ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ব্যর্থতা : পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, হটলাইন চালু করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির অভিযোগ,ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দায়িত্ব নিল আমিরাত মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট, দাবি ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান : লারিজানি

ঝুড়িতে সীমান্ত পার যমজ নবজাতকের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোদ-বৃষ্টিতে পাহাড়, বন-জঙ্গলসহ বিভিন্ন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও এর আশপাশ এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বাংলাদেশের আশ্রয় প্রার্থী। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারে করে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বহন করছে সন্তান, ছেলের কাঁধে চড়ে বাবার নিরাপদে ফেরা। এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যাতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের দু’টি রোহিঙ্গা যমজ শিশু একটি ঝুড়িতে পাশাপাশি শুয়ে আছে। পাশে একজন তাদের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে মুখমণ্ডল দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসা এই দুই শিশুর ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের জন্য সহানুভূতি প্রত্যাশা করা হয়েছে। অপর একটি দৃশ্যে দুই যমজ শিশুকে দাড়িপাল্লা চড়িয়ে ওজন মাপতে দেখা যায়। পরক্ষণেই চিকিৎসক দুই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার থেকে নবজাতক দুই যমজ শিশুকে ঝুড়িতে বহন করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আনা হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঝুড়িতে সীমান্ত পার যমজ নবজাতকের

আপডেট সময় ১১:২৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোদ-বৃষ্টিতে পাহাড়, বন-জঙ্গলসহ বিভিন্ন দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত ও এর আশপাশ এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে।

শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই বাংলাদেশের আশ্রয় প্রার্থী। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ভারে করে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বহন করছে সন্তান, ছেলের কাঁধে চড়ে বাবার নিরাপদে ফেরা। এরই মধ্যে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচআর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যাতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক দিনের দু’টি রোহিঙ্গা যমজ শিশু একটি ঝুড়িতে পাশাপাশি শুয়ে আছে। পাশে একজন তাদের ওপর থেকে কম্বল সরিয়ে মুখমণ্ডল দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আসা এই দুই শিশুর ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের দুঃসহ মানবেতর জীবনের জন্য সহানুভূতি প্রত্যাশা করা হয়েছে। অপর একটি দৃশ্যে দুই যমজ শিশুকে দাড়িপাল্লা চড়িয়ে ওজন মাপতে দেখা যায়। পরক্ষণেই চিকিৎসক দুই শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ভিডিও দেখে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমার থেকে নবজাতক দুই যমজ শিশুকে ঝুড়িতে বহন করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আনা হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে কোনো এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ নিহত হন ৭০ জনের বেশি মানুষ। ওই হামলার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে দায়ী করে তাদের ওপর নির্বাচারে নির্যাতন ও হত্যা শুরু করে। এরপর থেকেই রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।