানম আরও বলেন, মূল বিষয় হচ্ছে সে নেশা করে তারপর ঘুমায়। লোক পাঠিয়ে ঘুম থেকে তুলে আনায় আমার প্রতি সে চড়াও হয়েছে। সে আমার মাথায় ঘুষিসহ মারধর করেছে সবার সামনে। এসময় পাগলা থানার এসআই আব্বাস সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিই আমাকে উদ্ধার করেছে এবং থানায় নিয়ে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাগলা থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষক সমিতির যারা আছেন তারা টিইও এবং এটিইও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এখন তারা যদি থানায় অভিযোগ দেন তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।