অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ফতুল্লার আলীগঞ্জে মোকারম সর্দারকে আটক করেছে বিআইব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুড়িগঙ্গা নদী দখল করে ভবন নির্মাণ ও ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
এসময় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয় এবং তার দু’তলা বিল্ডিং গদিঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিআইডবি্লউটিএর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শামীম বানু শানি্তর নেতৃত্বে আলীগঞ্জে অভিযান চলে। এছাড়াও বিকেল পর্যন্ত আরও একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়।
মোকারম তার বাবা নুরুল ইসলাম এবং দুইই ভাই আনোয়ার ও সুমনকে নিয়ে আলীগঞ্জ ঘাটে দিনমজুরের কাজ করতেন। কয়েক বছরে তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। মোকারম কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার উত্তর দামপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে এবং ফতল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশের চার খলিফার একজন।
কয়েক বছর আগেও মোকাররম ছিলেন প্রতিদিন ৮০ টাকা উপার্যনের ব্যক্তি। এরমধ্যে হঠাত্ শ্রমিক থেকে বনে যান সরদার। আর রাতারাতি পাল্টে যায় জীবন যাপনের চিত্র। হাকান অর্ধকোটি টাকা মূল্যের গাড়ি। গ্রামের বাড়িতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে। সেখানে তিনি পরিচিত ধনী হিসেবে।
হেলিকপ্টার কিংবা গাড়ি থেকে নামার পরেই তার পিছু নেয় ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ও শত শত মানুষ। রীতিমত উৎসব ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে। সহজ সরল মানুষগুলো উপস্থিত হন কিছু টাকার আশায়। তবে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তিনি চলাফেরা করেন একজন সাধারণ লেবার সরদার হিসেবে।
মোকাররমের উত্থানে আছে ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের সরাসরি আশীর্বাদ। মোকারম কত টাকার মালিক তিনি নিজেও জানেন না। টাকা গুণতে রেখেছেন একাধিক কর্মচারী। একের পর এক জমি ক্রয়ে ব্যবহূত হচ্ছে তঁার ভাইদের নাম।
কোটি টাকা লগ্নি খাটিয়ে নির্মাণ করেছেন একটি চলচ্চিত্রও। শ্রমিক লীগ নেতার আশীর্বাদে ফতুল্লায় থাকলেও তিনি কিশোরগঞ্জ নিকলী থানা বিএনপির কার্যকরী সদস্য। মোকাররমের হঠাত্ এ পরিবর্তন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত অনেকেই আশ্চর্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবারও বিআইডিবি্লউটিএর ভ্রাম্যমান আদালত আলীগঞ্জ ঘাটে গিয়ে মোকারমকে লেবার সরদার হিসেবেই আটক করে জরিমানা করেন।
বিআইডবি্লউটি এর ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক আরিফ উদ্দিন জানান, আলীগঞ্জে মোকাররমকে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও তার দোতলা বিল্ডিং গদি ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ফতল্লা লঞ্চঘাট সংলগ্ন বালুরঘাটে অবৈধ ১০টি স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জব্দকৃত বালু ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার অভিযানের তৃতীয় দিনে সকাল থেকে বিকেল অবধি ফতুল্লার আলীগঞ্জ থেকে লঞ্চঘাট পযন্ত উচ্ছেদ অভিযান চলে।
এসময় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবতর্ী জায়গায় বালু ফেলে ভরাটকৃত জায়গা ভেকুর মাধ্যমে অবমুক্ত করে নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ উচ্ছেদ অভিযানে ফতুল্লা থানা পুলিশ ও বিপুল সংখ্যক আনসার বাহিনীর সদস্য অংশ নেয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে সার্বিক নিরাপত্তায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে ছিলাম।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























