আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পিয়ারাখালী এলাকার সত্তরোধ্র্ব হতদরিদ্র কুলসুম বেগমের পাশে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ডাক্তার ও সরকারি চাকরিজীবীসহ স্হানীয় এলাকাবাসী। পবিত্র রমজান মাসে অসহায় ওই বৃদ্ধাকে আর শুকনো ভাত খেয়ে রোজা থাকতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকেলে কুলসুমের খোঁজ-খবর নিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও মহল্লার অনেকে। তারা ১৫ দিনের চাল, ডাল, তেল, তরি-তরকারিসহ নগদ টাকা তার বাড়িতে এসে পৌঁছে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৫ মে) টোয়িন্টিফোর.কমে ‘শুকনো ভাত খেয়ে ওজা (রোজা) করি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পরিচালক নয়ন বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্যমতো ঈশ্বরদীতে অসহায় মানুষের পাশে রয়েছি। বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশের পর এক ছোট ভাই আমাকে অসহায় কুলসুম বেগমকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। পরে তার বাড়িতে গিয়ে ১৫ দিনের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
কুলসুম বেগম বলেন, ‘দুইডো পোলা আইস্যা চাইল ডাইল, ত্যাল, তরি-তরকারি ব্যাবাকটোই (সবকিছু) সকালে দিয়্যা গেছে। আমাগো ওজার (রোজার) মাসটো আর দুঃখ রইলো না। আবার প্ররামানিকের (প্রমাণিক) ব্যাটা ডাক্তার নগদ এক হাজার ট্যাহা (টাকা) পাঠাইছ্যে।অনেকে খোঁজ-খবর নিতাছে। আল্লাহ যানি তাগরে ভালো রাহে।’
সংবাদ দেখে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিন্নাত আরা জলি অসহায় কুলসুম বেগমের ঈদে নতুন কাপড় কেনার জন্য এই প্রতিবেদকের কাছে নগদ এক হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. রাকিবুল ইসলাম রিপনও তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন। আরো অনেকে জানিয়েছেন, যেকোনো সমস্যা হলে তারা দেখবেন।
কুলসুম বেগমের নিকট আত্মীয় একই এলাকার চায়ের দোকানি স্বপন খাঁনও নিজ বাড়ি থেকে প্রতিদিন ইফতার সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। স্হানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মীরা প্রতিদিন তার বাড়িতে কি রান্না হচ্ছে, খোঁজ খবর রাখছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ত্রাণ দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। অনেকের ঘরে দেখেছি, তাদের আরও চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সে পরিমাণ ত্রাণ নেই। পরবর্তীতে সরকারি কোনো সহযোগিতা পেলে কুলসুম বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসবো। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী পাঠাতে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়রকে তার নাম-ঠিকানা পাঠিয়েছি।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















