ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রতারণার অভিযাগে তিন চিকিৎসকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অপারেশনের নামে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিক মালিকসহ তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাজশাহীর মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত-২ এ মামলাটি দায়ের করেন কাকলী আক্তার সাথী নামের এক গৃহবধূ।

আদালতের বিচারক কুদরত-ই-খোদা মামলাটি আমলে নিয়েছেন বলে জানান বাদী পক্ষের আইনজীবী শামীম আকতার হৃদয়। মামলায় আসামিরা হলেন- রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় অবস্থিত জমজম ইসলামী হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাপারোসকপি ও জেনারেল সার্জন ডা. একেএম গোলাম কিবরিয়া, ডা. জয়নাল আবেদিন, ডা. আবদুল লতিফ এবং জমজম ইসলামী হাসপাতালের পরিচালক মাইনুল ইসলাম।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাদীর আইনজীবী শামীম হোসেন হৃদয় জানান, গত ১৭ মে পেটের ব্যাথায় রাজশাহীর জমজম হাসপাতালে ভর্তি হন জেলার পবা উপজেলার টেংরামারি এলাকার মিলনের স্ত্রী কাকলী আক্তার সাথী। এরপর তিনি জানতে পারেন, তার আগ্নেশয়ে টিউমার জাতীয় পুরু একটি খণ্ড রয়েছে। এরপর ডা. জয়নাল আবেদিন, ডা. আব্দুল লতিফ ও ডা. একেএম গোলাম কিবরিয়া তাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এরপর কৌশলে অপারেশনের নামে প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৭০ হাজার টাকায় অপারেশন করেন। ২৬ মে টাকা নিয়ে বাদীকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় দেয়া হয়।

ঘটনার দুই মাস পর ১৭ জুলাই বাদী পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নিয়ে রামেক হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এসএম আহসান শহিদ ও ডা. শরীফা বেগমের কাছে দেখান। তাদের মাধ্যমে কাকলী আক্তার জানতে পারেন তার পূর্বের মোটা টিউমারটি এখনো সেই অবস্থাতেই আছে। এরপর গত ৯ আগস্ট চিকিৎসক গোলাম কিবরিয়ার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে তাদের কিছুই করার নেই বলে ধমক দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। অপারেশনের নামে অর্থ আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে চিকিৎসকরা বাদীর শরীরে অস্ত্র চালিয়ে গুরুতর কাটা জখম করে। কিন্তু কোন চিকিৎসা হয়নি।

মামলার বাদী কাকলী আক্তার সাথী বলেন, পেটের সমস্যার কারণে জমজম ক্লিনিকে গিয়ে ডা. গোলাম কিবরিয়ার কাছে দেখানো হয়। এসময় তিনি বলেন, ওই দিনই অপারেশন করা না গেলে রোগিকে বাঁচানো যাবে না। বেশি দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর মিনিট পাঁচেক সময়ের মধ্যে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেলে সাড়ে তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটারে রাখে। ঘটনার তিনদিন তিনি অচেতন ছিলেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আবারো ব্যথা উঠলে বিভিন্ন জায়গায় আল্ট্রাসানোগ্রাফি করা হয়। তবে একই রিপোর্ট আসে। এরপর ডাক্তার গোলাম কিবরিয়াকে বলা হলে তিনি বলেন অপারেশেন করানো লাগবে। পরে অপারেশন হয়েছে বললে তিনি জানান এই পাথর বের করা সম্ভব নয়। এর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। রেগুলার চেকআপ করালেই ভালো থাকা যাবে। এরপর অপমান করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে। কোন উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের সরনাপন্ন হয়েছেন বলে জানান কাকলী আক্তার সাথী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

প্রতারণার অভিযাগে তিন চিকিৎসকসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় ০২:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অপারেশনের নামে অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগে রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিক মালিকসহ তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাজশাহীর মূখ্য মহানগর হাকিম আদালত-২ এ মামলাটি দায়ের করেন কাকলী আক্তার সাথী নামের এক গৃহবধূ।

আদালতের বিচারক কুদরত-ই-খোদা মামলাটি আমলে নিয়েছেন বলে জানান বাদী পক্ষের আইনজীবী শামীম আকতার হৃদয়। মামলায় আসামিরা হলেন- রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় অবস্থিত জমজম ইসলামী হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাপারোসকপি ও জেনারেল সার্জন ডা. একেএম গোলাম কিবরিয়া, ডা. জয়নাল আবেদিন, ডা. আবদুল লতিফ এবং জমজম ইসলামী হাসপাতালের পরিচালক মাইনুল ইসলাম।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বাদীর আইনজীবী শামীম হোসেন হৃদয় জানান, গত ১৭ মে পেটের ব্যাথায় রাজশাহীর জমজম হাসপাতালে ভর্তি হন জেলার পবা উপজেলার টেংরামারি এলাকার মিলনের স্ত্রী কাকলী আক্তার সাথী। এরপর তিনি জানতে পারেন, তার আগ্নেশয়ে টিউমার জাতীয় পুরু একটি খণ্ড রয়েছে। এরপর ডা. জয়নাল আবেদিন, ডা. আব্দুল লতিফ ও ডা. একেএম গোলাম কিবরিয়া তাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এরপর কৌশলে অপারেশনের নামে প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করলেও পরে ৭০ হাজার টাকায় অপারেশন করেন। ২৬ মে টাকা নিয়ে বাদীকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় দেয়া হয়।

ঘটনার দুই মাস পর ১৭ জুলাই বাদী পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট নিয়ে রামেক হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এসএম আহসান শহিদ ও ডা. শরীফা বেগমের কাছে দেখান। তাদের মাধ্যমে কাকলী আক্তার জানতে পারেন তার পূর্বের মোটা টিউমারটি এখনো সেই অবস্থাতেই আছে। এরপর গত ৯ আগস্ট চিকিৎসক গোলাম কিবরিয়ার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালে তাদের কিছুই করার নেই বলে ধমক দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। অপারেশনের নামে অর্থ আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে চিকিৎসকরা বাদীর শরীরে অস্ত্র চালিয়ে গুরুতর কাটা জখম করে। কিন্তু কোন চিকিৎসা হয়নি।

মামলার বাদী কাকলী আক্তার সাথী বলেন, পেটের সমস্যার কারণে জমজম ক্লিনিকে গিয়ে ডা. গোলাম কিবরিয়ার কাছে দেখানো হয়। এসময় তিনি বলেন, ওই দিনই অপারেশন করা না গেলে রোগিকে বাঁচানো যাবে না। বেশি দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর মিনিট পাঁচেক সময়ের মধ্যে অপারেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বিকেলে সাড়ে তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অপারেশন থিয়েটারে রাখে। ঘটনার তিনদিন তিনি অচেতন ছিলেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আবারো ব্যথা উঠলে বিভিন্ন জায়গায় আল্ট্রাসানোগ্রাফি করা হয়। তবে একই রিপোর্ট আসে। এরপর ডাক্তার গোলাম কিবরিয়াকে বলা হলে তিনি বলেন অপারেশেন করানো লাগবে। পরে অপারেশন হয়েছে বললে তিনি জানান এই পাথর বের করা সম্ভব নয়। এর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই। রেগুলার চেকআপ করালেই ভালো থাকা যাবে। এরপর অপমান করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে। কোন উপায় না পেয়ে তিনি আদালতের সরনাপন্ন হয়েছেন বলে জানান কাকলী আক্তার সাথী।