আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার তার রিপোর্ট পজেটিভ এলে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাকে পায়নি। তার মা’সহ দুটি ঘরের ১০ সদস্যকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসনাত মোঃ মহিউদ্দিন মুবিন জানান, ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে উপজেলার নাইঘর বড় বাড়ির মৃত মহাব্বত আলীর ছেলে মোঃ হাসান (৩৫) বাড়িতে আসার খবর পেয়ে ২৬ তারিখ তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
তার মা জানান, সে ২৬ তারিখ বিকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে গেছে। সে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম বসবাস করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ আজম মাহমুদ বলেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বর্তমান অবস্থানের একটি তথ্য আমরা পেয়েছি। তাকে খুঁজে বের করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার মুরাদনগরের আরেক রোগী ছয় দিন ধরে নিখোঁজ।
কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নতুন করে জেলার মুরাদনগরে চার জন ও তিতাসে একজনসহ দুই উপজেলায় পাঁচ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রাখার পর রাতের আঁধারে একজন ছয়দিন আগে পালিয়েছেন। চিকিৎসক ও জেলার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মুরাদনগর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল আলম জানান, উপজেলার বাঙ্গরাবাজার থানার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাঁঠলিয়াকান্দা গ্রামে দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও এক কিশোরসহ একই পরিবারের চার জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামে এই পরিবারের আরও একজন আক্রান্ত হন। মঙ্গলবার নতুন করে বিল্লালের ভাই লিটন (৩৬), বাবা সিদ্দিকুর রহমান (৮৫), মা মনি বেগম (৭১) ও ভাতিজা সায়মুনের (১৬) করোনা শনাক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয় জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই পরিবারের পাঁচ জন ছাড়াও উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামের মিজানুর রহমান (২৬) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ এপ্রিল দুপুরে রিপোর্ট আসার পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঘরে আইসোলেশনে নিয়ে পুরো বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়। কিন্তু রাতের কোনও এক সময় তিনি ছয়দিন আগে পালিয়ে যান। তার সন্ধান পাওয়ার জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তথ্য সংগ্রহ করছে।
অন্যদিকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় রিয়াজ (২৬) নামে আরও এক তরুণের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তার বাড়ি তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের সাহাবুদ্দি গ্রামে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান জানান, করোনা আক্রান্ত হয়ে এর আগে ঢাকার মহাখালীতে রিয়াজের বাবা আবদুল খালেক মারা যান। বাবার কাছ থেকে রিয়াজ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিতাস উপজেলায় মোট ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে দুই জন পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। সুস্থতার পথে দুই পরিবারের আরও চার জন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















