ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে এনআইডি নকল, অন্যের ২৫ কোটি টাকার জমি বিক্রি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

কম্পিউটারের দোকানে বসে নয়, নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে নিয়েছে একটি চক্র। সেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দামের জমি। হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা আরও একশো কোটি টাকার সম্পত্তি। ঘটনাটি কুষ্টিয়ার।

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর মোড়। পাশেই দেড় বিঘার এই জমিটির দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকা। কিছুদিন আগে এটি বিক্রি হয় মাত্র ৭৭ লাখে। অথচ কিছুই জানতেন না জমির মালিক।

জমির উত্তরাধিকারী এম এম ওয়াদুদ জানান, আমরা এই জমি বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার মায়ের এনআইডি জাল করে ওই মহিলা জমি বিক্রি করেছে।

মোকসুদার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসন্ধান করে জানা যায়, জমি বিক্রি হওয়ার সময় দলিলে যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা মোকসুদা নামের আরেকটি পরিচয়পত্র। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে দেখা যায়, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যই সার্ভারে আছে। তাহলে, দুটি আসল হয় কীভাবে?

জমির ক্রেতা মহিবুলের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি জমি কার কাছ থেকে কিনেছেন, তখন তিনি বলেন, আমি মোকসুদার কাছ থেকে জমি কিনেছি। তার বাড়ি পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে।

পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মোকসুদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,
মোকসুদা নামের এই ব্যক্তিকে আমি চিনি না। আমার নয়টি গ্রামের কেউ এই মহিলাকে এখানে দেখেনি।

তদন্তে জানা যায়, কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার জরিনা খাতুন তার একটি পরিচয়পত্র থাকার পরও, ২০১৮ সালের হালনাগাদে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র বের করেন। জরিনা বনে যান মোকসুদা। তারপর জমি বিক্রি। এই জরিনাও মারা যান কিছু দিন আগে।

জরিনার ছেলে মিন্টু খন্দকারের (জালিয়াত চক্রের সদস্য) কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে দুইটি পরিচয়পত্র বানিয়েছেন, তখন মিন্টু বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে টাকা দিয়ে তিনি বানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, মো. সামিউল আলম জানান, বিশ হাজার লোকের ভোটার চেক করার কোনো সুযোগ নেই। এভাবে করতে হলে ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলার কথা। আমরা হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি সব তথ্য। বললো এজ ইউজাল এটা হয়ে গেছে।

ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, (ডিজি, এনআইডি উইং, ইসি) জানান, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয়পত্র বের হবার সুযোগ নেই। যখন মোকসুদার দুটি পরিচয়পত্র দেখানো হয় তখন তিনি বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি হতে পারে কারণ অনেক বয়স্ক ব্যক্তিদের হাতের রিচ লাইন অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু মোকসুদা নয়, তার পরিবারের ছয় জনের নাম ধারণ করে, প্রায় একশো কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করছে চক্রটি। তদন্তের পর, সেই ছয় পরিচয়পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে এনআইডি নকল, অন্যের ২৫ কোটি টাকার জমি বিক্রি

আপডেট সময় ০২:০৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:   

কম্পিউটারের দোকানে বসে নয়, নিরাপত্তার ১৩ ধাপ পেরিয়ে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকেই জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে নিয়েছে একটি চক্র। সেই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা দামের জমি। হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা আরও একশো কোটি টাকার সম্পত্তি। ঘটনাটি কুষ্টিয়ার।

কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুর মোড়। পাশেই দেড় বিঘার এই জমিটির দাম কম করে হলেও ২৫ কোটি টাকা। কিছুদিন আগে এটি বিক্রি হয় মাত্র ৭৭ লাখে। অথচ কিছুই জানতেন না জমির মালিক।

জমির উত্তরাধিকারী এম এম ওয়াদুদ জানান, আমরা এই জমি বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার মায়ের এনআইডি জাল করে ওই মহিলা জমি বিক্রি করেছে।

মোকসুদার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসন্ধান করে জানা যায়, জমি বিক্রি হওয়ার সময় দলিলে যে পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা মোকসুদা নামের আরেকটি পরিচয়পত্র। নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে দেখা যায়, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যই সার্ভারে আছে। তাহলে, দুটি আসল হয় কীভাবে?

জমির ক্রেতা মহিবুলের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি জমি কার কাছ থেকে কিনেছেন, তখন তিনি বলেন, আমি মোকসুদার কাছ থেকে জমি কিনেছি। তার বাড়ি পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নে।

পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মোকসুদার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,
মোকসুদা নামের এই ব্যক্তিকে আমি চিনি না। আমার নয়টি গ্রামের কেউ এই মহিলাকে এখানে দেখেনি।

তদন্তে জানা যায়, কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার জরিনা খাতুন তার একটি পরিচয়পত্র থাকার পরও, ২০১৮ সালের হালনাগাদে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র বের করেন। জরিনা বনে যান মোকসুদা। তারপর জমি বিক্রি। এই জরিনাও মারা যান কিছু দিন আগে।

জরিনার ছেলে মিন্টু খন্দকারের (জালিয়াত চক্রের সদস্য) কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে দুইটি পরিচয়পত্র বানিয়েছেন, তখন মিন্টু বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে টাকা দিয়ে তিনি বানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, মো. সামিউল আলম জানান, বিশ হাজার লোকের ভোটার চেক করার কোনো সুযোগ নেই। এভাবে করতে হলে ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলার কথা। আমরা হেড অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি সব তথ্য। বললো এজ ইউজাল এটা হয়ে গেছে।

ব্রি. জে. মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, (ডিজি, এনআইডি উইং, ইসি) জানান, একই ব্যক্তির একাধিক পরিচয়পত্র বের হবার সুযোগ নেই। যখন মোকসুদার দুটি পরিচয়পত্র দেখানো হয় তখন তিনি বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় এটি হতে পারে কারণ অনেক বয়স্ক ব্যক্তিদের হাতের রিচ লাইন অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।

শুধু মোকসুদা নয়, তার পরিবারের ছয় জনের নাম ধারণ করে, প্রায় একশো কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেবার চেষ্টা করছে চক্রটি। তদন্তের পর, সেই ছয় পরিচয়পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।