অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হাইকোর্টের তিন মাসের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার এবং আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমের আবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নিলো নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটিও।
সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের রিট আবেদনের পর গাজীপুর সিটি নির্বাচনে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আসার দুই দিন পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার সকালে আগারগাঁওয়ে কমিশন ভবনে এক মতবিনিময়ে এ কথা জানান কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ‘গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংবাদ ও ফলাফল সংগ্রহ ও প্রচার বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত’ এই সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
আপিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘ইতিমধ্যে একজন আইন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছি যার নেতৃত্বে আবেদন করা হবে। আর কৌশল গ্রহণের জন্য বিকালে বৈঠক হবে।’
আগামী ১৫ মে ভোট ধরে গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে ভোটের তফসিল ঘোষণা হয় গত ৩১ মার্চ। এরপর ১০ এপ্রিল সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুরুজ উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। সেদিন তার আইনজীবী ছিলেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ। কিন্তু সেই আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।
এরপর ভোটের প্রচার চলাকালে গত ৬ মে সুরুজ আবার আবেদন করেন। এবার তিনি আইনজীবী হিসেবে বেছে নেন আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমানকে।
সুরুজ দৈনিক আকাশের কাছে দাবি করেন, তিনি তার ইউনিয়নের ছয় মৌজায় ভোট স্থগিত চেয়েছিলেন। গাজীপুরে ভোট স্থগিত চাননি। কিন্তু আদালত গোটা নির্বাচনী এলাকাতেই ভোট স্থগিত করেছে।
সুরুজের আপত্তির কারণ, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তার ইউনিয়নের ছয় মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হয়। তখন থেকেই তিনি আইনি লড়াইয়ে ছিলেন্। কিন্তু ২০১৬ সালে এই মৌজার ভোটাররাও তাকে ভোট নিয়ে নির্বাচিত করেছে।
তবে ৬ মে সুরুজের যে আবেদনে উচ্চ আদালত ভোটে স্থগিতাদেশ দিয়েছে, তাতে সংবিধানের ১২৫ (গ) অনুচ্ছেদের লংঘন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসঙ্গত সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হবে।
তবে এই রিটের বিষয়ে কমিশনকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। সোমবার তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, ভোট স্থগিতের বিষয়টি তারা গণমাধ্যম থেকে জানেন। শুনানিতে কমিশনের পক্ষে যিনি বক্তব্য রেখেছেন, তাকে কমিশন ওকালতনামা দেয়নি। কমিশনের একটি আইনজীবী প্যানেল রয়েছে। তার একজন এই শুনানিতে গিয়েছেলেন, কিন্তু কমিশন বিষয়টি জানত না।
আদালতের এই আদেশ আসার দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি কে এম নুরুল হুদা এবং কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ ছিলেন খুলনায়। ওই নগরে ভোটকে সামনে রেখে একটি বৈঠকে ছিলেন তারা।
ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা সিইসিসহ যখন খুলনায় ছিলাম তখন সংবাদের ব্রেকিং নিউজে জানতে পেরেছি বিষয়টা। এটা যে বন্ধ হয়েছে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বন্ধের পর আমরা অনেক সতর্ক ছিলাম। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আমাদেরকে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে (গাজীপুর বিষয়ে) সীমানা নিয়ে কোনো জটিলতা নাই, কোনো সমস্যা নাই। এরপর আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হয়েছি।’
আবার সুরুজের ৬ মের রিট আবেদনে ১০ এপ্রিল তার আবেদনটি খারিজ হয়ে যাওয়ার তথ্য গোপন করার অভিযোগও উঠেছে। সুরুজ দৈনিক আকাশের কাছে দাবি করেছেন তিনি তার আইনজীবীকে সবই জানিয়েছেন, কিন্তু আইনজীবী আদালতে কী বলেছেন, সেটা তিনি জানেন না।
সোমবারই উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করেছেন গাজীপুরে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবীও আপিলের সব কাগজপত্র তৈরি করেন একই দিন। আজ মঙ্গলবার তা জমা দেয়ার কথা। দুটো আবেদনেই সুরুজের তথ্য গোপন করে আপিল করা, সংবিধানের বিধান লংঘন এবং সুরুজ গাজীপুরের ভোটার না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আজ আবেদন দুটির শুনানি হওয়ার আশা করছেন আইনজীবীরা।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















