ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর শরীরে আগুন দিল বান্ধবী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে স্বামীর সঙ্গে বান্ধবীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই বান্ধবী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বান্ধবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া পদ্মাপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গ্রহবধূকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ওই গৃহবধূর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকালে গুরুত্বর দগ্ধ রেখার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ। দগ্ধ গৃহবধূর রেখা (৪০) নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার কামরুল ইসলামের স্ত্রী। রেখার বাবার বাড়ি নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। আর রেখার বান্ধবির নাম ফেরদৌসি। তার বাড়ি দরগাপাড়া এলাকায়।

এদিকে, এ ঘটনায় রেখা বেগমের স্বামী কামরুল হুদা ও বান্ধবী ফেরদৌসিকে আসামী করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেখা বেগমের বড় ভাই নওশাদ আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি কামরুল হুদা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ।

তবে গ্রেফতারের পর ফেরদৌসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সে ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিল না।

রেখার ভাই নওশাদ আলী জানান, তার বোন জামাই কামরুল ইসলামের সঙ্গে রেখার ঘনিষ্ঠ বান্ধবি ফেরদৌসির পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেখা তাদের পরকিয়ায় বাধা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে দরগাপাড়া পদ্মা পাড়ে একা পেয়ে ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, পরকিয়ার জের ধরে রেখার সংসারে প্রায় সাত বছর ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এ থেকে পরিত্রান পেতে রেখা শাহ মখদুম রূপস (রা.) মাজারে মাগরিবের নামাজ আদায় ও দোয়া খায়ের করতে গিয়েছিল। নামাজ আদায় করে দরগা থেকে বের হয়ে পদ্মা পাড়ের দিকে যেতেই ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীন বলেন, তারা কয়েক বন্ধু মিলে পদ্মার পাড়ে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় বাঁধের উপরে এক নারীর শরীরে আগুন জ্বলতে তারা দেখতে পায়। ওই নারী শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। তার কাছ থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ রেখার জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। ফেরদৌসি তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে রেখা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেরদৌসিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান থানার এই কর্মকর্তা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর শরীরে আগুন দিল বান্ধবী

আপডেট সময় ০৫:০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীতে স্বামীর সঙ্গে বান্ধবীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় এক গৃহবধূকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তারই বান্ধবী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বান্ধবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া পদ্মাপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় গ্রহবধূকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে। ওই গৃহবধূর শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসকরা। শুক্রবার সকালে গুরুত্বর দগ্ধ রেখার জবানবন্দি রেকর্ড করেছে পুলিশ। দগ্ধ গৃহবধূর রেখা (৪০) নগরীর তেরখাদিয়া এলাকার কামরুল ইসলামের স্ত্রী। রেখার বাবার বাড়ি নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায়। আর রেখার বান্ধবির নাম ফেরদৌসি। তার বাড়ি দরগাপাড়া এলাকায়।

এদিকে, এ ঘটনায় রেখা বেগমের স্বামী কামরুল হুদা ও বান্ধবী ফেরদৌসিকে আসামী করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রেখা বেগমের বড় ভাই নওশাদ আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি কামরুল হুদা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বোয়ালিয়া থানার ওসি আমান উল্লাহ।

তবে গ্রেফতারের পর ফেরদৌসি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সে ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিল না।

রেখার ভাই নওশাদ আলী জানান, তার বোন জামাই কামরুল ইসলামের সঙ্গে রেখার ঘনিষ্ঠ বান্ধবি ফেরদৌসির পরকিয়ার সম্পর্ক তৈরী হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রেখা তাদের পরকিয়ায় বাধা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে দরগাপাড়া পদ্মা পাড়ে একা পেয়ে ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরও বলেন, পরকিয়ার জের ধরে রেখার সংসারে প্রায় সাত বছর ধরে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এ থেকে পরিত্রান পেতে রেখা শাহ মখদুম রূপস (রা.) মাজারে মাগরিবের নামাজ আদায় ও দোয়া খায়ের করতে গিয়েছিল। নামাজ আদায় করে দরগা থেকে বের হয়ে পদ্মা পাড়ের দিকে যেতেই ফেরদৌসি রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীন বলেন, তারা কয়েক বন্ধু মিলে পদ্মার পাড়ে বসে গল্প করছিলাম। এ সময় বাঁধের উপরে এক নারীর শরীরে আগুন জ্বলতে তারা দেখতে পায়। ওই নারী শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। তার কাছ থেকে বোরখা পরিহিত এক নারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক আফরোজা নাজনিন জানান, রেখার শরীরের ৮০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আমান উল্লাহ জানান, হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ রেখার জবানবন্দী নেয়া হয়েছে। ফেরদৌসি তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে রেখা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফেরদৌসিকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান থানার এই কর্মকর্তা।