ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ভর্তি নেয়নি চিকিৎসক, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ; গেটেই সন্তান প্রসব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেওয়ায় এক নারী হাসপাতাল ফটকে সন্তান প্রসব করেছেন। ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পর ওই নারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রসূতি রাশেদা বেগম (৩৫) সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা (বাঁধের মাথা) গ্রামের দরিদ্র বাদশা মিয়ার স্ত্রী।

বাদশা মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিকালে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই সময় দায়িত্বরত সেবিকা বাসনা রাণী তাকে ভর্তি না করিয়ে গাইবান্ধা শহরে নিয়ে যেতে বলেন। বার বার অনুরোধ করলে বাসনা কর্ণপাত করেননি। পরে নিরুপায় হয়ে গাইবান্ধায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

এ সময় রাশেদা ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে। তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকেই তার ছেলের জন্ম হয়। উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন, ‘প্রসূতি মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’ সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিঠুন কুমার বর্মণ বলেন, ‘মহিলা রোগী হওয়ায় আমি তাকে দেখিনি।

কর্তব্যরত সেবিকা বাসনা রাণী ও আয়া শিল্পি রাণী ওই রোগী দেখেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে তিনি গাইবান্ধা রেফার্ড করেন।’ সেবিকা বাসনা রাণী বলেন, ‘ওই প্রসুতি মায়ের সন্তান প্রসবের জন্য বাড়িতেও চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল। তাই তাকে গাইবান্ধা রেফার্ড করা হয়েছে।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ভর্তি নেয়নি চিকিৎসক, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ; গেটেই সন্তান প্রসব

আপডেট সময় ১০:০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেওয়ায় এক নারী হাসপাতাল ফটকে সন্তান প্রসব করেছেন। ঈদের দিন সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পর ওই নারীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রসূতি রাশেদা বেগম (৩৫) সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা (বাঁধের মাথা) গ্রামের দরিদ্র বাদশা মিয়ার স্ত্রী।

বাদশা মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিকালে তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই সময় দায়িত্বরত সেবিকা বাসনা রাণী তাকে ভর্তি না করিয়ে গাইবান্ধা শহরে নিয়ে যেতে বলেন। বার বার অনুরোধ করলে বাসনা কর্ণপাত করেননি। পরে নিরুপায় হয়ে গাইবান্ধায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

এ সময় রাশেদা ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে। তখন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকেই তার ছেলের জন্ম হয়। উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন, ‘প্রসূতি মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল ঘেরাও করে। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’ সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিঠুন কুমার বর্মণ বলেন, ‘মহিলা রোগী হওয়ায় আমি তাকে দেখিনি।

কর্তব্যরত সেবিকা বাসনা রাণী ও আয়া শিল্পি রাণী ওই রোগী দেখেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে তিনি গাইবান্ধা রেফার্ড করেন।’ সেবিকা বাসনা রাণী বলেন, ‘ওই প্রসুতি মায়ের সন্তান প্রসবের জন্য বাড়িতেও চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল। তাই তাকে গাইবান্ধা রেফার্ড করা হয়েছে।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও সেবিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’