ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

শিক্ষকদের ঘাড় ধরে বের করে দিলেন ভিসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের শিক্ষকরা প্রমোশনের দাবিতে ভিসির রুমের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

সোমরার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রশাসনিক ভবনে ভিসির দফতরে শিক্ষকরা প্রমোশনের বিষয়ে দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলেই ঘাড় ধরে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের। এদিকে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করেন প্রক্টর।

নীল দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমির শরীফ, মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক নূর নবী ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেনের পদোন্নতির সময় পাড় হলেও ভাইভা বোর্ডের কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে না। এই বিষয়ে ভিসির সঙ্গে কথা বলতে যান তারা।

কিন্তু তারা নীল দলের শিক্ষক, তাই তাদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলেই দরজা খুলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন ভিসি। আগামী ৩০ মের মধ্যে যদি চার শিক্ষকের পদোন্নতি বোর্ডের কার্ড ইস্যু করা না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে নামবে বলে হুশিয়ারি দেন ওই দুই শিক্ষক।

নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, আমরা নীল দল করি তাই আমাদের দোষ। ভিসিও একজন শিক্ষক, তিনি শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারেন এটা কল্পনা করিনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে মুখ দেখাতে লজ্জাবোধ হচ্ছে আমার।

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের বলেন, বঙ্গবন্ধুর চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের শিক্ষকরা। আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে নীল দল করি বলে ভিসি আমাদের নানান সময়ে হয়রানি করে পদোন্নতি আটকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজ আমাদের যেভাবে অপমান করেছে সেটা পুরো শিক্ষক সমাজকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার শামিল। তিনি আরও জানান, নীল দলের শিক্ষকদের দল থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে জোরপূর্বক তা নাহলে পদন্নোতি, শিক্ষাছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে ভিসি।

জানা গেছে, সম্প্রতি গণিত বিভাগের প্রভাষক ইসমাইল হোসেনকে জোরপূর্বক নীল দল থেকে পদত্যাগ করান ভিসি। তা নাহলে তার পদন্নোতি দেয়া হবে না তাই এই মর্মে ইসমাইল হোসেন নীল দল থেকে পদত্যাগ করে। তার পদন্নোতির ভাইভা কার্ড ইস্যু হয়। এদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহার নিমা নীল দলের শিক্ষক বিধায় তার শিক্ষাছুটি বাতিল করেছে ভিসি। পরে ভিসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।

এই বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুউল্লাহর সঙ্গে চেম্বারে দেখা করতে গেলে সাংবাদিকদের রুম থেকে বের করে দেন ভিসির পিএস আমিনুর রহমান, পিএ আবুল কালাম আজাদ, প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. একেএম ফরিদুল ইসলাম। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান এবং কথা বলতে পারবেন না বলে পাশ কাটিয়ে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে চলে যান ভিসি।

এদিকে ভিসির চেম্বারের সামনে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রক্টর সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে দফতরের কলাপসিবল গেট দিয়ে বের করে দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

শিক্ষকদের ঘাড় ধরে বের করে দিলেন ভিসি

আপডেট সময় ০৯:২৯:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের শিক্ষকরা প্রমোশনের দাবিতে ভিসির রুমের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

সোমরার বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রশাসনিক ভবনে ভিসির দফতরে শিক্ষকরা প্রমোশনের বিষয়ে দেখা করতে গেলে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলেই ঘাড় ধরে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের। এদিকে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের লাঞ্ছিত করেন প্রক্টর।

নীল দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমির শরীফ, মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক নূর নবী ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আনোয়ার হোসেনের পদোন্নতির সময় পাড় হলেও ভাইভা বোর্ডের কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে না। এই বিষয়ে ভিসির সঙ্গে কথা বলতে যান তারা।

কিন্তু তারা নীল দলের শিক্ষক, তাই তাদের সঙ্গে কথাবার্তা না বলেই দরজা খুলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন ভিসি। আগামী ৩০ মের মধ্যে যদি চার শিক্ষকের পদোন্নতি বোর্ডের কার্ড ইস্যু করা না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনে নামবে বলে হুশিয়ারি দেন ওই দুই শিক্ষক।

নীল দলের সভাপতি ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, আমরা নীল দল করি তাই আমাদের দোষ। ভিসিও একজন শিক্ষক, তিনি শিক্ষক হয়ে আরেকজন শিক্ষককে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারেন এটা কল্পনা করিনি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামনে মুখ দেখাতে লজ্জাবোধ হচ্ছে আমার।

নীল দলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের ইবনে তাহের বলেন, বঙ্গবন্ধুর চেতনায় বিশ্বাসী নীল দলের শিক্ষকরা। আমরা সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়ে নীল দল করি বলে ভিসি আমাদের নানান সময়ে হয়রানি করে পদোন্নতি আটকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজ আমাদের যেভাবে অপমান করেছে সেটা পুরো শিক্ষক সমাজকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার শামিল। তিনি আরও জানান, নীল দলের শিক্ষকদের দল থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে জোরপূর্বক তা নাহলে পদন্নোতি, শিক্ষাছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে ভিসি।

জানা গেছে, সম্প্রতি গণিত বিভাগের প্রভাষক ইসমাইল হোসেনকে জোরপূর্বক নীল দল থেকে পদত্যাগ করান ভিসি। তা নাহলে তার পদন্নোতি দেয়া হবে না তাই এই মর্মে ইসমাইল হোসেন নীল দল থেকে পদত্যাগ করে। তার পদন্নোতির ভাইভা কার্ড ইস্যু হয়। এদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহার নিমা নীল দলের শিক্ষক বিধায় তার শিক্ষাছুটি বাতিল করেছে ভিসি। পরে ভিসিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।

এই বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুউল্লাহর সঙ্গে চেম্বারে দেখা করতে গেলে সাংবাদিকদের রুম থেকে বের করে দেন ভিসির পিএস আমিনুর রহমান, পিএ আবুল কালাম আজাদ, প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. একেএম ফরিদুল ইসলাম। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান এবং কথা বলতে পারবেন না বলে পাশ কাটিয়ে সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে চলে যান ভিসি।

এদিকে ভিসির চেম্বারের সামনে প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রক্টর সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে দফতরের কলাপসিবল গেট দিয়ে বের করে দেন।