ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

৩৯ আফগানকে বেআইনিভাবে হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্পেশাল ফোর্স

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

যুদ্ধে নয়, ঠাণ্ডা মাথায় সাধারণ আফগান এবং যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করেছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মি। সম্প্রতি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীরা শাস্তি পাবেন।

২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেনা আফগানিস্তানে গিয়েছিল। ন্যাটো বাহিনীর হয়ে আফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন লড়াই করেছে তারা। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সেই ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে সেনা বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে।

বস্তুত, ঘটনাগুলো কোনোদিন জনসমক্ষে আসতোই না। বছরকয়েক আগে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে কিছু ফাইল ফাঁস হয়ে যায়। আফগান ফাইল নামে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে তার তথ্য। তাতেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের উপর কী ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট ফোর্সের কিছু সেনা। তারপরেই তদন্ত শুরু হয়। এবং সত্য প্রকাশ্যে আসে।

অস্ট্রেলিয়া এলিট আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল অ্যাঙ্গুস ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, অন্তত ৩৯ জন সাধারণ আফগানকে হত্যা করেছিল সেনা বাহিনী। নিহতদের কেউ সাধারণ চাষি, কেউ শিক্ষক। যুদ্ধের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

অস্ট্রেলিয়া পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল এই ঘটনার তদন্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত লাগাতার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, এত বড় নীতিহীনতার অভিযোগ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সেনার বিরুদ্ধে ওঠেনি। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, দোষী সেনা অফিসাররা একাধিক যুদ্ধবন্দির উপরেও অত্যাচার চালিয়েছেন। বন্দিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে খুন করে ভুয়া রিপোর্ট লেখা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তিদের।

যুদ্ধক্ষেত্রই নয়, এমন বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং খুন করা হয়েছে। মোট ২৩টি ঘটনায় ৩৯জনকে এ ভাবে খুন করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১২ এবং ১৩ সালে সব চেয়ে বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত মোট ১৯ জন অফিসারকে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তাঁদের বিচার পর্ব শুরু হবে।

ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, সকলকেই অস্ট্রেলিয়ার সেনা বাহিনীর আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে একটি বিষয়ে সেনা এবং পুলিশ কেউই কোনো কথা বলতে চায়নি। কী ভাবে বাইরে এলো আফগান ফাইল? কারা তা সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দিল? আফগান ফাইল প্রকাশ্যে না এলে কি পুলিশ এবং সেনা ঘটনার তদন্ত করত?

বস্তুত, শুধু অস্ট্রেলিয়ার সেনা নয়, অ্যামেরিকা সহ একাধিক দেশের সেনার বিরুদ্ধে এই ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু কোনো সেনাই এতদিন পর্যন্ত পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৩৯ আফগানকে বেআইনিভাবে হত্যা করেছে অস্ট্রেলিয়ার স্পেশাল ফোর্স

আপডেট সময় ০১:৩১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

যুদ্ধে নয়, ঠাণ্ডা মাথায় সাধারণ আফগান এবং যুদ্ধবন্দিদের হত্যা করেছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট আর্মি। সম্প্রতি সে কথা স্বীকার করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। সেনা বাহিনীর উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীরা শাস্তি পাবেন।

২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেনা আফগানিস্তানে গিয়েছিল। ন্যাটো বাহিনীর হয়ে আফগানিস্তানে দীর্ঘ দিন লড়াই করেছে তারা। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সেই ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে সেনা বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে।

বস্তুত, ঘটনাগুলো কোনোদিন জনসমক্ষে আসতোই না। বছরকয়েক আগে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে কিছু ফাইল ফাঁস হয়ে যায়। আফগান ফাইল নামে সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে তার তথ্য। তাতেই দেখা যায়, সাধারণ মানুষের উপর কী ভাবে অত্যাচার চালিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার এলিট ফোর্সের কিছু সেনা। তারপরেই তদন্ত শুরু হয়। এবং সত্য প্রকাশ্যে আসে।

অস্ট্রেলিয়া এলিট আর্মির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জেনারেল অ্যাঙ্গুস ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, অন্তত ৩৯ জন সাধারণ আফগানকে হত্যা করেছিল সেনা বাহিনী। নিহতদের কেউ সাধারণ চাষি, কেউ শিক্ষক। যুদ্ধের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

অস্ট্রেলিয়া পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল এই ঘটনার তদন্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত লাগাতার এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সেনা। ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, এত বড় নীতিহীনতার অভিযোগ এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সেনার বিরুদ্ধে ওঠেনি। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, দোষী সেনা অফিসাররা একাধিক যুদ্ধবন্দির উপরেও অত্যাচার চালিয়েছেন। বন্দিদের উপর অত্যাচার চালিয়ে খুন করে ভুয়া রিপোর্ট লেখা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তিদের।

যুদ্ধক্ষেত্রই নয়, এমন বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং খুন করা হয়েছে। মোট ২৩টি ঘটনায় ৩৯জনকে এ ভাবে খুন করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১২ এবং ১৩ সালে সব চেয়ে বেশি এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এখনো পর্যন্ত মোট ১৯ জন অফিসারকে এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তাঁদের বিচার পর্ব শুরু হবে।

ক্যাম্পবেল জানিয়েছেন, সকলকেই অস্ট্রেলিয়ার সেনা বাহিনীর আইন অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে একটি বিষয়ে সেনা এবং পুলিশ কেউই কোনো কথা বলতে চায়নি। কী ভাবে বাইরে এলো আফগান ফাইল? কারা তা সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দিল? আফগান ফাইল প্রকাশ্যে না এলে কি পুলিশ এবং সেনা ঘটনার তদন্ত করত?

বস্তুত, শুধু অস্ট্রেলিয়ার সেনা নয়, অ্যামেরিকা সহ একাধিক দেশের সেনার বিরুদ্ধে এই ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছে। কিন্তু কোনো সেনাই এতদিন পর্যন্ত পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি।