ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পৃথিবীতে জান্নাতি ও জাহান্নামি মানুষের পরিচয়

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

পৃথিবীতে কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামি—এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে, ‘অনন্তর যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা : নাজিয়াত, আয়াত : ৩৭-৪১)

প্রখ্যাত হাদিসগ্রন্থ সহিহ মুসলিম শরিফে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইয়াজ ইবনে হিমার আল মুজাশি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা প্রদানকালে বলেন, সাবধান! আমার রব আজ আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তোমাদের এমন বিষয়ের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো, এই যে আমি আমার বান্দাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছি, তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সব বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের কাছে শয়তান এসে তাদের দ্বিন থেকে সরিয়ে দেয়। আমি যেসব জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদের আমার সঙ্গে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ দেয়, যে বিষয়ে আমি কোনো প্রমাণ পাঠাইনি।

অতঃপর তিনি বলেন, তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং তোমার দ্বারা অন্যদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আমি তোমাকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছি। তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাকে পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, কোরাইশরা যেভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনি তুমিও তাদের বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদের সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো।

তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতি হবে। প্রথমত সেসব মানুষ, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফিক লাভে ধন্য। দ্বিতীয়ত যেসব মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিমদের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয়ত ওই শ্রেণির মানুষ, যারা পূতপবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বলেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামি হবে।

এক. এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাঁবেদার যে না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য।

দুই. এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে, যার লালসা কারো কাছে লুক্কায়িত নয়।

তিন. ওই ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭০৯৯)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পৃথিবীতে জান্নাতি ও জাহান্নামি মানুষের পরিচয়

আপডেট সময় ১০:০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

পৃথিবীতে কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামি—এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে। কোরআনের এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে, ‘অনন্তর যে সীমা লঙ্ঘন করে এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস। পক্ষান্তরে যে তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার আবাস।’ (সুরা : নাজিয়াত, আয়াত : ৩৭-৪১)

প্রখ্যাত হাদিসগ্রন্থ সহিহ মুসলিম শরিফে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইয়াজ ইবনে হিমার আল মুজাশি (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা প্রদানকালে বলেন, সাবধান! আমার রব আজ আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে তোমাদের এমন বিষয়ের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ দিয়েছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো, এই যে আমি আমার বান্দাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছি, তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ। আমি আমার সব বান্দাকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের কাছে শয়তান এসে তাদের দ্বিন থেকে সরিয়ে দেয়। আমি যেসব জিনিস তাদের জন্য বৈধ করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদের আমার সঙ্গে এমন বিষয়ে অংশীদার করার জন্য নির্দেশ দেয়, যে বিষয়ে আমি কোনো প্রমাণ পাঠাইনি।

অতঃপর তিনি বলেন, তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং তোমার দ্বারা অন্যদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আমি তোমাকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছি। তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাকে পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, কোরাইশরা যেভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনি তুমিও তাদের বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। আমি তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদের সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো।

তিন শ্রেণির মানুষ জান্নাতি হবে। প্রথমত সেসব মানুষ, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফিক লাভে ধন্য। দ্বিতীয়ত যেসব মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিমদের প্রতি কোমলচিত্ত। তৃতীয়ত ওই শ্রেণির মানুষ, যারা পূতপবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক। অতঃপর তিনি বলেন, পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামি হবে।

এক. এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের এমন তাঁবেদার যে না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনৈশ্বর্য।

দুই. এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে, যার লালসা কারো কাছে লুক্কায়িত নয়।

তিন. ওই ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে। অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৭০৯৯)