ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি বাম জোটের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৮টি দল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানান।

জোটের অন্যান্য দাবিগুলো হলো তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা আমূল সংস্কার।

অবস্থান কর্মসূচিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতিতে দুটি ধারা বর্তমান। একটি হচ্ছে বুর্জোয়া আর অন্যটি বামপন্থী ধারা। তেল আর পানি যেমন মিশবে না তেমনি এই দুই ধারা কখনো এক হবে না। আজকে বাংলাদেশে পুঁজিবাদের শাসনব্যবস্থা চলছে। তারা শাসন ও শোষণ করছে। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুন, ধর্ষণ, গুম, সড়কে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশের মানুষ এখন বামপন্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে। বামপন্থীরা এখন যতটা সংঘবদ্ধ তা অতীতে দেখা যায়নি। এটি ইতিবাচক একটি দিক। তারা আন্দোলন করে সমাজকে বদলে দিতে পারে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সামনে নির্বাচন। সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকারকে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সবাই বলছে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এই কথাটি ঠিক নয়। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে শেষ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংবিধানে সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সব দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে আলোচনা করতে হবে। আমাদের দাবি হচ্ছে, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

স্বাগত বক্তব্যে গণঅবস্থান কর্মসূচির সভাপতি ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে রেখে এ দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর ১৫ দিনও বাকি নেই অথচ এখনো সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়নি। আমরা নির্বাচনের আগে এই সংসদ এখনই ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন এখন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তাই নির্বাচনের আগে এটি পুনর্গঠন করতে হবে। তাছাড়া অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।

অবাধ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাশার নির্বাচন গ্রহণ করা হবে না।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন দুলাল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন বাসদের নির্বাহী সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি বাম জোটের

আপডেট সময় ০৯:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৮টি দল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানান।

জোটের অন্যান্য দাবিগুলো হলো তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা আমূল সংস্কার।

অবস্থান কর্মসূচিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে রাজনীতিতে দুটি ধারা বর্তমান। একটি হচ্ছে বুর্জোয়া আর অন্যটি বামপন্থী ধারা। তেল আর পানি যেমন মিশবে না তেমনি এই দুই ধারা কখনো এক হবে না। আজকে বাংলাদেশে পুঁজিবাদের শাসনব্যবস্থা চলছে। তারা শাসন ও শোষণ করছে। সারা পৃথিবীতে পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে খুন, ধর্ষণ, গুম, সড়কে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশের মানুষ এখন বামপন্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে। বামপন্থীরা এখন যতটা সংঘবদ্ধ তা অতীতে দেখা যায়নি। এটি ইতিবাচক একটি দিক। তারা আন্দোলন করে সমাজকে বদলে দিতে পারে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সামনে নির্বাচন। সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সরকারকে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সবাই বলছে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। এই কথাটি ঠিক নয়। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে শেষ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংবিধানে সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সব দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে আলোচনা করতে হবে। আমাদের দাবি হচ্ছে, নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

স্বাগত বক্তব্যে গণঅবস্থান কর্মসূচির সভাপতি ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে রেখে এ দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর ১৫ দিনও বাকি নেই অথচ এখনো সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়নি। আমরা নির্বাচনের আগে এই সংসদ এখনই ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন এখন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তাই নির্বাচনের আগে এটি পুনর্গঠন করতে হবে। তাছাড়া অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।

অবাধ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তামাশার নির্বাচন গ্রহণ করা হবে না।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন দুলাল, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু প্রমুখ।

সঞ্চালনা করেন বাসদের নির্বাহী সদস্য খালেকুজ্জামান লিপন।