ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আজ দেখা দি‌য়ে ফির‌বে ৬৮০০ বছর পর

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনাভাইরাসের আক্রমণে লকডাউনে যখন মানুষ পর্যদুস্ত ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীর কাছে আসতে চলেছে নতুন এক আগন্তুক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে বাংলা‌দেশসহ আশেপাশের সব জায়গা থেকে আকাশে দেখা দেবে সেই ধূমকেতু। তার নাম নিয়োওয়াইজ (সি/২০২০-এফ৩)।

জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে কিছুক্ষণ এই ধূমকেতুকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও শহরাঞ্চলে দূরবিনের সাহায্যেই দেখা যেতে পারে। আগস্টেও দূরবিনের সাহায্যে দেখা যেতে পারে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

ধূমকেতু সূর্যকে অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করে। একবার পাক খেতে যে সময় লাগে তাকে বলে পরিক্রমণকাল। নিয়োওয়াইজের পরিক্রমণ কাল এই মুহূর্তে গণনা করে জানা গেছে প্রায় ৬৮০০ বছর। অর্থাৎ সে আবার দেখা দিতে পারে ৬৮০০ বছর পরে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘শর্ট পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের কম (যেমন হ্যালির ধূমকেতুর প্রায় ৭৬ বছর) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় কুইপার বেল্ট থেকে। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। কিন্তু ‘লং পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের বেশি (যেমন এই নিয়োওয়াইজ) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে থাকা উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে। নিয়োওয়াইজের সেই এলাকা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ধূমকেতুর কেন্দ্রে থাকে বরফ ও ধুলো। সূর্যের কাছাকাছি এলে বরফ বাষ্পীভূত হয়ে গ্যাস তৈরি করে এবং গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িদাহত হয়। ধুলো ধূমকেতুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্য যে দিকে রয়েছে তার বিপরীতে ছুটতে থাকে। তাকেই লেজ বলে। গত ৩ জুলাই সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নতুন আগন্তুকেরও দুটি লেজ তৈরি হয়েছে। একটি আয়নিত গ্যাসের, অন্যটি ধুলোর। ধুলোর উপরে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

২২ থেকে ২৪ জুলাই পৃথিবীর সব থেকে কাছে থাকবে এই ধূমকেতু। তখন পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হবে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। সে সময় তার অবস্থান হবে উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল নক্ষত্রপুঞ্জে। জুলাই পেরোনোর পরেই ধীরে ধীরে সে দূরে যাত্রা করবে। আবার হয়তো ফিরবে ৬৮০০ বছর পর!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন তথ্য: অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আজ দেখা দি‌য়ে ফির‌বে ৬৮০০ বছর পর

আপডেট সময় ১০:২০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনাভাইরাসের আক্রমণে লকডাউনে যখন মানুষ পর্যদুস্ত ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীর কাছে আসতে চলেছে নতুন এক আগন্তুক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে বাংলা‌দেশসহ আশেপাশের সব জায়গা থেকে আকাশে দেখা দেবে সেই ধূমকেতু। তার নাম নিয়োওয়াইজ (সি/২০২০-এফ৩)।

জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে কিছুক্ষণ এই ধূমকেতুকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও শহরাঞ্চলে দূরবিনের সাহায্যেই দেখা যেতে পারে। আগস্টেও দূরবিনের সাহায্যে দেখা যেতে পারে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

ধূমকেতু সূর্যকে অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করে। একবার পাক খেতে যে সময় লাগে তাকে বলে পরিক্রমণকাল। নিয়োওয়াইজের পরিক্রমণ কাল এই মুহূর্তে গণনা করে জানা গেছে প্রায় ৬৮০০ বছর। অর্থাৎ সে আবার দেখা দিতে পারে ৬৮০০ বছর পরে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘শর্ট পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের কম (যেমন হ্যালির ধূমকেতুর প্রায় ৭৬ বছর) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় কুইপার বেল্ট থেকে। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। কিন্তু ‘লং পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের বেশি (যেমন এই নিয়োওয়াইজ) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে থাকা উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে। নিয়োওয়াইজের সেই এলাকা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ধূমকেতুর কেন্দ্রে থাকে বরফ ও ধুলো। সূর্যের কাছাকাছি এলে বরফ বাষ্পীভূত হয়ে গ্যাস তৈরি করে এবং গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িদাহত হয়। ধুলো ধূমকেতুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্য যে দিকে রয়েছে তার বিপরীতে ছুটতে থাকে। তাকেই লেজ বলে। গত ৩ জুলাই সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নতুন আগন্তুকেরও দুটি লেজ তৈরি হয়েছে। একটি আয়নিত গ্যাসের, অন্যটি ধুলোর। ধুলোর উপরে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

২২ থেকে ২৪ জুলাই পৃথিবীর সব থেকে কাছে থাকবে এই ধূমকেতু। তখন পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হবে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। সে সময় তার অবস্থান হবে উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল নক্ষত্রপুঞ্জে। জুলাই পেরোনোর পরেই ধীরে ধীরে সে দূরে যাত্রা করবে। আবার হয়তো ফিরবে ৬৮০০ বছর পর!