ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ। ১৯৮৪ সাল থেকে মসজিদটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের মতে, বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী এবং ব্যাতিক্রমী কারুকার্যের কারণে এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য কীর্তি হিসেবে আজও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

গবেষণায় দেখা যায় যে, অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে ৭৮৬ সালে খলিফা আব্দুর রহমান (প্রথম) এটির নির্মাণ শুরু করেন। ইতিহাস বলে খলিফা নিজেই মসজিদ নির্মাণ কাজে শ্রম দিতেন।

৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আব্দুর রহমানের ছেলে খলিফা হিশাম মসজিদটির প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করেন। তখন কর্ডোবা মসজিদের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে ৬০০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫০ ফুট।

নবম শতাব্দীতে খলিফা আবদুর রহমানের (তৃতীয়) তত্ত্বাবধানে পরিপূর্ণভাবে মসজিদটির মির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ স্কয়ার ফিট।

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম শাসকরা স্পেনের ক্ষমতা হারালে মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগীর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কর্ডোবা মসজিদের দরজা। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের গির্জায় পরিণত হয় মুসলমানদের টানা ৭০০ বছরেরও অধিক সময়ের সিজদার এই পবিত্র ভূমি।

একদিন যে মসজিদ সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সভ্যতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগীর জন্য তাতে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আজ পর্যন্ত সে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির রয়েছে এ মসজিদের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক। এ মসজিদেই ইমাম কুরতুবি (রহ.) তার রচিত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির পাঠদান করতেন।

এখানে বসে দরস দিতেন ইমাম ইবনে আরাবি (রহ.), ইমাম বাকি ইবনে মাখলাদ (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহিয়া আন্দালুসি (রহ.), ইবনে হাজাম জাহেরিসহ (রহ.) অসংখ্য জগদ্বিখ্যাত আলেম ও সুফিরা।

আজও স্পেনের অন্যতম আকর্ষণ হল ঐতিহাসিক কুরতুবা মসজিদ। কুরতুবা মসজিদই স্পেনকে পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় দেশের মর্যাদায় সমাসীন করে রেখেছে। আজও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কর্ডোবা পৃথিবীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃত।

ঐতিহাসিক কর্ডোবা মসজিদের প্রতিটি দৃশ্য মুসলিম দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করে।

পৃথিবীর সব দেশের সব মুসলমানদের মনের গহীনে লালিত স্বপ্ন- নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দিন আবারও কর্ডোবার মসজিদ থেকে ছড়িয়ে পড়বে সুমধুর তৌহিদের বাণী- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আজান ধ্বনি।

পরিচালক: আল কোরআন ইন্সটিটিউট, ঢাকা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ

আপডেট সময় ০৬:৪৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

মুসলিম সভ্যতার অনন্য নিদর্শন স্পেনের কর্ডোবা মসজিদ। ১৯৮৪ সাল থেকে মসজিদটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত।

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের মতে, বিস্ময়কর নির্মাণশৈলী এবং ব্যাতিক্রমী কারুকার্যের কারণে এ মসজিদটি মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য কীর্তি হিসেবে আজও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

গবেষণায় দেখা যায় যে, অষ্টম শতাব্দীর শেষের দিকে ৭৮৬ সালে খলিফা আব্দুর রহমান (প্রথম) এটির নির্মাণ শুরু করেন। ইতিহাস বলে খলিফা নিজেই মসজিদ নির্মাণ কাজে শ্রম দিতেন।

৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আব্দুর রহমানের ছেলে খলিফা হিশাম মসজিদটির প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করেন। তখন কর্ডোবা মসজিদের আয়তন ছিল দৈর্ঘ্যে ৬০০ ফুট এবং প্রস্থে ৩৫০ ফুট।

নবম শতাব্দীতে খলিফা আবদুর রহমানের (তৃতীয়) তত্ত্বাবধানে পরিপূর্ণভাবে মসজিদটির মির্মাণ কাজ শেষ হয়। তখন মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ স্কয়ার ফিট।

১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম শাসকরা স্পেনের ক্ষমতা হারালে মুসলমানদের ইবাদত বন্দেগীর জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় কর্ডোবা মসজিদের দরজা। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের গির্জায় পরিণত হয় মুসলমানদের টানা ৭০০ বছরেরও অধিক সময়ের সিজদার এই পবিত্র ভূমি।

একদিন যে মসজিদ সমগ্র মুসলিম দুনিয়ার সভ্যতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগীর জন্য তাতে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আজ পর্যন্ত সে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

কালজয়ী তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির রয়েছে এ মসজিদের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্ক। এ মসজিদেই ইমাম কুরতুবি (রহ.) তার রচিত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে কুরতুবির পাঠদান করতেন।

এখানে বসে দরস দিতেন ইমাম ইবনে আরাবি (রহ.), ইমাম বাকি ইবনে মাখলাদ (রহ.), ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহিয়া আন্দালুসি (রহ.), ইবনে হাজাম জাহেরিসহ (রহ.) অসংখ্য জগদ্বিখ্যাত আলেম ও সুফিরা।

আজও স্পেনের অন্যতম আকর্ষণ হল ঐতিহাসিক কুরতুবা মসজিদ। কুরতুবা মসজিদই স্পেনকে পৃথিবীর অন্যতম দর্শনীয় দেশের মর্যাদায় সমাসীন করে রেখেছে। আজও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে কর্ডোবা পৃথিবীর আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃত।

ঐতিহাসিক কর্ডোবা মসজিদের প্রতিটি দৃশ্য মুসলিম দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের হৃদয় আন্দোলিত করে।

পৃথিবীর সব দেশের সব মুসলমানদের মনের গহীনে লালিত স্বপ্ন- নিশ্চয়ই কোনো না কোনো দিন আবারও কর্ডোবার মসজিদ থেকে ছড়িয়ে পড়বে সুমধুর তৌহিদের বাণী- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার আজান ধ্বনি।

পরিচালক: আল কোরআন ইন্সটিটিউট, ঢাকা