অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দু’জন শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। টানা ১৭ দিন ধরে ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে শিক্ষা কার্যক্রমে একপ্রকার অচলাবস্থা আর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে চরম সঙ্কটের দিকে এগুচ্ছে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটি।
দুই শিক্ষককে বরখাস্তের প্রতিবাদে রোববার সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার হয়েছেন হাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের পর রোববার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা।
আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য অনার্স লেভেল-১, সেমিষ্টার-১ ভর্তি পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হাবিপ্রবি’র রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম।
বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে লাঞ্ছিত ও হামলার শিকারের প্রতিবাদে গত ১৫ নভেম্বর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন শিক্ষক।
নতুন পদোন্নতিপ্রাপ্ত এ শিক্ষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে হাবিপ্রবির প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯৩ জন শিক্ষকের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস বর্জন কর্মসূচি শুরু করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এক প্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে হাবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রমে।
এদিকে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে রোববার হাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক মহসিন আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে সহকারী অধ্যাপক মহসিন আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী নিয়ম-২০০৪ (৩সি) এ চাকুরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, শিক্ষকদ্বয় রেজিস্ট্রারকে অপহরণের নিমিত্তে টেনে হিঁচড়ে সিড়ির দিকে নিয়ে যায়। এ সময় রেজিস্ট্রারকে কিল ঘুষি মারা হয়।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক মহসিন আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ন্যায্য দাবিতে আলোচনায় ১৪ নভেম্বর প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা ও ছাত্র দিয়ে আমাদের ৬১ জনকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। মহিলা শিক্ষকদের শ্লীলতাহানিও করেছে। কিন্তু অদ্যবধি কোনো বিচার করেনি প্রশাসন। উল্টো ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার আমাদেরকে দেশদ্রোহী ও রাজাকার বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
তারা বলেন, দেশদ্রোহী ও রাজাকার বলার প্রতিবাদে আমরা রেজিস্ট্রারকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলি এবং সে বেরও হয়ে যায়। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটি ছাড়াই আমাদের দোষী সাব্যস্ত করে বরখাস্ত করেছে।
শিক্ষকদের বরখাস্তের প্রতিবাদে রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভাইস চ্যান্সেলরের কক্ষ অবরোধ করে। ফলে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবুল কাশেম অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। বিকাল ৪টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম ফিরোজ ও পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকারসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ভাইস চ্যান্সেলরকে তার কক্ষ থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে আগামী ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরবর্তীতে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে। এর আগে কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা দু’দফায় স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। হাবিপ্রবিতে ২৮ জন প্রভাষক, ১৬ জন কর্মকর্তা নিয়োগের ২৪ নভেম্বর কর্মকর্তা পদে এবং ১ ডিসেম্বর প্রভাষক পদে লিখিত নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ২২ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
আবার ২৫ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ নভেম্বর হতে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়। এর একদিন পরেই মঙ্গলবার আবার কর্মকর্তা ও প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়।
এদিকে রেজিস্ট্রারকে লাঞ্ছনার ঘটনা ও শিক্ষকদের বরখাস্তের দাবিতে রোববার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি করে ছাত্রলীগের একাংশ। এ কর্মসূচিতে একাত্মা ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠনের ৩০ জন শিক্ষক।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করার দাবিতে রোববার একই দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে যৌন নির্যাতনসহ ৬ দফা দাবিতে প্রতিদিন ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম। একইসঙ্গে ৬১ জন লাঞ্ছিত শিক্ষকদের লাঞ্ছনার বিচারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিও অব্যাহত রেখেছে ফোরামের শতাধিক শিক্ষক।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















