অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চারদিন অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ভীমনগর নামক স্থানে শিবনদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন বন্ধ করতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দুইদিন থেকে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান।
এ দিকে বুধবার বিকেলে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকতাদের নিয়ে শিবনদীর বাঁধ ভাঙন ও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি দ্রুত পাউবোকে বাঁধ মেরামতের জন্য বলেছেন। বাঁধ ভেঙে প্লাবিত এলাকায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান, জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ডিআরও) আমিনুল হক, মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শুক্লা সরকার, পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবির, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ, মোহনপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার, কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ, জেলা পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন সরকার, আজাহারুল ইসলাম বাবলু, আল অমিন বিশ্বাস, যুবলীগ সভাপতি ইকবাল হোসেন, ধুরইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দোলোয়ার হোসেন।
এদিকে চারদিনের প্রবল স্রোতের তোড়ে উপজেলার ধুরইল, ঘাসিগ্রাম, রায়ঘাটি, জাহানাবাদ, মৌগাছি ও বাকশিমইল ইউনিয়নের আরোও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রাজশাহী জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রহিমা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে বন্যায় প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রহিমা খাতুন জানান, ভীমনগর বেড়িবাঁধ ভেঙে এই পর্যন্ত চারদিনে দুই হাজার ৭৬৬ হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে মধ্যে রোপা-আমন, রোপা-আঊশ, পটল, পানবরজ, করলা, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজির খেত রয়েছে। মোহনপুর উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চারদিনের বন্যার পানিতে ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ১৮টি পুকুর প্লাবিত হয়েছে।
বেড়িবাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধ ভাঙা স্থান মেরামতে কাজ চলছে। বাঁধ ভাঙার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শুক্লা সরকার, প্রকল্প কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার, ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজিমউদ্দিন সরকার, আজাহারুল ইসলাম বাবলু বাঁধ বন্ধের জন্য পাউবোকে প্রতিনিয়ত সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন। বুধবার পর্যন্ত উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও কেশরহাট পৌরসভার এবং পশ্চিম বাগমারার নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, প্রথমদিন থেকে বেড়িবাঁধের ওই পয়েন্টে প্রথমদিনে পানির প্রবলস্রোত থাকায় বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয় নি। পানির চাপ কমে দুই একদিনের মধ্যে মরামত করা সম্ভব হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধভাঙার পর থেকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















