ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ঋণ পরিশোধ না করায় জেলে মায়ের সঙ্গী এক বছরের শিশু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় নিলুফা খাতুন ‘বীজ’ নামের এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বছর দেড়েক আগে। এনজিওকর্মীরা নিলুফার কাছ থেকে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

রোববার রাতে এনজিওকর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রাম থেকে এক বছরের শিশুসন্তানসহ নিলুফাকে গ্রেফতার করেন। সোমবার নিলুফাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এক বছরের শিশুকন্যা সোনিয়াকেও মায়ের সঙ্গে জেলে যেতে হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে মাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী নিলুফা খাতুন ‘বীজ’ নামের এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন।

সেই টাকায় জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার কারণে সালাম ও নিলুফা দম্পতির আয় রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লকডাউনে মূল পুঁজি শেষ হয়ে যায়।

সম্প্রতি বীজ এনজিও নিলুফার কাছ থেকে জমা নেওয়া চেক ডিজঅনার করে তা দিয়ে আদালতে মামলা করে। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

রোববার রাতে এনজিওকর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাড়িয়া গ্রাম থেকে এক বছরের শিশুসন্তানসহ নিলুফাকে গ্রেফতার করেন। সোমবার নিলুফাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠান। এ সময় তার শিশুকন্যা সোনিয়াকেও মায়ের সঙ্গে জেলে যেতে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিলুফাকে গ্রেফতার করা হলেও তার কোলে রয়েছে এক বছরের একটি শিশুকন্যা সোনিয়া। সোমবার সেই শিশুকন্যাকেও কঠিন ঠাণ্ডার মধ্যে মায়ের সঙ্গে রাজশাহী জেলে যেতে হয়েছে।

এ নিয়ে বীজ এনজিওর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাড়িয়া গ্রামের মানুষ। লোকজন বিষয়টিকে অমানবিক মনে করে দ্রুত নিলুফাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

গ্রেফতার নিলুফা বেগমের স্বামী আব্দুস সালাম জানান, সাংসারিক নানা দায় দেনা মেটাতে আর করোনায় ছোটখাটো কাজ কারবার বন্ধ হওয়ায় ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারেননি। এই ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে কিছু দিন আগে নিলুফার স্বামী সালাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দেড় মাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সম্প্রতি তারা ঋণের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছিলেন দিনমজুরি করে। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু ঋণের সুদ বাড়তে থাকায় টাকার অংক কমেনি। আর সুদসহ এই টাকা আদায়ে বীজ এনজিও নিলুফাকে গ্রেফতার করায়।

স্থানীয়দের অভিযোগে আরও জানা গেছে, করোনাকালেও সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ঋণের কিস্তি তুলেছে রাজশাহীতে কার্যরত অধিকাংশ এনজিও।

দু একটির ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সরকারি অনুমোদন থাকলেও অধিকাংশরেই নেই।

তারপরও তারা গ্রামাঞ্চলে দেদারসে দাদন স্টাইলে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আবার ঋণের টাকা আদায়ে তারা চেক ডিজঅনার কৌশলকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।

বীজ নামের এনজিওটির লোকজন এলাকায় ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংকে হিসাব খুলতে বলেন। হিসাব খোলা হলে চেকে সই নিয়ে নিজেদের কাছে জমা রাখেন। কোনো গ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে নিজেদের কাছে রাখা ব্যাংকের চেকে ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে ডিজঅনার করান। তার পর মামলা করেন।

তবে যাতায়াতের টাকা না থাকায় সেই মামলাতে আদালতেও যেতে পারেনি নিলুফা বেগম। ফলে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি হয়। তেমনি একটি মামলায় নিলুফা বেগমকে পুলিশ রোববার রাতে গ্রেফতার করেছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি হাসমত আলী বলেন, এখানে পুলিশের কিছু করার ছিল না। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় আসায় নিলুফাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

তবে নিলুফার কোলে এক বছরের শিশুসন্তান থাকায় মানবিক কারণে তাকে থানাহাজতে রাখা হয়নি। শিশুসন্তানটিকে একটি গরম কাপড় দেওয়া হয়েছিল। তাদের ডিউটি অফিসারের কক্ষে রাখা হয়েছিল।

এদিকে বীজ এনজিওর দুর্গাপুর উপজেলা ম্যানেজার মাহিরুল ইসলাম এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ঋণ ব্যবসা করার তাদের অনুমোদন আছে কিনা সেটিও জানা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ঋণ পরিশোধ না করায় জেলে মায়ের সঙ্গী এক বছরের শিশু

