ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

এসপির বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

থানা হাজতে আটক রেখে ওই পরিচ্ছন্নকর্মীকে তিনদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন ওই পুলিশ সুপার। পুলিশ সদর দফতরে এমন অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে এসপি আব্দুর রহিম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী ওই পরিচ্ছন্নকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় এসপি আব্দুর রহমান স্যারের বাংলোতে কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে কাজ শেষ করে আমি ফিরে যাই। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে এসপি স্যারের অর্ডারে সাহেব আলী আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এসপি স্যারের বাংলোতে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে এসপি স্যারও আমাকে কল করেন এবং বাংলোতে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলোতে পৌঁছালে এসপি স্যার বাংলোর দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে আমাকে বলেন, তুই এই কাজ কতদিন ধরে করিস? আমি অবাক হয়ে বলি, কোন কাজ স্যার? এরপরই স্যার আমাকে মারধর শুরু করেন। তারপর তিনি বলেন, বাসা থেকে এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। এই টাকা তুই নিয়েছিস। আমি বিষয়টি অস্বীকার করলে তিনি আমাকে আরও মারধর করেন।

পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া বলেন, এরপর তিনি থানায় খবর দিলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার মোল্লা আসেন। তিনি ওই বাংলোর ভেতরেই জেরা করতে থাকনে এবং মারধর করেন। পরে এসআই আবুল বাশার মোল্লা এবং আরেকজন পুলিশ সদস্য আমাকে একটি অটোরিকশায় করে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যান।

থানায় নিয়ে আমাকে চোখ এবং হাত পিছনে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন ওই এসআই। মারতে মারতে এসআই বাশার বলছিলেন, ‘তুমি খারাপভাবে ফেঁসে গেছো, তুমি টাকা নাও আর না নাও, এক লাখ টাকা তোমাকেই দিতে হবে। এরপরও আমাকে মারধর চালিয়ে যান ওই এসআই। এক লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার কথাও বলেন তিনি। পরবর্তীতে আমার স্বজনরা খবর পেয়ে থানায় গেলে তাদের নির্যাতনের বিষয়ে জানাই। পরে তাদের টাকা যোগার করতে বলি। একদিন পরও টাকা যোগার না হলে পরদিনও আমাকে মারধর করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন ওই এসআই।

ফরিদ মিয়া আরও বলেন, এভাবে তিনদিন যাবত থানা হাজতে রাখার পর ১৫ মার্চ বিকাল ৫টায় এসআই বাশার একটি অটোরিকশায় করে আমাকে থানা থেকে পিটিসি টাঙ্গাইলের ট্রেনিং একাডেমিতে এসপি আব্দুর রহিম স্যারের রুমে নিয়ে যান। সেখানে আমার মামা আনোয়ার হোসেন, ভাবী রেখা বেগম, বউ মুক্তা, বাবা ইসমাইল হোসেন উপস্থিত থেকে ৭০ হাজার টাকা এসআই বাশারের উপস্থিতিতে এসপি স্যারের হাতে দেন। তারপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসপির বাংলো থেকে টাকা চুরির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ফরিদ মিয়া বলেন, আমি চুরি করিনি। আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসপি স্যার ক্ষমতার জোরে এসব করেছেন। আমি পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছি। এরপর থেকে এসপি স্যার ও এসআই বাশারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথাও বলছেন তারা। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এসপির বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক পরিচ্ছন্নকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

থানা হাজতে আটক রেখে ওই পরিচ্ছন্নকর্মীকে তিনদিন ধরে নির্যাতন চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন ওই পুলিশ সুপার। পুলিশ সদর দফতরে এমন অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে এসপি আব্দুর রহিম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী ওই পরিচ্ছন্নকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৩ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় এসপি আব্দুর রহমান স্যারের বাংলোতে কাজ শুরু করি। বেলা ১টার দিকে কাজ শেষ করে আমি ফিরে যাই। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে এসপি স্যারের অর্ডারে সাহেব আলী আমাকে জরুরি ভিত্তিতে এসপি স্যারের বাংলোতে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একই নম্বর থেকে এসপি স্যারও আমাকে কল করেন এবং বাংলোতে যেতে বলেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলোতে পৌঁছালে এসপি স্যার বাংলোর দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের একটি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে আমাকে বলেন, তুই এই কাজ কতদিন ধরে করিস? আমি অবাক হয়ে বলি, কোন কাজ স্যার? এরপরই স্যার আমাকে মারধর শুরু করেন। তারপর তিনি বলেন, বাসা থেকে এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। এই টাকা তুই নিয়েছিস। আমি বিষয়টি অস্বীকার করলে তিনি আমাকে আরও মারধর করেন।

পরিচ্ছন্নকর্মী ফরিদ মিয়া বলেন, এরপর তিনি থানায় খবর দিলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার মোল্লা আসেন। তিনি ওই বাংলোর ভেতরেই জেরা করতে থাকনে এবং মারধর করেন। পরে এসআই আবুল বাশার মোল্লা এবং আরেকজন পুলিশ সদস্য আমাকে একটি অটোরিকশায় করে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যান।

থানায় নিয়ে আমাকে চোখ এবং হাত পিছনে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেন ওই এসআই। মারতে মারতে এসআই বাশার বলছিলেন, ‘তুমি খারাপভাবে ফেঁসে গেছো, তুমি টাকা নাও আর না নাও, এক লাখ টাকা তোমাকেই দিতে হবে। এরপরও আমাকে মারধর চালিয়ে যান ওই এসআই। এক লাখ টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার কথাও বলেন তিনি। পরবর্তীতে আমার স্বজনরা খবর পেয়ে থানায় গেলে তাদের নির্যাতনের বিষয়ে জানাই। পরে তাদের টাকা যোগার করতে বলি। একদিন পরও টাকা যোগার না হলে পরদিনও আমাকে মারধর করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন ওই এসআই।

ফরিদ মিয়া আরও বলেন, এভাবে তিনদিন যাবত থানা হাজতে রাখার পর ১৫ মার্চ বিকাল ৫টায় এসআই বাশার একটি অটোরিকশায় করে আমাকে থানা থেকে পিটিসি টাঙ্গাইলের ট্রেনিং একাডেমিতে এসপি আব্দুর রহিম স্যারের রুমে নিয়ে যান। সেখানে আমার মামা আনোয়ার হোসেন, ভাবী রেখা বেগম, বউ মুক্তা, বাবা ইসমাইল হোসেন উপস্থিত থেকে ৭০ হাজার টাকা এসআই বাশারের উপস্থিতিতে এসপি স্যারের হাতে দেন। তারপর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসপির বাংলো থেকে টাকা চুরির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে ফরিদ মিয়া বলেন, আমি চুরি করিনি। আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এসপি স্যার ক্ষমতার জোরে এসব করেছেন। আমি পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেছি। এরপর থেকে এসপি স্যার ও এসআই বাশারের লোকজন আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার কথাও বলছেন তারা। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ন্যায়বিচার চাই।