ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের সামনে সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা

নিহত রুবেল প্রামাণিক (বায়ে), স্বজনের আহাজারি (ডানে)

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। সে পুলিশের সোর্স ছিল। পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীদের খবর দেয়ায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার দাবি করছে।

এদিকে পুলিশ দাবি করছে নিহত যুবক চাঁদাবাজ। এলাকার লোকজন তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে। নিহত রুবেল প্রামাণিক (৩০) ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার সঞ্জীবন আলম সঞ্জুর ছেলে। সোমবার দুপুরে শহরের ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের মা ঝরনা বেগম দাবি করেছেন, তার ছেলে রুবেল পুলিশের সোর্স ছিল। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য পুলিশকে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া তার ঘরে লুটপাটও করা হয়েছে।

তবে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পরিদর্শক আম্বার হোসেন বলেছেন, রুবেল চাঁদাবাজ ও চাকুবাজ ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পরিদর্শক আম্বার হোসেন জানান, ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার সঞ্জীবন আলম সঞ্জুর ছেলে রুবেল চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে থানায় তিনটি চাঁদাবাজিসহ চারটি মামলা রয়েছে। চাঁদা না পেলেই সে চাকু মারত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের মা ঝরনা বেগম জানান, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য পুলিশকে দেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে সে কিছুদিন ধরে বাড়িতে থাকত না। রুবেল সোমবার দুপুরে বাড়িতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে এসেছিল।

এ সময় ১০-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও ঘর থেকে তিন ভরি সোনার গয়না এবং টাকা লুট করে। এরপর তারা রুবেলকে ধরে নিয়ে যায়। এলাকার আবুল হোসেনের দোকানের সামনে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

ঘটনাস্থলে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম থাকলেও তিনি রুবেলকে উদ্ধার করেননি। এ প্রসঙ্গে এসআই শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

রুবেলের বাবা সঞ্জু দাবি করেছেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি জাইদুল, ডন, রিপন, রক্সি, শামীম, রকি ও শাহীনুর এ হামলা চালিয়েছে। তার নিরপরাধ ছেলেকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। তিনি তার ছেলের হত্যার বিচার দাবি চান। তিনি এ ব্যাপারে সদর থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানান।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহত রুবেল সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী। স্থানীয় জনগণ তাকে পেয়ে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছার আগেই রুবেল মারা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের সামনে সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ০৮:৫১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ায় দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। সে পুলিশের সোর্স ছিল। পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীদের খবর দেয়ায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবার দাবি করছে।

এদিকে পুলিশ দাবি করছে নিহত যুবক চাঁদাবাজ। এলাকার লোকজন তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে। নিহত রুবেল প্রামাণিক (৩০) ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার সঞ্জীবন আলম সঞ্জুর ছেলে। সোমবার দুপুরে শহরের ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের মা ঝরনা বেগম দাবি করেছেন, তার ছেলে রুবেল পুলিশের সোর্স ছিল। এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য পুলিশকে দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া তার ঘরে লুটপাটও করা হয়েছে।

তবে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পরিদর্শক আম্বার হোসেন বলেছেন, রুবেল চাঁদাবাজ ও চাকুবাজ ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ফুলবাড়ি ফাঁড়ির পরিদর্শক আম্বার হোসেন জানান, ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ার সঞ্জীবন আলম সঞ্জুর ছেলে রুবেল চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে থানায় তিনটি চাঁদাবাজিসহ চারটি মামলা রয়েছে। চাঁদা না পেলেই সে চাকু মারত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শত শত এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নিহতের মা ঝরনা বেগম জানান, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য পুলিশকে দেয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে সে কিছুদিন ধরে বাড়িতে থাকত না। রুবেল সোমবার দুপুরে বাড়িতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে এসেছিল।

এ সময় ১০-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও ঘর থেকে তিন ভরি সোনার গয়না এবং টাকা লুট করে। এরপর তারা রুবেলকে ধরে নিয়ে যায়। এলাকার আবুল হোসেনের দোকানের সামনে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

ঘটনাস্থলে ফুলবাড়ি ফাঁড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম থাকলেও তিনি রুবেলকে উদ্ধার করেননি। এ প্রসঙ্গে এসআই শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন।

রুবেলের বাবা সঞ্জু দাবি করেছেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি জাইদুল, ডন, রিপন, রক্সি, শামীম, রকি ও শাহীনুর এ হামলা চালিয়েছে। তার নিরপরাধ ছেলেকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। তিনি তার ছেলের হত্যার বিচার দাবি চান। তিনি এ ব্যাপারে সদর থানায় হত্যা মামলা করবেন বলে জানান।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহত রুবেল সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী। স্থানীয় জনগণ তাকে পেয়ে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছার আগেই রুবেল মারা যায়।