আপডেট সময় ০১:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় নিলুফা খাতুন ‘বীজ’ নামের এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন বছর দেড়েক আগে। এনজিওকর্মীরা নিলুফার কাছ থেকে টাকা আদায়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

রোববার রাতে এনজিওকর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রাম থেকে এক বছরের শিশুসন্তানসহ নিলুফাকে গ্রেফতার করেন। সোমবার নিলুফাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এক বছরের শিশুকন্যা সোনিয়াকেও মায়ের সঙ্গে জেলে যেতে হয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে মাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী নিলুফা খাতুন ‘বীজ’ নামের এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন।

সেই টাকায় জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার কারণে সালাম ও নিলুফা দম্পতির আয় রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লকডাউনে মূল পুঁজি শেষ হয়ে যায়।

সম্প্রতি বীজ এনজিও নিলুফার কাছ থেকে জমা নেওয়া চেক ডিজঅনার করে তা দিয়ে আদালতে মামলা করে। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

রোববার রাতে এনজিওকর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাড়িয়া গ্রাম থেকে এক বছরের শিশুসন্তানসহ নিলুফাকে গ্রেফতার করেন। সোমবার নিলুফাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠান। এ সময় তার শিশুকন্যা সোনিয়াকেও মায়ের সঙ্গে জেলে যেতে হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নিলুফাকে গ্রেফতার করা হলেও তার কোলে রয়েছে এক বছরের একটি শিশুকন্যা সোনিয়া। সোমবার সেই শিশুকন্যাকেও কঠিন ঠাণ্ডার মধ্যে মায়ের সঙ্গে রাজশাহী জেলে যেতে হয়েছে।

এ নিয়ে বীজ এনজিওর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাড়িয়া গ্রামের মানুষ। লোকজন বিষয়টিকে অমানবিক মনে করে দ্রুত নিলুফাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

গ্রেফতার নিলুফা বেগমের স্বামী আব্দুস সালাম জানান, সাংসারিক নানা দায় দেনা মেটাতে আর করোনায় ছোটখাটো কাজ কারবার বন্ধ হওয়ায় ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারেননি। এই ঋণ নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে কিছু দিন আগে নিলুফার স্বামী সালাম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দেড় মাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সম্প্রতি তারা ঋণের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করছিলেন দিনমজুরি করে। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি টাকা পরিশোধ করেছেন। কিন্তু ঋণের সুদ বাড়তে থাকায় টাকার অংক কমেনি। আর সুদসহ এই টাকা আদায়ে বীজ এনজিও নিলুফাকে গ্রেফতার করায়।

স্থানীয়দের অভিযোগে আরও জানা গেছে, করোনাকালেও সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ঋণের কিস্তি তুলেছে রাজশাহীতে কার্যরত অধিকাংশ এনজিও।

দু একটির ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার সরকারি অনুমোদন থাকলেও অধিকাংশরেই নেই।

তারপরও তারা গ্রামাঞ্চলে দেদারসে দাদন স্টাইলে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আবার ঋণের টাকা আদায়ে তারা চেক ডিজঅনার কৌশলকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে।

বীজ নামের এনজিওটির লোকজন এলাকায় ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংকে হিসাব খুলতে বলেন। হিসাব খোলা হলে চেকে সই নিয়ে নিজেদের কাছে জমা রাখেন। কোনো গ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে নিজেদের কাছে রাখা ব্যাংকের চেকে ইচ্ছেমতো অংক বসিয়ে ডিজঅনার করান। তার পর মামলা করেন।

তবে যাতায়াতের টাকা না থাকায় সেই মামলাতে আদালতেও যেতে পারেনি নিলুফা বেগম। ফলে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি হয়। তেমনি একটি মামলায় নিলুফা বেগমকে পুলিশ রোববার রাতে গ্রেফতার করেছে।

দুর্গাপুর থানার ওসি হাসমত আলী বলেন, এখানে পুলিশের কিছু করার ছিল না। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় আসায় নিলুফাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

তবে নিলুফার কোলে এক বছরের শিশুসন্তান থাকায় মানবিক কারণে তাকে থানাহাজতে রাখা হয়নি। শিশুসন্তানটিকে একটি গরম কাপড় দেওয়া হয়েছিল। তাদের ডিউটি অফিসারের কক্ষে রাখা হয়েছিল।

এদিকে বীজ এনজিওর দুর্গাপুর উপজেলা ম্যানেজার মাহিরুল ইসলাম এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ঋণ ব্যবসা করার তাদের অনুমোদন আছে কিনা সেটিও জানা যায়নি।