ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পাবনায় শিশু হত্যায় সোহেলের ফাঁসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার চাটমোহরে শিশু আবদুল্লাহ আল নূর (৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তার অপর সহযোগী শিশু নূরের ফুফা আবদুস সামাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের হারান মোড় মহল্লার ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের শিশুসন্তান (জন্ম সূত্রে গ্রিসের নাগরিক) আবদুল্লাহ আল নূর। দীর্ঘদিন গ্রিসে বসবাসের পর তারা দেশে ফিরে আসে।

২০১৪ সালের ২৫ জুন বাড়ির সামনে খেলার সময় নিখোঁজ হয় নূর। নিখোঁজের দুদিন পর মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশের জলমগ্ন আবাদি জমি থেকে মাথা, দুটি হাত ও নাড়ি-ভুঁড়িবিহীন এবং পায়ের কুঁচকির পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখমে ক্ষতবিক্ষত পচা দুর্গন্ধযুক্ত বিকৃত একটি শিশুর মরদেহ পলিথিন ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

আবুল হোসেন লাশটি তার সন্তান আবদুল্লাহ আল নূরের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ ওই দিনই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে (৩৮) আটক করে।

এ ঘটনার পরের দিন ২৮ জুন শনিবার বিকেলে আবুল হোসেনের বাড়ির অদূরে হারান মোড় ব্রিজের পাশ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির খণ্ডিত মাথা। এরপর ভাড়াটিয়া সোহেলের ঘর ও ঘরের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বেশকিছু আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান অভিযুক্ত করে সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রীসহ ৬ জনকে বিবাদী করে চাটমোহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটমোহর থানার তৎকালীন এসআই মো. মঈনুদ্দিন তদন্ত শেষে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটি পাবনা নারী ও শিশু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বেশকিছু দিন পরিচালনার পর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে ঘটনার প্রায় চার বছর পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পাবনায় শিশু হত্যায় সোহেলের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পাবনার চাটমোহরে শিশু আবদুল্লাহ আল নূর (৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তার অপর সহযোগী শিশু নূরের ফুফা আবদুস সামাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টায় রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের হারান মোড় মহল্লার ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের শিশুসন্তান (জন্ম সূত্রে গ্রিসের নাগরিক) আবদুল্লাহ আল নূর। দীর্ঘদিন গ্রিসে বসবাসের পর তারা দেশে ফিরে আসে।

২০১৪ সালের ২৫ জুন বাড়ির সামনে খেলার সময় নিখোঁজ হয় নূর। নিখোঁজের দুদিন পর মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশের জলমগ্ন আবাদি জমি থেকে মাথা, দুটি হাত ও নাড়ি-ভুঁড়িবিহীন এবং পায়ের কুঁচকির পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর জখমে ক্ষতবিক্ষত পচা দুর্গন্ধযুক্ত বিকৃত একটি শিশুর মরদেহ পলিথিন ব্যাগে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

আবুল হোসেন লাশটি তার সন্তান আবদুল্লাহ আল নূরের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ ওই দিনই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আবুল হোসেনের বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে (৩৮) আটক করে।

এ ঘটনার পরের দিন ২৮ জুন শনিবার বিকেলে আবুল হোসেনের বাড়ির অদূরে হারান মোড় ব্রিজের পাশ থেকে উদ্ধার হয় শিশুটির খণ্ডিত মাথা। এরপর ভাড়াটিয়া সোহেলের ঘর ও ঘরের আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বেশকিছু আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবুল হোসেন বাদী হয়ে বাড়ির ভাড়াটিয়া সোহেল বিশ্বাসকে প্রধান অভিযুক্ত করে সোহেল বিশ্বাসের স্ত্রীসহ ৬ জনকে বিবাদী করে চাটমোহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটমোহর থানার তৎকালীন এসআই মো. মঈনুদ্দিন তদন্ত শেষে একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটি পাবনা নারী ও শিশু বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বেশকিছু দিন পরিচালনার পর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে ঘটনার প্রায় চার বছর পর বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।