ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

রাবিতে অনলাইন ক্লাস চালুতে প্রযুক্তিই বড় বাধা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে দীর্ঘদিনের ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ।

সব শিক্ষার্থীর যথাযথ ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সুবিধা না থাকায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রাবির শিক্ষকরা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাইলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাসের দিকে আগানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যথাযথ ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে না। আর অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে যে সব প্রযুক্তির দরকার তাও অনেক শিক্ষার্থীর নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম থাকায় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বড় কলেবরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া অনেকটা অসম্ভব।

তিনি জানান, অনলাইনে ক্লাস নেয়ার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচুর লোডশেডিং। বিদ্যুতের এ অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব নয়।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. আহসান কবির বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বেশকিছু ক্লাস নিয়েছি। সেখানে জেলা শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার মতো যথাযথ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই। তাছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো যথেষ্ট প্রযুক্তি নেই। এহেন পরিস্থিতি অনলাইনে ক্লাস শুরু করলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিক আদনান বলেন, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সর্বশেষ ইউনিয়নে অবস্থান করছি। পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক না থাকায় এখান থেকে মুঠোফোনে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা অনেকটা দুরূহ হয়। অনলাইনে ক্লাসে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। অংশ নিতে হলে মানসম্মত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ইউজিসি অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাস সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউজিসির অনলাইন বৈঠকে করোনার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাবিতে অনলাইন ক্লাস চালুতে প্রযুক্তিই বড় বাধা

আপডেট সময় ০৯:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে দীর্ঘদিনের ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্তৃপক্ষ।

সব শিক্ষার্থীর যথাযথ ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সুবিধা না থাকায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন রাবির শিক্ষকরা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা চাইলেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাসের দিকে আগানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা যথাযথ ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে না। আর অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে যে সব প্রযুক্তির দরকার তাও অনেক শিক্ষার্থীর নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম থাকায় অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এত বড় কলেবরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া অনেকটা অসম্ভব।

তিনি জানান, অনলাইনে ক্লাস নেয়ার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচুর লোডশেডিং। বিদ্যুতের এ অবস্থায় অনলাইনে ক্লাস নেয়া সম্ভব নয়।

আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম. আহসান কবির বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বেশকিছু ক্লাস নিয়েছি। সেখানে জেলা শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার মতো যথাযথ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই। তাছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরও এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর মাঝে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো যথেষ্ট প্রযুক্তি নেই। এহেন পরিস্থিতি অনলাইনে ক্লাস শুরু করলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিক আদনান বলেন, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সর্বশেষ ইউনিয়নে অবস্থান করছি। পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক না থাকায় এখান থেকে মুঠোফোনে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা অনেকটা দুরূহ হয়। অনলাইনে ক্লাসে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। অংশ নিতে হলে মানসম্মত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ইউজিসি অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অনলাইন ক্লাস সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইউজিসির অনলাইন বৈঠকে করোনার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।