অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে উৎসব মুখর পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার চাঁদপুরের মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, শাহারাস্তী উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের হাজার মানুষ ঈদ উদযাপন করেন।
১৯২৮ সাল থেকে দেশে এই রীতির প্রচলন করেন হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর হযরত মাওলানা ইসহাক (রহ.)। এসব মুসল্লিরা ইসলামের চার মাজহাবের মধ্যে হানাফি মাজহাবের অনুসারী।
জেলার যেসব গ্রামে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, বলাখাল, শ্রীপুর, মনিহার, বরকুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ, মেনাপুর, ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, সুরঙ্গচাইল বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, গোবিন্দপুর, লক্ষ্মীপুর, মূলপাড়া,বদরপুর, কড়ৈতলী, নয়ারহাট, মতলবের মোহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও, পাচাঁনী, বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।
এছাড়াও চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের পাশে সিনিয়র মাদ্রাসা, বলাখাল, ওলিপুর, ফরিদগঞ্জের টোরা মুন্সিরহাট, উভারামপুর এবং বদরপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
সমেসপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। মরহুম পীর হযরত মাওলানা ইসহাকের (রহ.) ছেলে মাওলানা পীর সাহেব মো. জাকারিয়া চৌধুরী এতে ইমামমতি করেন।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন পীরজাদা মো. আরিফ রহমান। মধ্য বাসারা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়, এখানে ইমামতি করেন, মাও. মোঃ মহিউদ্দিন।
সুরঙ্গচাইল ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আবু ইউছুফ। বদরপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আবুল খায়ের।
আইটপাড়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান, ঐতিহ্যবাহী টোরা ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়, এখানে ইমামতি করেন মাওলানা মো. আবু হানিফ।
এর আগে হাজীগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর কাসেমিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার গভর্নিং বড়ির সহসভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া ও পাশ্ববর্তী সমেশপুর গ্রামের বাসিন্দা তানজিমুল ইসলাম মামুন জানান, রাত ১০টার পরে সমেশপুর মসজিদ থেকে ঈদুল ফিতর উদযাপন এবং জামাতের সময়সূচি মাইকে ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯২৮ সালে হাজীগঞ্জ রামচন্দ্রপুর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক খান আরব দেশগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসী অসহযোগিতা করলে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। দেশের সরকারি নিয়মের বাইরে একদিন আগে ঈদ পালনের উদ্যোগ গ্রহণের কারণে সে সময় মাওলানা খানকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান মাওলানা খান ওই বছরই চলে যান নিজ গ্রাম সাদ্রায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রীতিনীতি অনুযায়ী ধর্ম পালনের জন্য প্রথমে তিনি নিজ গ্রামে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। গ্রামের অসহায়, দুঃস্থ মুসলমানদের প্রচুর আর্থিক সাহায্য দিয়ে আরব দেশগুলো সঙ্গে সংগতি রেখে একদিন আগে ঈদসহ সবরকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রথা চালু করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















