অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
বহু প্রতীক্ষার পর শুরু হতে চলেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ক্রিকেট সিরিজ। ১৮ আগস্ট ঢাকায় আসছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচ সিরিজের ময়দানি লড়াইয়ের প্রথমটি (প্রথম টেস্ট) মাঠে গড়াবে আগামী ২৭ আগস্ট ঢাকায়। আর চট্টগ্রামে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সিরিজ শুরু আগেই রণকৌশল আঁটছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ অবশ্যই বিপজ্জনক দল। সফরে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে- এমন উপলব্ধি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের।
অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, সহঅধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার, পেসার জস হ্যাজেলহড, প্যাট কামিন্স ও স্পিনার ন্যাথান লায়ন এক সময় টাইগার কোচ হাথুরুসিংহের ছাত্র। এরাই আসছে সিরিজে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া দলের মূল কাণ্ডারি। কতটুকু সুবিধা পাবে বাংলাদেশ নিজের মাটিতে? এই প্রশ্নের উত্তরে হাথুরু বলেছেন, এটা বলা শক্ত। তবে টাইগারদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ানদের অ্যাপ্রোচ কেমন হবে তা আলাপ করা যায়। ওদের মনোভাব পড়ে ফেলতে পারলে মনস্তাত্তিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে কেন বাড়তি উত্তেজনা ছড়াচ্ছে জেনে নিন, দীর্ঘ ১১ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়াঃ
রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে ২০০৬ সালে সর্বশেষ বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। সেবার ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই ম্যাচের সেই সিরিজটি সফরকারীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে জ্যাসন গিলেস্পির ডাবল সেঞ্চুরির কারণে।
সেবার, নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন সাবেক এই অজি পেসার। তারপর ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসার সূচি ঠিক হলেও নিরাপত্তার অযুহাতে সেই সিরিজটি বাতিল করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। অবশেষে দুই টেস্টের বহুল প্রতিক্ষিত ২ টেস্টের সিরিজ খেলতে আগামী ১৮ আগস্ট বাংলাদেশে পা রাখবে স্মিথ বাহিনী।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশঃ
টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও ৯ নম্বরে হলেও। ঘরের মাটিতে টেস্টেও নিজেদের শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশ দল শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে। শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তাদের মাটিতেই তাদেরকে হারিয়ে এসেছে।
তাই বলাই বাহুল্য অস্ট্রেলিয়াও এক কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে যাচ্ছে। গত বছর ইংল্যান্ডের মতো দলকেও তো কোনও রকমে টেস্ট সিরিজ ড্র করে ফিরতে হয়েছিল। ফলে অস্ট্রেলিয়া সিরিজও সমান উত্তেজনা ছড়াবে বলে বিশ্বাস ক্রিকেট প্রেমীদের।
অ্যাশেজের আগে অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষাঃ
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার এই সিরিজটি সবচেয়ে বড় মর্যাদার লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার কাছেও অ্যাশেজ হলো শেষ কথা। চলতি বছরের নভেম্বরে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচের সিরিজের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াইটা হলো স্মিথদের প্রস্তুতির শেষ সুযোগ। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটিও অজিদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাশেজের মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে না তাদের দুই মূল বোলার মিচেল স্টার্ক ও জেমস প্যাটিনসনকে। তাদের অনুপস্থিতিতে প্যাট কামিন্স ও জ্যাকসন বার্ড সুযোগ পাচ্ছেন নিজেদের প্রমাণ করার। অ্যাশেজে স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডের সঙ্গে তৃতীয় পেসার হিসেবে কে দলে থাকছেন, সেটা ঠিক হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ সিরিজ দিয়েই। তাছাড়া, এই সিরিজটিই অ্যাশেজের দল নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস সবার।
র্যাঙ্কিং ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান তিন নম্বরে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর আর কোনও ম্যাচ না খেলায় র্যাঙ্কিংয়ে তাদের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে বদলে যেতে পারে তাদের র্যাংকিংয়ের চিত্র। এমনকি এক ধাক্কায় সাত নম্বরে নেমে যাওয়ারও সঙ্কা আছে তাদের।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলেই র্যাঙ্কিংয়ে ব্যাপক অবনতি হবে তাদের। এমনকি সিরিজ ড্র হলেও অস্ট্রেলিয়া নেমে যাবে পাঁচে। বাংলাদেশের সাথে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও চতুর্থ স্থানে নেমে যেতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে, যদি উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের সাথে সিরিজ ছাপিয়ে একটি র্যাঙ্কিং পরীক্ষাও দিতে হবে অজিদের।
উপমহাদেশে অস্ট্রেলিয়ার বাজে রেকর্ডঃ
চলতি বছরের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। হারলেও অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্স কুড়িয়েছিল প্রশংসা। যদিও এশিয়ার মাটিতে তাদের এই হার তাদের জন্য যথেষ্ট হতাশার। উপমহাদেশের কন্ডিশনে সর্বশেষ চার সিরিজের সবক’টিতে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া।
পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায় ১৩ টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই তারা হেরেছে, আর জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। এশিয়ার মাটিতে তারা সবশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ২০১১ সালে, যেটা আবার ছিল অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের প্রথম টেস্ট। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি নিয়ে বেশ আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া কারণ টাইগারদের বিপক্ষে খেলা একমাত্র টেস্ট সিরিজটি তারা জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে।
মোস্তাফিজ বনাম ওয়ার্নার লড়াইঃ
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও অজি ওপেনার ওয়ার্নারকে একসাথে দেখা গেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে। এবারই প্রথমবারের মতো দুজনকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ আসছে।
অভিষেকের পর থেকেই বল হাতে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের বোলিং বৈচিত্র্যে মুগ্ধতার কথা সুযোগ পেলেই জানিয়েছেন ওয়ার্নারও। এই দুজনের মুখোমুখি হওয়া তাই বাড়তি উত্তেজনা যোগাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























