ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বৌভাতের অনুষ্ঠানে হল বরের জানাজা, কনে গেল হাসপাতালে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌভাতের অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম চলছিল বেশ ধুমধাম করে। কনেপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত হন বরের বাড়িতে। সেই অনুষ্ঠানেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বর মারা গেছেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলেই হয় বরের জানাজা।

এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামে। বিয়ের সব আয়োজন রেখেই ওই দিন বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বর মো. রফিকুল ইসলামের (২৫) লাশ।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এ রকম প্রথম কোনো ঘটনায় সর্বত্রই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামের সফেজ মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের মো. মন্নান মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তারের (১৮) বিয়ে হয়। ওই দিনই মেয়েকে বউ সাজিয়ে নিয়ে আসা হয় বরের বাড়ি বাজিতা গ্রামে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন পর পর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। রফিকুল অসুস্থ থাকায় এতদিন বিয়ে করেননি। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সোমবার অনুষ্ঠান করে নববধূকে বাড়িতে তুলে আনেন তিনি। বুধবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন আসেন অনুষ্ঠানে। এমন আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ করে সকাল ১০টার দিকে রফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে নির্ধারিত তারিখে বুধবার বর রফিকের বাড়িতে কনে পক্ষের জন্য বৌভাতের আয়োজন করা হয়। বৌভাতে কনেপক্ষের লোকজন বরের বাড়িতে পৌঁছলেই খবর আসে রফিক আর বেঁচে নেই। বিয়ের আনন্দ মাতমে পরিণত হয়। আর স্বামীর মৃত্যুর খবরে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নববধূ ময়না আক্তার। তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা উভয়েই পাগলপ্রায়। আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। মেহমানদের জন্য রান্না করা খাবার বাড়ির আঙিনায় থরে থরে সাজানো পাতিলেই রয়ে গেছে।

মৃত রফিকুল ইসলামের চাচা পশ্চিম চৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনসার উদ্দিন জানান, রফিকের বাবা সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে রেকর্ড অফিসে (সিভিল বিভাগ) কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মা বাড়িতে থাকতেন। রফিক ও আমি রোববার একত্রে বিয়ের সব কেনাকাটা করি কিন্তু আজ আমাদের মাঝে সে আর নেই। সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

বৌভাতের অনুষ্ঠানে হল বরের জানাজা, কনে গেল হাসপাতালে

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌভাতের অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম চলছিল বেশ ধুমধাম করে। কনেপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত হন বরের বাড়িতে। সেই অনুষ্ঠানেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বর মারা গেছেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলেই হয় বরের জানাজা।

এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামে। বিয়ের সব আয়োজন রেখেই ওই দিন বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বর মো. রফিকুল ইসলামের (২৫) লাশ।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এ রকম প্রথম কোনো ঘটনায় সর্বত্রই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামের সফেজ মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের মো. মন্নান মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তারের (১৮) বিয়ে হয়। ওই দিনই মেয়েকে বউ সাজিয়ে নিয়ে আসা হয় বরের বাড়ি বাজিতা গ্রামে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন পর পর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। রফিকুল অসুস্থ থাকায় এতদিন বিয়ে করেননি। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সোমবার অনুষ্ঠান করে নববধূকে বাড়িতে তুলে আনেন তিনি। বুধবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন আসেন অনুষ্ঠানে। এমন আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ করে সকাল ১০টার দিকে রফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে নির্ধারিত তারিখে বুধবার বর রফিকের বাড়িতে কনে পক্ষের জন্য বৌভাতের আয়োজন করা হয়। বৌভাতে কনেপক্ষের লোকজন বরের বাড়িতে পৌঁছলেই খবর আসে রফিক আর বেঁচে নেই। বিয়ের আনন্দ মাতমে পরিণত হয়। আর স্বামীর মৃত্যুর খবরে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নববধূ ময়না আক্তার। তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা উভয়েই পাগলপ্রায়। আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। মেহমানদের জন্য রান্না করা খাবার বাড়ির আঙিনায় থরে থরে সাজানো পাতিলেই রয়ে গেছে।

মৃত রফিকুল ইসলামের চাচা পশ্চিম চৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনসার উদ্দিন জানান, রফিকের বাবা সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে রেকর্ড অফিসে (সিভিল বিভাগ) কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মা বাড়িতে থাকতেন। রফিক ও আমি রোববার একত্রে বিয়ের সব কেনাকাটা করি কিন্তু আজ আমাদের মাঝে সে আর নেই। সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।