ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টিও মারা গেছেন মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার রুমমেট যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রামে বাবার সামনেই ছুরিকাঘাতে যুবককে খুন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবার সামনে ছেলে মো. অনিককে (২৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত সোয়া ১০টায় বাড়ির কাছে কোতোয়ালি থানার চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দামপাড়া ২ নম্বর পল্টন রোডের মোহাম্মদ নাছিরের ছেলে। তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে নিহত অনিকের বাবা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

অনিকের বাবার দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন- মহিউদ্দীন তুষার, মিন্টু, ইমরান শাওন, ইমন, শোভন, রকি, অপরাজিত, অভি, বাচা, এখলাস, দুর্জয় এবং অজয়। আসামিরা পল্টন রোড, ব্যাটারি গলি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে অনিক হত্যার জেরে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা সোমবার দুপুরে চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় বিক্ষোভ করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকালে অনিকের ছোট ভাই রনিক মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাটারি গলিতে ঢোকার সময় জোরে হর্ন দেন। এ নিয়ে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে রনিকের বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারি হয়। পরে পুলিশ গেলে উভয়পক্ষ সরে যায়।

এ ঘটনার জের ধরে ওই এলাকার তুষার, ঈমনসহ ১০-১২ জন জোটবদ্ধ হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টেশ্বরী মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় অনিক ও তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ওই এলাকায় যান। উভয়পক্ষে কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় অনিকের বাবা নাসিরও সেখানে উপস্থিত হন।

তুষার ও ইমন ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তুষার ও ইমনসহ অন্যরা অনিককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় অনিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনিকের মৃত্যু হয়েছে। অনিকের হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার সকালে চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনিকের বন্ধুবান্ধব ও সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে।

পরে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। তারা অনিক হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মিছিলও করে। এ সময় চট্টেশ্বরী সড়কে ২০ মিনিটের মতো যান চলাচল বন্ধ থাকে।

নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘তুষার, ঈমনরা মারামারির মধ্যে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে লোকজন সরে গেলে তারা অনিককে ছুরি মারে। তিনি বলেন, তুষার নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করেন। তবে সংগঠনে তার কোনো পদ নেই।

চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আকাশকে বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

শিশুদের জন্য বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়ার ওষুধ অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

চট্টগ্রামে বাবার সামনেই ছুরিকাঘাতে যুবককে খুন

আপডেট সময় ০৯:৩১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবার সামনে ছেলে মো. অনিককে (২৬) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত সোয়া ১০টায় বাড়ির কাছে কোতোয়ালি থানার চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অনিক দামপাড়া ২ নম্বর পল্টন রোডের মোহাম্মদ নাছিরের ছেলে। তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে নিহত অনিকের বাবা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

অনিকের বাবার দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন- মহিউদ্দীন তুষার, মিন্টু, ইমরান শাওন, ইমন, শোভন, রকি, অপরাজিত, অভি, বাচা, এখলাস, দুর্জয় এবং অজয়। আসামিরা পল্টন রোড, ব্যাটারি গলি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে অনিক হত্যার জেরে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়রা সোমবার দুপুরে চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় বিক্ষোভ করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকালে অনিকের ছোট ভাই রনিক মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যাটারি গলিতে ঢোকার সময় জোরে হর্ন দেন। এ নিয়ে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে রনিকের বাগ্বিতণ্ডা ও মারামারি হয়। পরে পুলিশ গেলে উভয়পক্ষ সরে যায়।

এ ঘটনার জের ধরে ওই এলাকার তুষার, ঈমনসহ ১০-১২ জন জোটবদ্ধ হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টেশ্বরী মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় অনিক ও তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ওই এলাকায় যান। উভয়পক্ষে কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় অনিকের বাবা নাসিরও সেখানে উপস্থিত হন।

তুষার ও ইমন ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তুষার ও ইমনসহ অন্যরা অনিককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় অনিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অনিকের মৃত্যু হয়েছে। অনিকের হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার সকালে চট্টেশ্বরী মোড় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনিকের বন্ধুবান্ধব ও সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে।

পরে পুলিশ গিয়ে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। তারা অনিক হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মিছিলও করে। এ সময় চট্টেশ্বরী সড়কে ২০ মিনিটের মতো যান চলাচল বন্ধ থাকে।

নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘তুষার, ঈমনরা মারামারির মধ্যে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এতে লোকজন সরে গেলে তারা অনিককে ছুরি মারে। তিনি বলেন, তুষার নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করেন। তবে সংগঠনে তার কোনো পদ নেই।

চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ দৈনিক আকাশকে বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপর পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।