ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বড় ভাইয়ের প্রেমের বলি ছোট ভাই!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আড়াই বছর আগে ভালোবেসে নিপা আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন ইয়াসিন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পালাসুতা গ্রামের প্রবাসী নোয়াব মিয়ার ছেলে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় মানিককান্দি গ্রামের নিপার বাবা ডালিম মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারা ইয়াসিনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এ নিয়ে ইয়াসিন ও নিপার পরিবারে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বে ইয়াসিনের ছোট ভাই আমিন খুন হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে পরিবারের কাছে আমিনের লাশ হস্তান্তর করা হয়।

এসময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে নিহতের ভাড়া বাসা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। জানাজার নামাজ শেষে টমসমব্রিজ এলাকায় আমিনের লাশ দাফন করা হয়।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে কুমিল্লা নগরীর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন হাইস্কুলের পেছনে বিসিক এলাকার ভেতর মাঠে ক্রিকেট খেলছিল ইয়াসিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ আমিন। এই খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছিল নিপার মামাতো ভাই পারভেজ। নো বল দেওয়ার দ্বন্দ্বের জের ধরে পারভেজ ছুরিকাঘাতে খুন করে আমিনকে।

এদিকে, গতকাল ঘটনার পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ঘাতক পারভেজকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তার দেখানো মতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করা হয়। আমিনের মা শেফালী বেগম সকালে বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানার চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন-ঘাতক পারভেজ, তার ছোট ভাই আরমান, ঘাতক পারভেজের খালা নাজমা ও খালু জুয়েল।

নিহত মোহাম্মদ আমিনের বড় ভাই ইয়াসিন বলেন, আমি সম্পর্ক করে বিয়ে করেছি। এজন্য আমার ছোট ভাইকে আমার বউয়ের মামাতো ভাই পারভেজ খুন করছে। আমার ভাইকে খুন করার আগের সপ্তাহে পারভেজ আমার সাথেও ঝগড়া লাগে। ওই সময় এলাকার মানুষ ঝগড়া থামিয়েছে।

আমিনের মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার পোলাডা সারাডা সাপ্তাহ কাম করতো। শুধু শুক্কুরবার আইলে খেলতো। কেউর লগে কাইজ্জা ঝগড়া করতো না। আমার ভালা পোলাডারে ছুরি দিয়া মাইরালাইলো।’

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হক বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে এজাহার নামীয় আসামি নাজমা ও রাতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে ঘাতক পারভেজকে আটক করা হয়েছে। তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বড় ভাইয়ের প্রেমের বলি ছোট ভাই!

আপডেট সময় ০৬:৫২:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আড়াই বছর আগে ভালোবেসে নিপা আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন ইয়াসিন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পালাসুতা গ্রামের প্রবাসী নোয়াব মিয়ার ছেলে। পরিবারের অমতে বিয়ে করায় মানিককান্দি গ্রামের নিপার বাবা ডালিম মিয়াসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তারা ইয়াসিনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এ নিয়ে ইয়াসিন ও নিপার পরিবারে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সেই দ্বন্দ্বে ইয়াসিনের ছোট ভাই আমিন খুন হন বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে পরিবারের কাছে আমিনের লাশ হস্তান্তর করা হয়।

এসময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে নিহতের ভাড়া বাসা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। জানাজার নামাজ শেষে টমসমব্রিজ এলাকায় আমিনের লাশ দাফন করা হয়।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে কুমিল্লা নগরীর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মডার্ন হাইস্কুলের পেছনে বিসিক এলাকার ভেতর মাঠে ক্রিকেট খেলছিল ইয়াসিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ আমিন। এই খেলায় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছিল নিপার মামাতো ভাই পারভেজ। নো বল দেওয়ার দ্বন্দ্বের জের ধরে পারভেজ ছুরিকাঘাতে খুন করে আমিনকে।

এদিকে, গতকাল ঘটনার পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ঘাতক পারভেজকে আটক করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তার দেখানো মতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছোরাও উদ্ধার করা হয়। আমিনের মা শেফালী বেগম সকালে বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানার চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন-ঘাতক পারভেজ, তার ছোট ভাই আরমান, ঘাতক পারভেজের খালা নাজমা ও খালু জুয়েল।

নিহত মোহাম্মদ আমিনের বড় ভাই ইয়াসিন বলেন, আমি সম্পর্ক করে বিয়ে করেছি। এজন্য আমার ছোট ভাইকে আমার বউয়ের মামাতো ভাই পারভেজ খুন করছে। আমার ভাইকে খুন করার আগের সপ্তাহে পারভেজ আমার সাথেও ঝগড়া লাগে। ওই সময় এলাকার মানুষ ঝগড়া থামিয়েছে।

আমিনের মা শেফালী বেগম বলেন, ‘আমার পোলাডা সারাডা সাপ্তাহ কাম করতো। শুধু শুক্কুরবার আইলে খেলতো। কেউর লগে কাইজ্জা ঝগড়া করতো না। আমার ভালা পোলাডারে ছুরি দিয়া মাইরালাইলো।’

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হক বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে এজাহার নামীয় আসামি নাজমা ও রাতে অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা রেলস্টেশন এলাকা থেকে ঘাতক পারভেজকে আটক করা হয়েছে। তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।