ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোহিঙ্গাদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাখাইন ছাড়তে মাইকিং

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ যেন কোনো মতেই থামছে না। রাখাইন রাজ্যে অবশিষ্ট যেসব রোহিঙ্গা এখনো দুঃসাহসের সঙ্গে রয়ে গেছেন তাদের আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যে এলাকা ছাড়তে আল্টিমেটাম দিয়ে মাইকিং শুরু করেছে সামরিক জান্তা। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে এ আহ্বান জানানো হচ্ছে। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া মাইকিং রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে মংডু, রাচিদং ও বুচিদং তিনটি শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

মায়ানমার ছাড়ার মাইকিংয়ে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মায়ানমারে অবস্থানকারী সব রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগ করতে হবে। আরাকানের স্বাধীনতাকামী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) তথা আরসা একমাসের জন্য অস্ত্র বিরতি ঘোষণা দেয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষে এ মাইকিং শুরু হয়েছে। মায়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংগ্রামরত আরসার পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে, মানবিক ত্রাণ সহায়তা শুরু করতেই তারা অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আজ বিভীষিকাময় অবস্থা। গত দুসপ্তাহে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আর বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর চালানো ‘গণহত্যায়’ আরাকানের সর্বত্র লাশ আর লাশ, পথে প্রান্থরে মুসলিম রোহিঙ্গাদের রক্তের বন্যা, আগুনে পোড়া লাশের দুর্গন্ধে আরাকানের বাতাস দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। এসব কিছু গোপন করতেই সু চির সরকারের বাহিনী সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মীসহ আন্তর্জাতিক মহলের সদস্যদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাশূন্য পাড়ায় লাল পতাকা, রাখাইনে যেসব পাড়া আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রাচিদং জেলার ধইনচ্যা পাড়া, বুচিদংয়ের তামাবিল, কইল্যাভাঙ্গা, রাইচং, মংডু জেলার নারিনচং, মগ্নিপাড়া, সিকদারবিল, পেরামপ্রু, নাইছ্যাপুর, শীলখালী, ধুমছেপাড়া, কোয়াংসং ও আদং গ্রামসহ যেসব পল্লী রোহিঙ্গাশূন্য করা হয়েছে, ওসব এলাকায় সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে লাল পতাকা ওড়াছে।

পাহারায় রাখা হয়েছে স্থানীয় রাখাইন যুবকদের। যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে না পারে। ফলে বাধ্য হয়েই বন, জঙ্গল ও পাহাড়-পর্বতে যারা লুকিয়েছিল তারাও এখন বাংলাদেশমুখী হয়েছে। সবমিলেই সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গাদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রাখাইন ছাড়তে মাইকিং

আপডেট সময় ০৫:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মায়ানমারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞ যেন কোনো মতেই থামছে না। রাখাইন রাজ্যে অবশিষ্ট যেসব রোহিঙ্গা এখনো দুঃসাহসের সঙ্গে রয়ে গেছেন তাদের আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যে এলাকা ছাড়তে আল্টিমেটাম দিয়ে মাইকিং শুরু করেছে সামরিক জান্তা। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে এ আহ্বান জানানো হচ্ছে। শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া মাইকিং রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে মংডু, রাচিদং ও বুচিদং তিনটি শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

মায়ানমার ছাড়ার মাইকিংয়ে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মায়ানমারে অবস্থানকারী সব রোহিঙ্গাদের দেশ ত্যাগ করতে হবে। আরাকানের স্বাধীনতাকামী গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ) তথা আরসা একমাসের জন্য অস্ত্র বিরতি ঘোষণা দেয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষে এ মাইকিং শুরু হয়েছে। মায়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংগ্রামরত আরসার পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে, মানবিক ত্রাণ সহায়তা শুরু করতেই তারা অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আজ বিভীষিকাময় অবস্থা। গত দুসপ্তাহে রাষ্ট্রীয় বাহিনী আর বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর চালানো ‘গণহত্যায়’ আরাকানের সর্বত্র লাশ আর লাশ, পথে প্রান্থরে মুসলিম রোহিঙ্গাদের রক্তের বন্যা, আগুনে পোড়া লাশের দুর্গন্ধে আরাকানের বাতাস দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। এসব কিছু গোপন করতেই সু চির সরকারের বাহিনী সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মীসহ আন্তর্জাতিক মহলের সদস্যদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

জানা যাচ্ছে, রোহিঙ্গাশূন্য পাড়ায় লাল পতাকা, রাখাইনে যেসব পাড়া আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রাচিদং জেলার ধইনচ্যা পাড়া, বুচিদংয়ের তামাবিল, কইল্যাভাঙ্গা, রাইচং, মংডু জেলার নারিনচং, মগ্নিপাড়া, সিকদারবিল, পেরামপ্রু, নাইছ্যাপুর, শীলখালী, ধুমছেপাড়া, কোয়াংসং ও আদং গ্রামসহ যেসব পল্লী রোহিঙ্গাশূন্য করা হয়েছে, ওসব এলাকায় সেনাবাহিনী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে লাল পতাকা ওড়াছে।

পাহারায় রাখা হয়েছে স্থানীয় রাখাইন যুবকদের। যাতে রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে না পারে। ফলে বাধ্য হয়েই বন, জঙ্গল ও পাহাড়-পর্বতে যারা লুকিয়েছিল তারাও এখন বাংলাদেশমুখী হয়েছে। সবমিলেই সেখানে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।