ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম আমরা এখন আর আইসিইউতে নেই, কেবিনে উঠে এসেছি: অর্থ উপদেষ্টা ‘বন্দি থাকাকালে বেগম জিয়ার পক্ষে কথা বলার কেউই ছিলেন না’:আসিফ নজরুল নোয়াখালীকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে চট্টগ্রাম রয়্যালস খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা জোট নয়, এককভাবেই নির্বাচনে লড়বে ইসলামী আন্দোলন ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ মিশনে নিয়োগ

বৌভাতের অনুষ্ঠানে হল বরের জানাজা, কনে গেল হাসপাতালে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌভাতের অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম চলছিল বেশ ধুমধাম করে। কনেপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত হন বরের বাড়িতে। সেই অনুষ্ঠানেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বর মারা গেছেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলেই হয় বরের জানাজা।

এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামে। বিয়ের সব আয়োজন রেখেই ওই দিন বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বর মো. রফিকুল ইসলামের (২৫) লাশ।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এ রকম প্রথম কোনো ঘটনায় সর্বত্রই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামের সফেজ মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের মো. মন্নান মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তারের (১৮) বিয়ে হয়। ওই দিনই মেয়েকে বউ সাজিয়ে নিয়ে আসা হয় বরের বাড়ি বাজিতা গ্রামে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন পর পর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। রফিকুল অসুস্থ থাকায় এতদিন বিয়ে করেননি। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সোমবার অনুষ্ঠান করে নববধূকে বাড়িতে তুলে আনেন তিনি। বুধবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন আসেন অনুষ্ঠানে। এমন আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ করে সকাল ১০টার দিকে রফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে নির্ধারিত তারিখে বুধবার বর রফিকের বাড়িতে কনে পক্ষের জন্য বৌভাতের আয়োজন করা হয়। বৌভাতে কনেপক্ষের লোকজন বরের বাড়িতে পৌঁছলেই খবর আসে রফিক আর বেঁচে নেই। বিয়ের আনন্দ মাতমে পরিণত হয়। আর স্বামীর মৃত্যুর খবরে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নববধূ ময়না আক্তার। তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা উভয়েই পাগলপ্রায়। আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। মেহমানদের জন্য রান্না করা খাবার বাড়ির আঙিনায় থরে থরে সাজানো পাতিলেই রয়ে গেছে।

মৃত রফিকুল ইসলামের চাচা পশ্চিম চৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনসার উদ্দিন জানান, রফিকের বাবা সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে রেকর্ড অফিসে (সিভিল বিভাগ) কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মা বাড়িতে থাকতেন। রফিক ও আমি রোববার একত্রে বিয়ের সব কেনাকাটা করি কিন্তু আজ আমাদের মাঝে সে আর নেই। সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ

বৌভাতের অনুষ্ঠানে হল বরের জানাজা, কনে গেল হাসপাতালে

আপডেট সময় ০৮:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৌভাতের অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম চলছিল বেশ ধুমধাম করে। কনেপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দ উল্লাস করে গাড়িবহর নিয়ে উপস্থিত হন বরের বাড়িতে। সেই অনুষ্ঠানেই খবর ছড়িয়ে পড়ে বর মারা গেছেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলেই হয় বরের জানাজা।

এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামে। বিয়ের সব আয়োজন রেখেই ওই দিন বিকাল ৫টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বর মো. রফিকুল ইসলামের (২৫) লাশ।

মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এ রকম প্রথম কোনো ঘটনায় সর্বত্রই শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের বাজিতা গ্রামের সফেজ মিয়ার ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের মো. মন্নান মিয়ার মেয়ে ময়না আক্তারের (১৮) বিয়ে হয়। ওই দিনই মেয়েকে বউ সাজিয়ে নিয়ে আসা হয় বরের বাড়ি বাজিতা গ্রামে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন পর পর তার রক্ত পরিবর্তন করতে হয়। রফিকুল অসুস্থ থাকায় এতদিন বিয়ে করেননি। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। সোমবার অনুষ্ঠান করে নববধূকে বাড়িতে তুলে আনেন তিনি। বুধবার ছেলের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। মেয়ের বাড়ির লোকজন, স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন আসেন অনুষ্ঠানে। এমন আনন্দঘন পরিবেশে হঠাৎ করে সকাল ১০টার দিকে রফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে নির্ধারিত তারিখে বুধবার বর রফিকের বাড়িতে কনে পক্ষের জন্য বৌভাতের আয়োজন করা হয়। বৌভাতে কনেপক্ষের লোকজন বরের বাড়িতে পৌঁছলেই খবর আসে রফিক আর বেঁচে নেই। বিয়ের আনন্দ মাতমে পরিণত হয়। আর স্বামীর মৃত্যুর খবরে জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নববধূ ময়না আক্তার। তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা উভয়েই পাগলপ্রায়। আত্মীয়স্বজনসহ এলাকাবাসীর সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা নেই। মেহমানদের জন্য রান্না করা খাবার বাড়ির আঙিনায় থরে থরে সাজানো পাতিলেই রয়ে গেছে।

মৃত রফিকুল ইসলামের চাচা পশ্চিম চৈতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনসার উদ্দিন জানান, রফিকের বাবা সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে রেকর্ড অফিসে (সিভিল বিভাগ) কর্মরত আছেন। একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মা বাড়িতে থাকতেন। রফিক ও আমি রোববার একত্রে বিয়ের সব কেনাকাটা করি কিন্তু আজ আমাদের মাঝে সে আর নেই। সব কিছুই শেষ হয়ে গেল।