ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নোয়াখালীতে থানায় হাজতে সিএনজিচালককে পিটিয়ে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানা হাজতে এক সিএনজিচালকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, বাবাকে মারধরের অভিযোগে আটক ওই যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তবে নিহতের বাবার অভিযাগ, তার ছেলেকে থানা হাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম তাজুল ইসলাম তুষার (২৩)। তিনি দেউটি ইউনিয়নের দুর্গা দৌলতপুর গ্রামের মমিনুল্লাহর ছেলে।

মমিনুল্লাহ দৈনিক আকাশকে জানান, তার ছেলে পেশায় সিএনজিচালক। পারিবারিক কোন্দল নিয়ে তার ছেলে প্রায়ই তাকে মারধর করতো। শুক্রবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে ছেলে তাকে মারতে আসে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়েরের মাধ্যমে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, রাতে সোনাইমুড়ি থানার এসআই হারুনসহ আরও দুই পুলিশ সদস্য এসে তার ছেলেকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় এসআই হারুন বলতে থাকেন-‘চল, যা করব, থানায় নিয়ে করব’। জানা গেছে, থানা হাজতে তুষারের সঙ্গে আরও দুই আসামি ছিলেন। তারা হলেন- বদরগাঁও গ্রামের আজিজুল্লাহর ছেলে মাসুদ আলম (২৮) এবং বাড়াইনগরের সাহাবুদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৮)।

মমিনুল্লাহর প্রশ্ন, থানা হাজতে তাদের সামনে কীভাবে তার ছেলে আত্মহত্যা করল। মমিনুল্লাহর অভিযোগ, থানায় নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়ার পর তার লাশ হাজতখানার দরজার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশের দাবি, তুষার তার নিজের পরনের লুঙ্গিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, স্থানীয় মেম্বর আবুল খায়ের আমাকে ফোন করে জানান, এক ছেলে তার বাবাকে মারধর করছে। পরে এসআইকে হারুনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে এসআই হারুন দৈনিক আকাশকে বলেন, ওসি স্যার আমাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বললে রাতে আমি গিয়ে তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসি।

বাবাকে মারধরের অভিযোগে আটক করা হলেও তুষারের কাছে ৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এসআই হারুন।

এদিকে মৃত্যুর সময় নিয়ে পুলিশের দুই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। ওসি বলছেন, ভোর ৬টায় তুষারের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে ডিউটি অফিসার বলছেন, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে সে মারা গেছে। আবার এসআই হারুন বলছেন, তুষার রাত ৪টায় মারা গেছে।

অপরদিকে তুষারকে রাত ৩টায় থানায় আনার কথা এসআই হারুন জানালেও ইউপি মেম্বর আবুল খায়ের বলছেন, তাকে রাত ২টায় থানায় নেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নোয়াখালীতে থানায় হাজতে সিএনজিচালককে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানা হাজতে এক সিএনজিচালকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, বাবাকে মারধরের অভিযোগে আটক ওই যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। তবে নিহতের বাবার অভিযাগ, তার ছেলেকে থানা হাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম তাজুল ইসলাম তুষার (২৩)। তিনি দেউটি ইউনিয়নের দুর্গা দৌলতপুর গ্রামের মমিনুল্লাহর ছেলে।

মমিনুল্লাহ দৈনিক আকাশকে জানান, তার ছেলে পেশায় সিএনজিচালক। পারিবারিক কোন্দল নিয়ে তার ছেলে প্রায়ই তাকে মারধর করতো। শুক্রবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে ছেলে তাকে মারতে আসে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল খায়েরের মাধ্যমে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, রাতে সোনাইমুড়ি থানার এসআই হারুনসহ আরও দুই পুলিশ সদস্য এসে তার ছেলেকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় এসআই হারুন বলতে থাকেন-‘চল, যা করব, থানায় নিয়ে করব’। জানা গেছে, থানা হাজতে তুষারের সঙ্গে আরও দুই আসামি ছিলেন। তারা হলেন- বদরগাঁও গ্রামের আজিজুল্লাহর ছেলে মাসুদ আলম (২৮) এবং বাড়াইনগরের সাহাবুদ্দিনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৮)।

মমিনুল্লাহর প্রশ্ন, থানা হাজতে তাদের সামনে কীভাবে তার ছেলে আত্মহত্যা করল। মমিনুল্লাহর অভিযোগ, থানায় নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়ার পর তার লাশ হাজতখানার দরজার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে পুলিশের দাবি, তুষার তার নিজের পরনের লুঙ্গিতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি নাসির উদ্দিন দৈনিক আকাশকে বলেন, স্থানীয় মেম্বর আবুল খায়ের আমাকে ফোন করে জানান, এক ছেলে তার বাবাকে মারধর করছে। পরে এসআইকে হারুনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে এসআই হারুন দৈনিক আকাশকে বলেন, ওসি স্যার আমাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে যেতে বললে রাতে আমি গিয়ে তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসি।

বাবাকে মারধরের অভিযোগে আটক করা হলেও তুষারের কাছে ৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এসআই হারুন।

এদিকে মৃত্যুর সময় নিয়ে পুলিশের দুই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। ওসি বলছেন, ভোর ৬টায় তুষারের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে ডিউটি অফিসার বলছেন, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে সে মারা গেছে। আবার এসআই হারুন বলছেন, তুষার রাত ৪টায় মারা গেছে।

অপরদিকে তুষারকে রাত ৩টায় থানায় আনার কথা এসআই হারুন জানালেও ইউপি মেম্বর আবুল খায়ের বলছেন, তাকে রাত ২টায় থানায় নেয়া হয়েছে।