ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা বাসা থেকে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন’:হাসনাত চট্টগ্রামের স্বপ্ন ভেঙে ফের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জাতিসংঘের দেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে : তারেক রহমান ‘একটি স্বার্থান্বেষী দল ইসলামী আন্দোলনকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে’:রেজাউল করিম ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন ধানের শীষে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণ সমাজ বিপদগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে যুবককে পিটিয়ে হত্যা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে তুরস্ক: এরদোগান জনগণ জেনে গেছে ‘হ্যা’ ভোট দেওয়া হলে দেশে স্বৈরাচার আর ফিরে আসবে না: প্রেস সচিব

আজ দেখা দি‌য়ে ফির‌বে ৬৮০০ বছর পর

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনাভাইরাসের আক্রমণে লকডাউনে যখন মানুষ পর্যদুস্ত ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীর কাছে আসতে চলেছে নতুন এক আগন্তুক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে বাংলা‌দেশসহ আশেপাশের সব জায়গা থেকে আকাশে দেখা দেবে সেই ধূমকেতু। তার নাম নিয়োওয়াইজ (সি/২০২০-এফ৩)।

জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে কিছুক্ষণ এই ধূমকেতুকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও শহরাঞ্চলে দূরবিনের সাহায্যেই দেখা যেতে পারে। আগস্টেও দূরবিনের সাহায্যে দেখা যেতে পারে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

ধূমকেতু সূর্যকে অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করে। একবার পাক খেতে যে সময় লাগে তাকে বলে পরিক্রমণকাল। নিয়োওয়াইজের পরিক্রমণ কাল এই মুহূর্তে গণনা করে জানা গেছে প্রায় ৬৮০০ বছর। অর্থাৎ সে আবার দেখা দিতে পারে ৬৮০০ বছর পরে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘শর্ট পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের কম (যেমন হ্যালির ধূমকেতুর প্রায় ৭৬ বছর) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় কুইপার বেল্ট থেকে। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। কিন্তু ‘লং পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের বেশি (যেমন এই নিয়োওয়াইজ) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে থাকা উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে। নিয়োওয়াইজের সেই এলাকা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ধূমকেতুর কেন্দ্রে থাকে বরফ ও ধুলো। সূর্যের কাছাকাছি এলে বরফ বাষ্পীভূত হয়ে গ্যাস তৈরি করে এবং গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িদাহত হয়। ধুলো ধূমকেতুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্য যে দিকে রয়েছে তার বিপরীতে ছুটতে থাকে। তাকেই লেজ বলে। গত ৩ জুলাই সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নতুন আগন্তুকেরও দুটি লেজ তৈরি হয়েছে। একটি আয়নিত গ্যাসের, অন্যটি ধুলোর। ধুলোর উপরে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

২২ থেকে ২৪ জুলাই পৃথিবীর সব থেকে কাছে থাকবে এই ধূমকেতু। তখন পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হবে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। সে সময় তার অবস্থান হবে উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল নক্ষত্রপুঞ্জে। জুলাই পেরোনোর পরেই ধীরে ধীরে সে দূরে যাত্রা করবে। আবার হয়তো ফিরবে ৬৮০০ বছর পর!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট সেবা উদ্বোধন

আজ দেখা দি‌য়ে ফির‌বে ৬৮০০ বছর পর

আপডেট সময় ১০:২০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক : 

করোনাভাইরাসের আক্রমণে লকডাউনে যখন মানুষ পর্যদুস্ত ঠিক সেই সময়ে পৃথিবীর কাছে আসতে চলেছে নতুন এক আগন্তুক। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে বাংলা‌দেশসহ আশেপাশের সব জায়গা থেকে আকাশে দেখা দেবে সেই ধূমকেতু। তার নাম নিয়োওয়াইজ (সি/২০২০-এফ৩)।

জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত সূর্যাস্তের পরে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কাছে কিছুক্ষণ এই ধূমকেতুকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে দেখা গেলেও শহরাঞ্চলে দূরবিনের সাহায্যেই দেখা যেতে পারে। আগস্টেও দূরবিনের সাহায্যে দেখা যেতে পারে মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

ধূমকেতু সূর্যকে অতিমাত্রায় উপবৃত্তাকার পথে পরিক্রমণ করে। একবার পাক খেতে যে সময় লাগে তাকে বলে পরিক্রমণকাল। নিয়োওয়াইজের পরিক্রমণ কাল এই মুহূর্তে গণনা করে জানা গেছে প্রায় ৬৮০০ বছর। অর্থাৎ সে আবার দেখা দিতে পারে ৬৮০০ বছর পরে।

বিজ্ঞানীরা জানান, ‘শর্ট পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের কম (যেমন হ্যালির ধূমকেতুর প্রায় ৭৬ বছর) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় কুইপার বেল্ট থেকে। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৩০ থেকে ৫০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট। কিন্তু ‘লং পিরিয়ড কমেট’ বা যে সব ধূমকেতুর পরিক্রমণকাল ২০০ বছরের বেশি (যেমন এই নিয়োওয়াইজ) তাদের উৎপত্তি ধরা হয় প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে থাকা উর্ট ক্লাউড অঞ্চলে। নিয়োওয়াইজের সেই এলাকা থেকেই উৎপত্তি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ধূমকেতুর কেন্দ্রে থাকে বরফ ও ধুলো। সূর্যের কাছাকাছি এলে বরফ বাষ্পীভূত হয়ে গ্যাস তৈরি করে এবং গ্যাসীয় কণাগুলি তড়িদাহত হয়। ধুলো ধূমকেতুর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সূর্য যে দিকে রয়েছে তার বিপরীতে ছুটতে থাকে। তাকেই লেজ বলে। গত ৩ জুলাই সূর্যের কাছ দিয়ে যাওয়ার বেশ কিছু দিন আগে থেকেই নতুন আগন্তুকেরও দুটি লেজ তৈরি হয়েছে। একটি আয়নিত গ্যাসের, অন্যটি ধুলোর। ধুলোর উপরে সূর্যালোক প্রতিফলিত হয়ে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

২২ থেকে ২৪ জুলাই পৃথিবীর সব থেকে কাছে থাকবে এই ধূমকেতু। তখন পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব হবে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লক্ষ কিলোমিটার। সে সময় তার অবস্থান হবে উত্তর-পশ্চিম আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল নক্ষত্রপুঞ্জে। জুলাই পেরোনোর পরেই ধীরে ধীরে সে দূরে যাত্রা করবে। আবার হয়তো ফিরবে ৬৮০০ বছর পর!