ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ঝুড়িতে সীমান্ত পার যমজ নবজাতকের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোদ-বৃষ্টিতে পাহাড়, বন-জঙ্গলসহ বিভিন্ন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও এর আশপাশ এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বাংলাদেশের আশ্রয় প্রার্থী। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারে করে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বহন করছে সন্তান, ছেলের কাঁধে চড়ে বাবার নিরাপদে ফেরা। এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যাতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের দু’টি রোহিঙ্গা যমজ শিশু একটি ঝুড়িতে পাশাপাশি শুয়ে আছে। পাশে একজন তাদের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে মুখমণ্ডল দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসা এই দুই শিশুর ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের জন্য সহানুভূতি প্রত্যাশা করা হয়েছে। অপর একটি দৃশ্যে দুই যমজ শিশুকে দাড়িপাল্লা চড়িয়ে ওজন মাপতে দেখা যায়। পরক্ষণেই চিকিৎসক দুই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার থেকে নবজাতক দুই যমজ শিশুকে ঝুড়িতে বহন করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আনা হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ঝুড়িতে সীমান্ত পার যমজ নবজাতকের

আপডেট সময় ১১:২৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোদ-বৃষ্টিতে পাহাড়, বন-জঙ্গলসহ বিভিন্ন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও এর আশপাশ এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বাংলাদেশের আশ্রয় প্রার্থী। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারে করে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বহন করছে সন্তান, ছেলের কাঁধে চড়ে বাবার নিরাপদে ফেরা। এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যাতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের দু’টি রোহিঙ্গা যমজ শিশু একটি ঝুড়িতে পাশাপাশি শুয়ে আছে। পাশে একজন তাদের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে মুখমণ্ডল দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসা এই দুই শিশুর ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের জন্য সহানুভূতি প্রত্যাশা করা হয়েছে। অপর একটি দৃশ্যে দুই যমজ শিশুকে দাড়িপাল্লা চড়িয়ে ওজন মাপতে দেখা যায়। পরক্ষণেই চিকিৎসক দুই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার থেকে নবজাতক দুই যমজ শিশুকে ঝুড়িতে বহন করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আনা হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।