ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পুলিশি নির্যাতনে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ল যুবক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চুরির ঘটনায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে রাসেল মিয়া নামে এক নৈশপ্রহরী থানা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাত নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ভবনে এই ঘটনা ঘটে। পরে রাসেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত রাসেল মিয়া (১৯) পৌর শহরের মধ্যপাড়া এলাকার আলকাছ মিয়ার ছেলে। তিনি শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার নৈশপ্রহরী।

জানা গেছে, সোমবার ভোর রাতে সিটি সেন্টারের ‘স্বপ্নলোক ফ্যাশন হাউজে’ চুরির ঘটনা ঘটে। ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে কর্তৃপক্ষ।

দুপুরে এএসপি (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন ও এএসপি (সদর সার্কেল) রেজাউল কবিরসহ সদর মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সিটি সেন্টারের নৈশপ্রহরী এবং ওই ফ্যাশন হাউজের কর্মচারীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। পরে বিকালে সিটি সেন্টারস্থ শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নৈশপ্রহরী রাসেলকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও এ চুরির ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত সদর মডেল থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান এএসপি (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

আহত রাসেলের মামা খবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিকালে রাসেলকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসপি জেলার বাহিরে থাকায় দায়িত্বে থাকা এএসপি মো. ইকবাল হোসাইন এর নির্দেশে এই ঘটনায় রাসেল মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে নির্যাতনের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

আরেকটি সূত্র নিশ্চিত জানায়, এএসপি মো. ইকবাল হোসেনের নির্দেশে পুলিশের সদর থানার টর্চার সেলে ইলেকট্রিক শক দিয়ে রাসেল মিয়াকে নির্যাতন করা হয়।

তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি ইকবাল হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসবাদের জন্য রাসেলসহ আরও কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইফতারের সময় থানা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা রাসেল কর্তব্যরত কনস্টেবলের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদে উঠে পড়ে। এরপর সে সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে যায়।

তবে এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পুলিশি নির্যাতনে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ল যুবক

আপডেট সময় ১১:০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চুরির ঘটনায় পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে রাসেল মিয়া নামে এক নৈশপ্রহরী থানা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাত নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ভবনে এই ঘটনা ঘটে। পরে রাসেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত রাসেল মিয়া (১৯) পৌর শহরের মধ্যপাড়া এলাকার আলকাছ মিয়ার ছেলে। তিনি শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার নৈশপ্রহরী।

জানা গেছে, সোমবার ভোর রাতে সিটি সেন্টারের ‘স্বপ্নলোক ফ্যাশন হাউজে’ চুরির ঘটনা ঘটে। ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে কর্তৃপক্ষ।

দুপুরে এএসপি (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন ও এএসপি (সদর সার্কেল) রেজাউল কবিরসহ সদর মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে সিটি সেন্টারের নৈশপ্রহরী এবং ওই ফ্যাশন হাউজের কর্মচারীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। পরে বিকালে সিটি সেন্টারস্থ শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের নৈশপ্রহরী রাসেলকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও এ চুরির ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত সদর মডেল থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান এএসপি (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

আহত রাসেলের মামা খবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিকালে রাসেলকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসপি জেলার বাহিরে থাকায় দায়িত্বে থাকা এএসপি মো. ইকবাল হোসাইন এর নির্দেশে এই ঘটনায় রাসেল মিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে নির্যাতনের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

আরেকটি সূত্র নিশ্চিত জানায়, এএসপি মো. ইকবাল হোসেনের নির্দেশে পুলিশের সদর থানার টর্চার সেলে ইলেকট্রিক শক দিয়ে রাসেল মিয়াকে নির্যাতন করা হয়।

তবে স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করে এএসপি ইকবাল হোসেন বলেন, চুরির ঘটনায় জিজ্ঞাসবাদের জন্য রাসেলসহ আরও কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইফতারের সময় থানা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা রাসেল কর্তব্যরত কনস্টেবলের চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদে উঠে পড়ে। এরপর সে সেখান থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে যায়।

তবে এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।