অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘সরকারের উদ্দেশ্য খুবই খারাপ, সরকার জনগণকে ভয় পায়’ মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে অপসারণ করা হবে।’
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ‘কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে নির্বাচনের পরিবেশ আছে বলে একজন মানুষও বিশ্বাস করে না বলে দাবি করেন মওদুদ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো সাধারণ নির্বাচন করার ন্যূনতম পরিবেশ এখন নেই। একজন মানুষও বলবে না যে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। আর বাকি মাত্র তিনমাস। এই পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
‘অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, আইনের অধিকার, বিচারের অধিকার এগুলো বাদই দিলাম। কিন্তু মানুষের মৌলিক অধিকার ভোটের অধিকারটা তো দরকার। মানুষ যেন তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তার ন্যূনতম পরিবেশ থাকা প্রয়োজন, সরকার সেটা চায় না। কারণ, সরকারের উদ্দেশ্য খুবই খারাপ। তারা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রেখে আগের মতো একদলীয়ভাবে নির্বাচন করতে চায়। বাংলাদেশের মাটিতে এটা আর কোনো দিনও হতে দেয়া হবে না।’
সরকার জনগণকে ভয় পায়
মওদুদ বলেন, ‘সরকারি দল আজ শঙ্কিত। বিভিন্নভাবে একতরফা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নেত্রী জেলে। আমাদের প্রায় ১২ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে, হাজার হাজার নেতাকর্মী জেলে। আমাদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলা ঝুলছে। তারপরও তাদের মনে শান্তি নাই। তারা ভয় পায়। জনগণকে ভয় পায়।’
সরকারি দলের নেতাদেরকে হুশিয়ারি দিয়ে মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে একদলীয়ভাবে একতরফা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। চালান, যত পারেন পোস্টার, ফেস্টুন, বড় বড় ব্যানার লাগান, কিন্তু ভোট নাই। নিচের দিকে একটু গেলে বুঝতে পারবেন যে, ভোট নাই। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দেশের মানুষ আপনাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।’
বিভ্রান্ত করতেই নির্বাচনকালীন সরকার
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের কথায় তারা এখন বলছেন- নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সংবিধানে কিছুই নেই। তার মানে, তারা সংবিধান থেকে সরে আসতে চাইছেন। এটা কিন্তু ওই একই সরকার হবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে, ভুল বোঝাতে যে, আমরা তো নির্বাচনের জন্য আলাদা সরকার করেছি। এই প্রধানমন্ত্রীই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, প্রশাসন-পুলিশ-র্যাব তাদের অধীনে থাকবে এবং এর মধ্য দিয়ে নির্বাচন হবে।’
‘আমাদের সংবিধানে এমন কোনও বিধান নাই। প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা, সেটার বিকেন্দ্রীকরণ করার কোনও ক্ষমতা আমাদের সরকারের কাউকে সংবিধানে দেয়া হয়নি। সুতরাং, এগুলো মিথ্যা, ভুল। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য।’
ব্যাংকিং সেক্টর, বড় বড় প্রকল্প বা মেগাপ্রকল্পের দুর্নীতি সরকারের জন্য নতুন অবনতি বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের এই প্রতিপক্ষ নেতা। তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে আটশ’ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেল, একজন মানুষকেও গ্রেফতার করা হয়নি। কয়লাখনি থেকে দেড় লাখ টন কয়লা উধাও হয়ে গেল, গ্রেফতার নেই। তাদের লোকেরা বা মদদপুষ্টরা যখন অপরাধ করেন, তখনও কোনো গ্রেফতার হয় না। আর আমাদের ব্যাপারে যে ঘটনা জীবনে ঘটেওনি, সেটারও থানায় বসে মামলা তৈরি হয়।’
ইভিএম ফাঁকি দেয়ার যন্ত্র
একাদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) ফাঁকি দেয়ার যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন মওদুদ আহমদ। বলেন, যে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে আটশ’ কোটি টাকা মেরে দিতে পারে, সেখানে এটা তো সামান্য একটি মেশিন। এই মেশিনে আপনি গিয়ে টিপ দিলেন আর ভোটটা কোথায় গেলো আপনার কোনও খবর নাই। এটা নতুন একটি ষড়যন্ত্র।’
এ আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের দেশের আইনে আছে ভোট পুনর্গণনা করা। যেমন প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে আপনার ২০০ ভোটের ব্যবধান, আপনি বলবেন, ভোট পুনর্গণনা করো। ব্যালট পেপার সব ঢেলে এবার পুনর্গণনা করা হবে। কিন্তু ইভিএমে আপনি কিভাবে এটা করবেন? এই মেশিনে তো সেটার কোনো সুযোগ থাকে না। যত দেশে এটার ব্যবহার করা হয়েছে সকল দেশেই এটাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সুতরাং, অবাস্তব এ প্রস্তাব বাদ দিতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যে সরকার অপসারণ হবে
জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে অপসারণ করা হবে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সারা জাতি আজকে ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য নষ্ট করতে সরকার অনেক ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু এই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে। আরও জোরদার হবে। সারা বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করবে। একটি স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই।’
‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব সরকারই ভাবে যে, ক্ষমতায় আসবে আবারো। কিছু করতে পারবেন না। এক মিনিটের ব্যবধানে বাধ্য হবেন সংলাপে আসতে। বাধ্য হবেন আমাদের দাবি মেনে নিতে। জোর করে সরকারে থাকবেন, এবার সেটি সম্ভব হবে না।’
বিএনপির পাঁচটি দাবি
মওদুদ জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের কাছে পাঁচটি দাবি করেছে বিএনপি। সেগুলো হচ্ছে- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ, তাদের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















